নড়াইলে ধানের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে হতাশ কৃষক - BanglaInfo24

নড়াইলে বোরো ধানের ভালো ফলন হলেও বাজারে ন্যায্যমূল্য না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। উৎপাদন খরচ বেড়ে গেলেও সে অনুপাতে ধানের দাম না পাওয়ায় লোকসানের আশঙ্কায় রয়েছেন তারা।

জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, এবার নড়াইলে ৫০ হাজার ২৯৭ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৬২৩ মেট্রিক টন। এ পর্যন্ত জেলার প্রায় ৯০ শতাংশ জমির ধান কাটা শেষ হয়েছে।

সোমবার (১৯ মে) নড়াইল সদর উপজেলার তুলারামপুর ও মাইজপাড়া হাট ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকরা ভ্যান, ট্রলি ও গরুর গাড়িতে করে উৎপাদিত ধান হাটে নিয়ে আসছেন। কৃষক ও ধান ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জেলার বৃহত্তম পাইকারি ধানের মোকামে এবার মোটা, মাঝারি ও চিকন জাতের ধানের ব্যাপক আমদানি হয়েছে।

মোটা জাতের মধ্যে হাইব্রিড হীরা, ব্রি ধান-৭৪ ও রড মিনিকেট, মাঝারি জাতের মধ্যে সুবর্ণালতা, ছক্কা ও এসএল-৮এইচ এবং চিকন জাতের মধ্যে ব্রি ধান-৫০, ৮৯ ও তেজগোল্ড ধান বেশি এসেছে।

বর্তমানে মোটা ধান প্রতি মণ ১ হাজার ১৫০ টাকা এবং চিকন ধান ১ হাজার ১৭০ থেকে ১ হাজার ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ গত সপ্তাহেও এসব ধান প্রতি মণে প্রায় ১০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হয়েছিল।

ফসল ঘরে তুলতেই ধানের বাজারদর কমে যাওয়ায় হতাশ কৃষকরা। চলতি মৌসুমে বোরো ধানের দাম মণপ্রতি ৪০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। কৃষকদের অভিযোগ, ডিজেল, সার, সেচ, শ্রমিক ও কীটনাশকের দাম বাড়ায় উৎপাদন খরচ অনেক বেড়েছে। কিন্তু ধানের বাজারদর সেই অনুযায়ী বাড়েনি।

সদর উপজেলার মুলিয়া ইউনিয়নের সীতারামপুর গ্রামের কৃষক গনেশ বিশ্বাস বলেন, “এবার বোরো আবাদ করতে গিয়ে অনেক বেশি খরচ হয়েছে। ডিজেল, সার, শ্রমিক ও কীটনাশকের দাম সামলাতে হিমশিম খেতে হয়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় ধানের দাম বাড়েনি।”

কৃষক পাগল বিশ্বাস ও রসময় বিশ্বাস ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ধান চাষ করতে ধার-দেনা ও বিভিন্ন সমিতি থেকে চড়া সুদে ঋণ নিতে হয়েছে। ফলন ভালো হলেও ধানের দাম কম থাকায় লাভ তো দূরের কথা, ঋণ শোধ করাই কঠিন হয়ে পড়বে।”

লোহাগড়া উপজেলার লাহুড়িয়া ইউনিয়নের কৃষক দাউদ মোল্যা বলেন, “পাকা ধান ঘরে তোলার সময় বৃষ্টিতে কিছু ধানের ক্ষতি হয়েছে। জমিতে কাদা-পানি থাকায় ট্রলি বা গরুর গাড়িতে ধান আনা যাচ্ছে না। এজন্য অতিরিক্ত শ্রমিক নিতে হচ্ছে, ফলে খরচ আরও বেড়ে গেছে।”

কালিয়া উপজেলার হামিদপুর ইউনিয়নের বিঞ্চুপুর গ্রামের কৃষক মো. ফুল মিয়া শেখ বলেন, “আমাদের মতো নিম্নবিত্ত কৃষক পরিবার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গ্রামের অনেকেই সুদে টাকা এনে ধান চাষ করেছে। এখন শুনছি হাটে ধানের দাম কম, এতে আমরা আরও বিপাকে পড়েছি।”

তুলারামপুর বাজার বণিক সমিতির সভাপতি মো. জিল্লুর রহমান বিশ্বাস বলেন, “কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে। কৃষকের উন্নয়ন ছাড়া কৃষিনির্ভর বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।”

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপজেলা কৃষি অফিসার মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান বলেন, “ফসলের উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বাজারদর নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে উৎপাদন খরচ কমাতে কৃষি যান্ত্রিকীকরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে কৃষি বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে।”



from Newsbangla24 RSS Feed
নবীনতর পূর্বতন