পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম পর্যায়ের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার পরপরই নিজেদের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরেছে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, প্রথম দফার ১৫২টি আসনের মধ্যে ১১০টিরও বেশি আসনে তারা জয়লাভ করবে। শুক্রবার সকালে নিউটাউনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দলের এই আত্মবিশ্বাসের কথা জানান। তিনি কেবল আসন সংখ্যা নিয়ে নয়, বরং ভোটের প্রকৃতি, উচ্চ হার, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ইভিএম বিতর্কসহ নানা বিষয়ে দলের সুনির্দিষ্ট অবস্থান ব্যাখ্যা করেন।
গত বৃহস্পতিবার রাজ্যের ১৬টি জেলার ১৫২টি আসনে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ইকোনমিক টাইমস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এবার ভোটদানের হার ছিল প্রায় ৯২.৭২ শতাংশ, যা সাম্প্রতিককালের মধ্যে রেকর্ড। বিজেপি এই বিপুল উপস্থিতি পরিবর্তন ও শাসকদলের বিরুদ্ধে গণক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছে। সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, "সারারাত বিজেপি প্রথম দফার ভোটের বিশ্লেষণ করেছে।" সেই পর্যালোচনা শেষে তিনি দাবি করেন, "১৫২টির মধ্যে ১১০টির বেশি আসনে বিজেপি জিততে চলেছে।" তাঁর মতে, "বাংলায় এবার শুধু ভোট হয়নি, ভয় থেকে ভরসার দিকে মানুষের যাত্রা শুরু হয়েছে।"
অমিত শাহ এবারের নির্বাচনকে নজিরবিহীনভাবে ‘শান্তিপূর্ণ’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, "বহু বছর পর পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে এমন পরিবেশ দেখা গেল, যেখানে ভোটাররা ভয়মুক্তভাবে বুথে গিয়েছেন।" এই সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য তিনি নির্বাচন কমিশন, কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং রাজ্য পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। প্রথম দফার নির্বাচনে কোনো প্রাণহানি না ঘটাকে তিনি বাংলার রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটি বড় ইতিবাচক বদল হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, রাজ্যে প্রতিষ্ঠানবিরোধী হাওয়া এখন তুঙ্গে এবং মানুষ এবার নির্বিঘ্নে তাদের রায় প্রদান করতে পেরেছে।
নির্বাচনে অধিক ভোট পড়ার বিষয়টিকে অমিত শাহ ‘সুনামি’র সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি মনে করেন, এটি শাসকদলের দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনগণের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের প্রতিফলন। তাঁর ভাষায়, "বিজেপি সরকার বানায় না, সরকার বানায় জনগণ।" নির্বাচনে ইভিএম কারচুপির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, "বিজেপির প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কথা বলেছে।" তিনি আশা প্রকাশ করেন যে কমিশন এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। পরিবর্তনের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, "পরিবর্তন মানে শুধু বিধায়ক বদল বা দল বদল নয়। পরিবর্তন মানে দুর্নীতি দূর করা, সিন্ডিকেট-রাজ শেষ করা, প্রশাসনের ওপর থেকে রাজনৈতিক চাপ সরিয়ে দেয়া।"
মুখ্যমন্ত্রী পদের দাবিদার নিয়ে তৃণমূলের ‘বহিরাগত’ তত্ত্বে জল ঢেলে অমিত শাহ বড় ঘোষণা দেন। তিনি সাফ জানান, "৫ তারিখের পর বাংলায় জন্ম নেয়া, বাংলামাধ্যমে পড়া একজন বাঙালিই পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হবেন।" এছাড়া মধ্যমগ্রামের একটি কর্মসূচির স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, "সেখানে যে ভিড় হয়েছিল, তা কল্পনার বাইরে।" এক প্রবীণ নারীর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "এই অভিজ্ঞতা আমার ব্যক্তিগত জীবনেও বড় শক্তি জুগিয়েছে। বিরোধীদের আক্রমণ তখন আর গায়ে লাগে না।" প্রধানমন্ত্রী মোদির ঝালমুড়ি খাওয়া নিয়ে সমালোচনার জবাবে তিনি মন্তব্য করেন, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও ঝালমুড়ি খান, তাহলে মোদি খেলে আপত্তি কোথায়?"
সংবাদ সম্মেলনে আগামী ২৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া দ্বিতীয় দফার নির্বাচন নিয়েও বিশেষ বার্তা দেন অমিত শাহ। তিনি মনে করেন প্রথম দফার ভোটাররা যে পরিবর্তনের সূচনা করেছেন, দ্বিতীয় দফার ভোটাররা তাকে পূর্ণতা দেবেন। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতেই এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বার্তায় তিনি লিখেছিলেন, "বাংলার ইতিহাসে অন্যতম শান্তিপূর্ণ ও সুরক্ষিত ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য নির্বাচন কমিশন, কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং পশ্চিমবঙ্গ পুলিশকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।" উল্লেখ্য, ২৯৪ আসনের এই বিধানসভা নির্বাচনে আগামী ৪ মে ফলাফল ঘোষণা করা হবে। দ্বিতীয় দফায় কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার ১৪২টি আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।
from Newsbangla24 RSS Feed