শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ফেরার পথে আওয়ামী লীগ কর্মী খুন - BanglaInfo24

রাজশাহীর তানোরে এক আওয়ামী লীগ কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

উপজেলা সদরের শহীর মিনারে ফুল দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে তালন্দ ইউনিয়নের বিলশহর গ্রামে মঙ্গলবার গভীর রাতে খুন হন ৩৬ বছর বয়সী জিয়াউর রহমান।

নিহত জিয়াউর তালন্দ ইউনিয়নের বিলশহর গ্রামের মহির আলি মণ্ডলের ছেলে। আওয়ামী লীগের এ কর্মী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি গোলাম রাব্বানীর চাচাত ভাই।

এ ঘটনায় তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

নিহত জিয়াউরের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে গত নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম রাব্বানীর পক্ষে কাজ করায় প্রতিপক্ষের লোকজন তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিল। এ নিয়ে একাধিকবার তাকে হুমকিও দেয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, একুশের প্রথম প্রহরে তানোর উপজেলা সদরে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে শহীদ মিনারে ফুল দিতে যান জিয়াউর। সেখান থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে ফেরার পথে গভীর রাতে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। বুধবার ভোরে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

পুলিশ আরও জানায়, গ্রামের পাকা রাস্তার পাশে জিয়াউলের মরদেহ পড়ে ছিল। মরদেহের পাশেই তার মোটরসাইকেলটিও পড়ে ছিল।

জিয়াউরের চাচাত ভাই রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি গোলাম রাব্বানী অভিযোগ করেন, ‘গত ৭ জানুয়ারির সংসদ নির্বাচনে জিয়াউর নিজ এলাকায় আমার পক্ষে ব্যাপকভাবে কাজ করেন এবং মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। ওই নির্বাচনে তার ব্যাপক ভূমিকার কারণে লালপুর স্কুল ভোটকেন্দ্রে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাঁচি প্রতীক নৌকা প্রতীকের চেয়ে ৭০০ থেকে ৮০০ ভোট বেশি পেয়েছিল। ছেলেটা স্থানীয়ভাবে খুবই জনপ্রিয় ছিল। ভোটের পর থেকে তার সাথে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। ওর খড়ের পালায় আগুন দিয়ে পোড়ানো হয়।

‘লালপুর বাজারে যেতে পারত না। ও আমাকেও বলত যে, তাকে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। আমি ওকে ওদিকে যেতে নিষেধ করেছিলাম। প্রতিপক্ষের ব্যাপক হুমকিতে ছিল ছেলেটা। ভোটের পর থেকে লালপুরের কয়েকজনের সাথে ওদের গণ্ডগোল হতেই আছে। এলাকার লোকজনও বলছে এসব ঘটনার জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ড।’

রাজশাহী জেলা পুলিশের গোদাগাড়ী সার্কেলের এএসপি সোহেল রানা জানান, রাত দুইটার দিকে খবর পাওয়ার পরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। জিয়াউরের মরদেহ উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে ময়নাতদন্তের জন্য। এ ঘটনায় তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদে জন্য নিয়ে আসা হয়েছে।

এএসপি সোহেল রানা আরও জানান, নিহত জিয়াউরের শরীরের সামনে ও পেছনে বেশ কয়েকটি আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মাথায় যে আঘাত, সেটি মনে হচ্ছে ধারালো অস্ত্রের। সবকিছু মিলিয়ে পুলিশ তদন্ত করছে। ময়নাতদন্তের পর আরও তথ্য পাওয়া যাবে।



from Newsbangla24 RSS Feed
নবীনতর পূর্বতন