মেট্রোরেল যেনো যানজটের শহরবাসীর কাছে স্বপ্নছোয়ার এক হাতছানি। মেট্রোরেল শুধু মাত্র যোগাযোগ মাধ্যম সহজ করবে তা নয় এটি আমাদের অর্থনীতিকেও সমৃদ্ধ করে তুলবে।

মেট্রোরেল কিঃ
ঢাকা শহরের যানজট কমিয়ে,পরিবেশের উন্নয়নে, নিরাপদ, দ্রুতগামী, নির্ভরযোগ্য,শীতাতপনিয়ন্ত্রিত, বিদ্যুৎ চালিত,পরিবেশ বান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা ই হলো মেট্রোরেল। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সময় সাশ্রয়ের জন্য এই ট্রেন তৈরি করা হয়। যেটা দৈনিক ৫ লাখ যাত্রী কে দ্রুত গতিতে গন্তব্যে পৌঁছে দিতে সক্ষম।
মেট্রোরেল নির্মানের উদ্দেশ্যঃ
মেট্রোরেল নির্মানের একমাত্র উদ্দেশ্য নগরবাসী কে যানজট বিহীন একটা সুন্দর যাত্রা উপহার দেওয়া।খুব কম সময়ে,নিরাপদে গন্তব্য পৌঁছে দেওয়ার জন্য ই মেট্রোরেল নির্মান করার পরিকল্পনা গ্রহন করা হয়েছিলো।অনেক সময় রাজধানীর মধ্যে অতিরিক্ত যানজট, অতিরিক্ত গরমে সবার জন্য যাতায়াত বেশ কষ্টকর হয়ে যায়। এই ভোগান্তি কমানোর উদ্দেশ্যই মেট্রোরেল নির্মান করা হয়।
মেট্রোরেলের অফিসিয়াল নামঃ
মেট্রোরেলের অফিসিয়াল নাম MRT (Mass Rapid Transit) line 6. ম্যাস র-্যাপিড ট্রান্সজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট লাইন সিক্স বা বাংলাদেশের প্রথম উড়াল মেট্রোরেল।
মেট্রোরেলের প্রাথমিক প্রস্তাবনাঃ
জাপানের জাইকার সাথে ২০১৩ সালে ঋণচুক্তি স্বাক্ষর করে বাংলাদেশ সরকার। এরপর যাচাই ও নকশা প্রণয়ন শেষে করে ২০১৬ সালের ২৬ জুন MRT লাইন-৬ এর নির্মাণের কাজ উদ্বোধন করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।সেই সময়ে মেট্রোরেল এর মোট ৬ টি রুট এর প্রস্তাব করা হয়। MRT Line - 1,2,3,4,5 (Northern & Southern) & 6.। এর মধ্যে লাইন ৬ এর কাজ শুরু হয় প্রথমে।
মেট্রোরেলের পরামর্শক প্রতিষ্ঠানঃ
দেশের প্রথম মেট্রোরেল নির্মাণ প্রকল্পে জাপান, ফ্রান্স, ভারত ও বাংলাদেশের আট প্রতিষ্ঠানকে পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলো ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড।পরবর্তী তে নয়া দিল্লী মেট্রোরেল কর্পোরেশন কে মেট্রোরেলের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান করা হয়।
মেট্রোরেলের জন্য প্রস্তাবিত বাজেট সমূহঃ
মেট্রোরেল প্রকল্পের প্রাথমিক ধারনায় মূল ব্যয় ধরা হয়েছিলো ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা। পরবর্তী তে প্রকল্প ব্যয় ১১ হাজার ৪৯৬ কোটি ৯২ লাখ টাকা বাড়িয়ে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৩ হাজার ৪৭১ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। সংশোধনী প্রকল্পে এই ব্যয় বৃদ্ধি পায় নতুন স্টেশন সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার কারনে।
মেট্রোরেল নির্মান প্রতিষ্ঠান সমূহঃ
থাইল্যান্ডের ইতালিয়ান-থাই ডেভেলপমেন্ট পাবলিক কোম্পানি লিমিটেড এবং চায়নার সিনোহাইড্রো করপোরেশন মেট্রোরেল নির্মান কাজ পরিচালনা করেন। এছাড়া জাপানের জাইকা কোম্পানি নির্মানে কাজে সহায়তা প্রদান করে।
মেট্রোরেলের অর্থায়ন সংস্থা সমূহঃ
জাপানের জাইকা কোম্পানি মেট্রোরেলে অর্থায়ন করে ১৯,৭১৮.৪৭ কোটি টাকা। যা পুরো বাজেটের অর্ধেকের বেশি অংশ। বাকি অর্থ প্রদান করে বাংলাদেশ সরকার। অর্থাৎ ৭৫% জাইকা এবং ২৫% বাংলাদেশ সরকার মেট্রোরেলে অর্থ প্রদান করে।
মেট্রোরেলের পরিচালনা প্রতিষ্ঠানসমূহঃ
বাংলাদেশ সরকার মেট্রোরেল তৈরি করার পাশাপাশি এর সঠিক পরিচালনার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহন করেন এবং বাংলাদেশ সরকার মেট্রোরেল পরিচালার দায়িত্ব দেন ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) এর হাতে।
মেট্রোরেল উদ্বোধন ও চালুঃ
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার ২৮ ডিসেম্বর, ২০২২ সালে সকাল ১১টা ৫ মিনিট সময়ে রাজধানীর উত্তরা ১৫ নং সেক্টরে সি-১ ব্লকের খেলার মাঠে ফলক উন্মোচন করে মেট্রোরেলের উদ্বোধন করেন। ২৯ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার থেকে মেট্রোরেল সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।
মেট্রোরেলের স্টেশন সংখ্যা ও নামঃ
মেট্রোরেলের প্রথম প্রকল্প অনুযায়ী স্টেশন সংখ্যা ছিলো ১৬ টি।পরবর্তী তে তা বাড়িয়ে ১৭ টি করা হয়।মেট্রোরেল এর স্টেশন গুলাঃ জাতীয় জাদুঘর, দোয়েল চত্বর, জাতীয় স্টেডিয়াম, বাংলাদেশ ব্যাংক, কাজীপাড়া, মিরপুর ১০, উত্তরা সেন্টার, তালতলা, আগারগাঁও, উত্তরা উত্তর, উত্তরা দক্ষিণ, বিজয় সরণি, ফার্মগেট, পল্লবী, সোনারগাঁও, আইএমটি, মতিঝিল।
মেট্রোরেলের পিলারঃ
মেট্রোরেলের এক পিলার হতে অন্য পিলার অবধি ১২টি ছোট ছোট স্প্যান স্লাইচ ব্যবহার করা হয়েছে। মেট্রোরেলের একটি পিলারের ব্যাস ২ মিটার এবং মাটির নিচের অংশের ভিত্তি করা হয়েছে ৩মিটার। অপরদিকে মাটি হতে পিলারের উচ্চতা ১৩ মিটার। একটি স্তম্ভ থেকে আরেকটি স্তম্ভের দূরত্ব ৩০ থেকে ৪০ মিটার। এক পিলার থেকে অন্য পিলারের উপর বসানো হয়েছে স্প্যান গুলা।
মেট্রোরেলের জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ প্রকল্পঃ
মেট্রোরেল গ্যাস বা তেল চালিত নয়। এটি বিদ্যুৎ চালিত হওয়ায় এর চলাচল এর জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ করার প্রয়োজন হবে। প্রতি ঘন্টায় মেট্রোরেল এর জন্য ১৩.৪৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ এর প্রয়োজন হবে। তাই মেট্রোরেলে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য ৫ টি উপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মান করা হয়। ৫টি উপকেন্দ্রসমূহ পল্লবী, উত্তরা, সোনারগাঁও, তালতলা ও বাংলা একাডেমি।
মেট্রোরেলের রুট এ্যালাইনমেন্টঃ
প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী উত্তরা টু মতিঝিল পর্যন্ত ২০.১০ কি.মি. নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিলো পরে তা সংশোধন করে মেট্রোরেলে এর রুট কমলাপুর পর্যন্ত ১.১৬ কি.মি.বাড়ানো হয়। MRT line 1 প্রকল্পের আওতায় নির্মিত বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর এবং নতুনবাজার হয়ে পূর্বাচল পর্যন্ত মোট ৩১.২৪ কি.মি. পথ মেট্রোরেল নির্মিত হবে।
মেট্রোরেলের ভাড়াঃ
মেট্রোরেলের সর্বনিম্ন ভাড়া ২০ টাকা এবং সর্ব্বোচ্চ ভাড়া ১০০ টাকা। এছাড়াও দিয়াবাড়ি টু উত্তরা সেন্টার ২০ টাকা, দিয়াবাড়ি টু পল্লবী ৩০ টাকা, দিয়াবাড়ি টু মিরপুর-১০ ৪০ টাকা, পল্লবী টু মিরপুর-১১ ২০ টাকা, পল্লবী টু শেওড়াপাড়া ৩০ টাকা, মিরপুর-১০ টু ফার্মগেট ৩০ টাকা, দিয়াবাড়ি টু শেওড়াপাড়া ৫০ টাকা, মিরপুর-১০ টু কারওয়ান বাজার ৪০ টাকা, মিরপুর-১০ টু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ৫০ টাকা, আগারগাঁও টু দিয়াবাড়ি ৬০ টাকা, মিরপুর-১০ টু কমলাপুর ৭০ টাকা, দিয়াবাড়ি টু কমলাপুর ১০০ টাকা। প্রতি কিলোমিটারে ৫ টা হিসাব ধরে ভাড়া নির্ধারন করা হয়েছে। তবে ট্রেনে উঠলেই ১ টি স্টেশন গেলেও তাকে ২০ টা ভাড়া পরিশোধ করতে হবে।
| স্টেশন | ভাড়া |
|---|---|
| দিয়াবাড়ি টু উত্তরা সেন্টার | ২০ টাকা |
| দিয়াবাড়ি টু পল্লবী | ৩০ টাকা |
| দিয়াবাড়ি টু মিরপুর-১০ | ৪০ টাকা |
| পল্লবী টু মিরপুর-১১ | ২০ টাকা |
| পল্লবী টু শেওড়াপাড়া | ৩০ টাকা |
| মিরপুর-১০ টু ফার্মগেট | ৩০ টাকা |
| দিয়াবাড়ি টু শেওড়াপাড়া | ৫০ টাকা |
| মিরপুর-১০ টু কারওয়ান বাজার | ৪০ টাকা |
| মিরপুর-১০ টু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় | ৫০ টাকা |
| আগারগাঁও টু দিয়াবাড়ি | ৬০ টাকা |
| মিরপুর-১০ টু কমলাপুর | ৭০ টাকা |
| দিয়াবাড়ি টু কমলাপুর | ১০০ টাকা |
মেট্রোরেলের প্রথম ও সংশোধিত প্রকল্পসমূহঃ
শুরতে মেট্রোরেল ১৬টি স্টেশন নিয়ে ১ম ধাপে কাজ করার পরিকল্পনা গ্রহন করে। যার বাজেট ছিলো প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা। পরবর্তী তে একটি স্টেশন বাড়ি ১৭ টি স্টেশন করার পরিকল্পনা গ্রহন করা হয়। আর অন্য দিকে ব্যয় বৃদ্ধির কারনে বাজেট বৃদ্ধি পেয়ে তা দাড়ায় ৩৩,৪৭১,৯৯ কোটি টাকা। বর্তমানে আরো নতুন প্রকল্পের কাজ চলছে।
মেট্রোরেলের সক্ষমতাঃ
মেট্রোরেল প্রতি ঘন্টায় ৬০ হাজার এবং দৈনিক ৫ লাখ যাত্রী বহন করতে সক্ষম। এছাড়া ট্রেনের মাঝের ৪ টি কোচে সর্ব্বোচ্চ ৩৯০ জন ট্রেইলার কোচে ৩৭৪ জন করে একসময়ে যাত্রা করতে পারবেন।অর্থ্যাৎ একবার যাত্রা করার সময় ২৩০৮ জন কে ধারন করতে পারবে। তবে ধারণা করা হয় পরিকল্পিত প্রকল্প বাস্তববায়ন হলে একদিনে ৪৭ লাখ যাত্রী বহনে সক্ষম হবে এই মেট্রোরেল।
মেট্রোরেলের পরীক্ষামূলক যাত্রাঃ
মিরপুর ১০ স্টেশন পর্যন্ত মেট্রোরেলের ১ম পরীক্ষামূলক চলাচল শুরু করে ২৯ নভেম্বর ২০২১সালে এবং আগারগাঁও স্টেশন পর্যন্ত মেট্রোরেলের পরীক্ষামূলক চলাচল শুরু হয় ১২ ডিসেম্বর ২০২১সালে। এবং পরীক্ষামূলক ভাবে শুরুতে মেট্রোরেল চালিয়ে দেখা হয়ে ২০২১ সালের ২১ মে তারিখে।
মেট্রোরেলের গতি ও যাতায়াত সময়ঃ
মেট্রোরেল ঘন্টায় ১০০ কিলোমিটার গতিতে চলাচল করতে পারবে। সকাল ৮ টা থেকে মেট্রোরেল দিনের যাত্রা শুরু করে। প্রাথমিক পর্যায়ে সকাল ৮ টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ট্রেন চলাচল করবে। পরবর্তী তে এই সময় বাড়ানো হবে এবং চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনে ট্রেনের সংখ্যাও বাড়ানো হবে। শুরুর দিকে ১০ মিনিট পরপর ট্রেন চলাচল করবে।সর্ব্বোচ্চ গতি সীমায় ট্রেন চলাচল শুরু হলে প্রতি সাড়ে তিন মিনিট অন্তর অন্তর একটি ট্রেন চলাচল করতে পারবে।প্রতি মঙ্গলবারে ট্রেনটির সাপ্তাহিক বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
মেট্রোরেলের দৈর্ঘ্যঃ
মেট্রোরেলের দৈর্ঘ্য ২১.২৬ কিলোমিটার। পূর্বে মেট্রোরেল এর ১ম ধাপে ২০.১০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ধরা হয় পরে তা সংশোধন করে ১ টি স্টেশন বাড়িয়ে ২১.২৬ কিলোমিটার করা হয়। ২য় ধাপে মেট্রোরেলের দৈর্ঘ্য ধরা হয় ৪.৪০ কিলোমিটার এবং ৩য় ধাপে এর দৈর্ঘ্য ধরা হয় ৪.৭ কিলোমিটার। মেট্রোরেল এর প্লাটফর্মের দৈর্ঘ্য ১৮০ মিটার। মেট্রোরেলের পরিকল্পিত দৈর্ঘ্য ১২৮.৭৪১ কিলোমিটার।
মেট্রোরেলের ট্রেন ও বগিঃ
মেট্রো টেন সংখ্যা ২৪ সেট। এবং বগি বা কোচ সংখ্যা প্রতি ট্রেনে ৬ টি। মেট্রোরেল এর জন্য ট্রেন গুলা জাপান থেকে আনা হয়েছে।
মেট্রোরেলের স্লোগানঃ
"বাঁচবে সময়,বাঁচবে তেল। জ্যাম কমাবে মেট্রোরেল।" এই স্লোগানে নগর বাসি যেনো নতুন স্বপ্ন দেখা শুরু করেছিলো মেট্রোরেল নিয়ে। মেট্রোরেল নিয়ে যে স্লোগান প্রচার করা হয়েছিলো তা হলো "বাঁচবে সময়,বাঁচবে পরিবেশ। যানজট কমাবে মেট্রোরেল।"
মেট্রোরেলের প্রথম চালক ও প্রথম যাত্রীঃ
মেট্রোরেলের প্রথম যাত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং প্রথম নারী চালক ছিলেন মরিয়ম আফিজা।
মেট্রোরেল প্রকল্পের সমাপ্তিকালঃ
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন ২০৫০ সালের মধ্যে উড়াল এবং পাতাল মেট্রোরেলের সম্পূর্ন প্রকল্পের কাজ বাস্তববায়ন করবেন। পরিকল্পিত ১০৪ টি স্টেশন এর মধ্যে ১৭ টি নির্মান কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৫১ টি উড়াল স্টেশন এবং ৫৩ টি পাতাল স্টেশন।
মেট্রোরেল নিয়ে কিছু তথ্যঃ
মেট্রোরেলে চলাচল করার জন্য যাত্রী কে আগে থেকে সাপ্তাহিক, মাসিক, পারিবারিক কার্ড সংগ্রহ করে নিতে হবে। কার্ডে ব্যালেন্স রাখার জন্য স্টেশনে থাকা মেশিন গুলা থেকে কার্ড রিচার্জ করে নিতে হবে।কার্ডে থাকা ভাড়ার অতিরিক্ত যাতায়াত করলে এটির দরজা আটকে যাবে খুলবে না। এক্ষেত্রে ভাড়া ফাকি দেওয়ার কোনো সুযোগ নাই। এছাড়াও মেট্রোরেলে ভ্রমনের জন্য আপনাকে মানতে হবে কিছু নিষেধাজ্ঞা তাই অবশ্যই মেট্রোরেলে ভ্রমনের পূর্বে এসব বিষয়ে সর্তক হয়ে নিবেন।
মেট্রোরেল সম্পর্কে প্রয়োজনীয় সাধারণ জ্ঞান
১. মেট্রোরেলের অফিসিয়াল নাম কি?
MRT (Mass Rapid Transit) line 6
২. মেট্রোরেলের নির্মিত রুট কোন জায়গা পর্যন্ত?
উত্তরা টু মতিঝিল
৩. মেট্রোরেল বাস্তবায়ন করেছে কে?
ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড
৪. মেট্রোরেল নির্মাণে অর্থায়ন করেছে?
বাংলাদেশ সরকার ও জাইকা (জাপান)
৫. মেট্রোরেলের দৈর্ঘ্য কত?
২০.১০ কিলোমিটার
৬. মেট্রোরেল নির্মানের পরিকল্পনা গ্রহন করা হয় কবে?
২০১৩ সালে
৭. মেট্রোরেল নির্মান কাজের উদ্ভোধন করা হয় কবে?
২৬ জুন ২০১৬
৮. পরীক্ষামূলক ভাবে কবে প্রথম মেট্রোরেল চালানো হয়?
১১ মে ২০২১
৯. মেট্রোরেলের ২য় ধাপ কোন জায়গা থেকে চালু হয়েছে?
হোটেল সোনারগাঁও থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত।
১০. মেট্রোরেলের প্রথম ধাপ উদ্বোধন করেন কে?
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৬ জুন ২০১৬ সালে।
১১. মেট্রোরেলের পিলারের উচ্চতা কত?
১৩ মিটার।
১২. মেট্রোরেল প্রকল্পের প্রথম ধাপে প্রত্যেক ট্রেনে কতটি বগি থাকবে?
৬ টি।
১৩. মেট্রোরেলের ১ম ধাপে কতটি ট্রেন চলবে?
২৪ টি।
১৪. মেট্রোরেলে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য কতটি উপকেন্দ্র নির্মিত হবে?
৫ টি।
১৫. মেট্রোরেলের জন্য নির্মিত বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র কোনগুলা?
পল্লবী, উত্তরা, সোনারগাঁও, তালতলা ও বাংলা একাডেমি।
১৬. মেট্রোরেলের ওয়েবসাইট কোনটি?
www.dmtcl.gov.bd
১৭. মেট্রোরেল নির্মানে ১ম প্রকল্প ব্যয় কত ছিলো?
প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা।
১৮. মেট্রোরেলের এক পিলার থেকে অন্য পিলারের দুরত্ব কত?
৩০ থেকে ৪০ মিটার।
১৯. মেট্রোরেলের প্রতি পিলারের ব্যস কত?
২ মিটার।
২০. মেট্রোরেল চালানোর জন্য ঘন্টায় কত মেগাওয়াট বিদ্যুৎ লাগবে?
১৩.৪৭ মেগাওয়াট।
২১. মেট্রোরেল দিয়ে ঘন্টা প্রতি যাতায়াত করতে পারবে কতজন যাত্রী?
প্রায় ৬০ হাজার যাত্রী।
২২. মেট্রোরেলের স্টেশন সংখ্যা কত?
১৭ টি।
২৩. মেট্রোরেলের ১ম নারী চালক কে?
মরিয়ম আফিজা।
২৪. ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি কত সালে চালু করা হয়?
৩ জুন, ২০১৩
২৫. মেট্রোরেলের ৩য় ধাপ কোথা থেকে চালু হবে?
পল্লবী টু উত্তরা
২৬. মেট্রোরেল চালুর সময়ে বাংলাদেশ রেলপথ মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রীর নাম কি?
মোঃ নুরুল ইসলাম সুজন, এমপি।
২৭. মেট্রোরেলের ২য় ধাপ কত কিলোমিটার?
৪.৪০ কিলোমিটার।
২৮. মেট্রোরেলের ৩য় ধাপ কত কিলোমিটার?
৪.৭ কিলোমিটার।
২৯. মেট্রোরেলের সর্বোচ্চ পরিকল্পিত গতি কত?
ঘন্টায় ১০০ কিলোমিটার।
৩০. মেট্রোরেলের ভাড়া কত?
সর্বনিম্ন ২০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা।
৩১. মেট্রোরেল দৈনিক যাত্রা শুরুর সময়?
বর্তমান প্রতিবেদন অনুযায়ী সকাল ৮ টা।
৩২. মেট্রোরেলের যাত্রী বহন ক্ষমতা কত?
দৈনিক ৫ লাখ প্রায়।
৩৩. মেট্রোরেল প্রকল্পের প্রস্তাবিত বাজেট কত ছিলো?
৩৩,৪৭১.৯৯ কোটি টাকা।
৩৪. মেট্রোরেল পরিচালনা ব্যবস্থার নাম কী?
কমিউনিকেশন বেইজ ট্রেন কন্ট্রোল সিস্টেম।
৩৫. ১ম ধাপে মেট্রোরেলের দৈর্ঘ্য কত ছিল?
২০.১০ কিলোমিটার।
৩৬. মেট্রোরেল প্রকল্পের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ছিলো কোনটি?
নয়া দিল্লি মেট্রোরেল করপোরেশন।
৩৭. মেট্রোরেল প্রকল্পের বর্তমান সংশোধিত দৈর্ঘ্য কত?
২১.২৬ কিলোমিটার।
৩৮. মেট্রোরেল প্রকল্পে জাইকার অর্থায়ন কত ছিলো?
১৯,৭১৮.৪৭ কোটি টাকা।
৩৯. সংশোধিত প্রকল্পে বর্তমান মেট্রোরেল হবে কোন স্টেশন থেকে কোন স্টেশন পর্যন্ত?
উত্তরা থেকে কমলাপুর স্টেশন পর্যন্ত।
৪০. মেট্রোরেল প্রকল্পে প্রথমে স্টেশন সংখ্যা কত ছিলো?
১৬ টি।
৪১. কোন দেশ থেকে মেট্রোরেলের ট্রেন আনা হয়?
জাপান।
৪২. মেট্রোরেলে কিলোমিটার প্রতি কয়টাকা ভাড়া নির্ধারন করা হয়?
৫ টাকা।
৪৩. মেট্রোরেলের প্রতিটি প্লাটফর্মের দৈর্ঘ্য কত?
১৮০ মিটার।
৪৪. মেট্রোরেল স্টেশন গুলা কয়তলা?
৩ তলা।
৪৫. মেট্রোরেলের একটি ট্রেন এক সময়ে সর্বোচ্চ কতজন যাত্রী বহন করতে সক্ষম?
২৩০৮ জন।
৪৬. মেট্রোরেলের নির্মাণের যাবতীয় কাজ পরিচালনা ও পর্যবেক্ষম করছে কোন প্রতিষ্ঠান গুলা?
চায়নার সিনো হাইড্রো করপোরেশন এবং থাইল্যান্ডের ইতালিয়ান-থাই ডেভেলপমেন্ট পাবলিক কোম্পানি লিমিটেড।
৪৭. মেট্রোরেলের অবকাঠামোর ধরন কেমন?
উড়াল।
৪৮. মেট্রোরেল চালু হয় হবে?
২৮ ডিসেম্বর, ২০২২ সালে
৪৯. মেট্রোরেলের স্লোগান কি?
"বাঁচবে সময়,বাঁচবে পরিবেশ। যানজট কমাবে মেট্রোরেল"
৫০. মেট্রোরেলের প্রথম দিনে ট্রেনের গতি কত ছিল?
২৫ কিলোমিটার।
শেষ কথাঃ
মেট্রোরেল ঢাকা নগরবাসীর জন্য একটি স্বপ্নের মতো। প্রথম বাংলাদেশের উড়াল ট্রেনটি রাজধানী বাসীর সময় বাঁচিয়ে ও ভোগান্তি কমিয়ে এনে দিবে উন্নয়নের এক অপার সম্ভাবনা। পরবর্তী তে এর রুট আরো বাড়িয়ে কাজ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।