মোজতবা খামেনির তথ্য দিলে ১ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের - BanglaInfo24

ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনিসহ দেশটির অন্তত ১০ জন শীর্ষ সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তার সন্ধান বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের বিনিময়ে এক কোটি (১০ মিলিয়ন) ডলার পর্যন্ত পুরস্কার ঘোষণা করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের চলমান ভয়াবহ সংঘাতের মাঝে ওয়াশিংটনের এমন পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও যুদ্ধ পরিস্থিতির পারদ আরও চড়িয়ে দিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ‘রিওয়ার্ড ফর জাস্টিস’ প্রোগ্রামের আওতায় এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যা মূলত ইরানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস’ (আইআরজিসি)-এর ওপর চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মার্কিন প্রশাসনের লক্ষ্যবস্তুতে থাকা কর্মকর্তাদের তালিকায় খামেনি ছাড়াও রয়েছেন ইরানের বর্তমান জাতীয় নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি, গোয়েন্দা বিষয়ক মন্ত্রী ইসমাইল খাতিব এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এস্কান্দার মোমেনি। এছাড়া খামেনির দপ্তরের আরও দুইজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং নাম প্রকাশ না করা আইআরজিসি-র কয়েকজন কমান্ডারের তথ্যের জন্য এই বিপুল অর্থ বরাদ্দের কথা জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র আইআরজিসি-কে একটি ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে অভিযোগ করেছে যে, এই কর্মকর্তারা বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা ও মার্কিন নাগরিকদের হত্যার পেছনে সরাসরি জড়িত।

এমন এক সময়ে এই ঘোষণা এলো যখন গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যৌথ মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় ইরানের পূর্ববর্তী সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ ৪৯ জন শীর্ষ নেতা নিহত হয়েছেন। পিতার মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার হিসেবে মোজতবা খামেনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তবে তিনিও মার্কিন বিমান হামলায় সম্প্রতি আহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে খবর পাওয়া গেছে। যদিও মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর দাবি করছে যে, এই মুহূর্তে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব নিজেদের প্রাণ বাঁচাতে ‘গোপনে’ বা আড়ালে অবস্থান করছেন, তবে মাঠ পর্যায়ের চিত্র ভিন্ন। গত শুক্রবার রয়টার্সের প্রচারিত এক ভিডিওতে নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানিকে তেহরানে এক জনসমাবেশে প্রকাশ্যে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের পাশে অবস্থান করতে দেখা গেছে।

ওয়াশিংটন দাবি করছে, এই শীর্ষ কর্মকর্তারা মূলত সেই শক্তির অংশ যারা মার্কিন কর্মকর্তাদের হত্যার ষড়যন্ত্র লিপ্ত ছিল। উল্লেখ্য, ২০২০ সালে তৎকালীন মার্কিন ড্রোন হামলায় ইরানের প্রভাবশালী জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার প্রতিশোধ নিতে ইরান একাধিকবার ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ অন্যান্য মার্কিন কর্মকর্তাদের ওপর আঘাত হানার ঘোষণা দিয়েছিল। তবে তেহরান বরাবরই আমেরিকার এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও বানোয়াট রাজনৈতিক প্রচারণা হিসেবে উড়িয়ে দিয়েছে। ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা বজায় রাখা এবং বৈরী পরিস্থিতি সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই যুক্তরাষ্ট্র প্রতিবার এ ধরণের অলীক অভিযোগ এবং কোটি ডলারের পুরস্কারের ফাঁদ পেতে থাকে। সব মিলিয়ে এই পুরস্কার ঘোষণাটি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্মুখ যুদ্ধের উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করল।



from Newsbangla24 RSS Feed
নবীনতর পূর্বতন