প্রকল্পের হাঁস বিতরণে অনিয়ম - Banglainfo24

 


হাঁস না পেলেও নেত্রকোনার মদনে সম্প্রতি ৩৭৯টি হাঁসের ঘর প্রাণি সম্পদ বিভাগের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছে। ঘর গুলো ছিল নিম্নমানের। একইসঙ্গে হাঁস সরবরাহের সময় হওয়ায় ৩৭৯ জন সুবিধাভোগীর মধ্যে ৭৯ জনকে হাঁস বিতরণ করা হয়। অভিযোগ উঠেছে হাঁসগুলো ওজনে কম ছিল। পরে মদনের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বিতরণ স্থগিত করে দেন।

প্রাণিসম্পদ সূত্রে জানা গেছে, হাওরাঞ্চলে সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প ২০১৯ সাল থেকে শুরু হয়ে ২০২৩ সালে শেষ হওয়ার কথা। প্রতিটি হাঁসের ঘরের জন্য ৬ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। শেষ সময়ে একটি চক্র তাড়াতাড়ি করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে আড়ালে রেখে দায়সারাভাবে ঘর নির্মাণ করে সরবরাহ করেন। কর্তৃপক্ষের নজরদারি না থাকায় সুবিধাভোগীরা ভয়ে কোনো প্রতিবাদ করেনি। এর আগে অনিয়মের প্রতিবাদ করায় ৩০০ সুবিধাভোগী হাঁস পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছে। ঘর পেলেও এখনো তাদের ভাগ্যে হাঁস জোটেনি।

এদিকে জানা গেছে, ঘর সরবরাহকারী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কাউকে পাওয়া যায়নি। মদন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, মাঠকর্মী ও ঘর নির্মাণের কাঠ মিস্ত্রি কেউই জানে না ঠিকাদারের নাম পরিচয়। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে কোনো তথ্য আছে কি না এ বিষয় এড়িয়ে যান উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা। নেত্রকোনা সদর উপজেলার লক্ষীগঞ্জের তাজুল কাঠ মিস্ত্রি সম্প্রতি ৩৭৯টি নি¤œমানের ঘর নিয়ে উপজেলায় আসলে ঠিকাদারকে খোঁজতে থাকে সুবিধাভোগীরা।

উপজেলার বাড়রী গ্রামের বাদল চন্দ্র ভৌমিক, জয়দেব ও শিবাশ্রম গ্রামের নাছরিন আক্তার, আজিজুল বলেন, ৪-৫ মাস আগে হাঁস বিতরণ করা হয়। তখন কিছু লোকের মধ্যে বিতরণের সময় ওজন কম থাকায় প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এটি বন্ধ করেন। এখন পর্যন্ত তারা হাঁস পায়নি। ঘর পেলেও তা খুব নিম্নমানের।

ঘর সরবরাহকারী তাজুল মিস্ত্রি বলেন, ‘নেত্রকোনা লক্ষীগঞ্জের বাবুল মিয়ার সঙ্গে ঘর নির্মাণ করার জন্য আমার চুক্তি হয়। ঘর নির্মাণ করে মদন প্রাণিসম্পদ অফিসে পৌঁছে দেওয়া পর্যন্ত প্রতিটি ঘর বাবদ ৩ হাজার ৫০০ টাকা আমাকে দেন। তবে আসল ঠিকাদার কে আমি চিনি না। বাবুল বলতে পারবে ঠিকাদারের বিষয়ে।’

ঘর সরবরাহের সময় বাবুল মিয়া বলেন, ‘ঢাকার পলিন নামের একজনের সঙ্গে ঘর তৈরি করার জন্য আমার চুক্তি হয়। আমি তার চুক্তিতে ঘর তৈরি করে মদনসহ আরো কয়েকটি উপজেলায় পৌঁছে দিয়েছি। ঠিকাদার কে তা আমি জানিনা।’

এদিকে পলিন এন নম্বর মোবাইল ফোনে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি কিশোরগঞ্জের ট্রাক শ্রমিক বলে পরিচয় দেন। ঠিকাদারের পরিচয় জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যান। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. তায়রান ইকবাল বলেন, ঠিকাদার ও প্রকল্পের বরাদ্দের তথ্য আমার কাছে নেই। কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ঘর গুলো গ্রহণ করে বিতরণ করেছি। তবে ৩০০ সুবিধাভোগীর হাঁস এখনো আসেনি।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. ওয়াহেদুল আলম বলেন, এ প্রকল্পটির তথ্য উপজেলা অফিস ও পিডি অফিসে থাকবে। ঠিকাদার ঘর নির্মাণে অনিয়ম করলে ছাড় দেওয়া হবে না।

নবীনতর পূর্বতন