বিএনপির ডাকা হরতাল-অবরোধের মধ্যে কদিন ধরে গাড়িতে আগুন দিচ্ছে দুর্বৃত্তরা, এই কর্মসূচি না থাকার দিনেও থেমে নেই আগুনের ঘটনা। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবারও গাড়িতে আগুন দেয়া হয়েছে।
আগের ঘোষণা অনুযায়ী মঙ্গলবার সকাল ৬টায় বিএনপির ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ শেষ হয়, এরপর বুধবার সকাল ৬টা থেকে ২৪ ঘণ্টা অবরোধ শুরু হয়েছে। তবে এর মধ্যে মঙ্গলবার সকাল থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত অবরোধের বিরতির সময়ে মোট পাঁচটি গাড়িতে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা সিটিতে একটি, গাজীপুরে দুটি, বাগেরহাটে একটি ও সিরাজগঞ্জে একটি যানবাহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তিনটি বাস ও দুটি ট্রাক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই আগুন নির্বাপণ করতে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ৮ ইউনিট ও ৪২ জন জনবল কাজ করে।
গত ২৮ অক্টোবর থেকে ২৯ নভেম্বর সকাল ৬টা পর্যন্ত দুর্বৃত্তরা মোট ২২৮টি অগ্নিসংযোগের (কয়েকটি স্থাপনাসহ যানবাহনে) ঘটনা ঘটিয়েছে।
বিএনপির অবরোধ-হরতালের এ কর্মসূচি শুরু হয়েছে গত ২৮ অক্টোবরের পর। সরকার পতনের একদফা আন্দোলনে সেদিন রাজধানীর নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করছিল বিএনপি। ওই সমাবেশ চলাকালে এক পর্যায়ে দৈনিক বাংলা মোড়, কাকরাইল ও পল্টনসহ আশপাশের এলাকায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান দলটির নেতা-কর্মীরা।
এ অবস্থায় সমাবেশ কর্মসূচি চলার মধ্যেই বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৯ অক্টোবর সারা দেশে হরতালের ডাক দেন। পরে একদিন বিরতি দিয়ে ৩১ অক্টোবর থেকে টানা তিন দিনের অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করে দলটি। অজ্ঞাত স্থান থেকে রুহুল কবির রিজভী এ কর্মসূচি দেন। বিএনপির অবরোধে একাত্মতা জানায় জামায়াতে ইসলামীও।
এর পর থেকে বিরতি দিয়ে দফায় দফায় অবরোধ-হরতালের ঘোষণা দিয়ে আসছে বিএনপি। দলীয় সরকারের পদত্যাগ ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন, নেতা-কর্মীদের মুক্তিসহ কিছু দাবিতে এমন কর্মসূচি দেয়া হচ্ছে। তবে এর মাঝে নির্বাচনের তফসিল প্রত্যাখ্যান করে ৪৮ ঘণ্টার হরতাল দিয়েছিল বিএনপি। সর্বশেষ মঙ্গলবার বিরতি দিয়ে ঘোষণা করা হয় ২৪ ঘণ্টার অবরোধ এবং ২৪ ঘণ্টার হরতালের কর্মসূচি। দলটির ঘোষণা অনুযায়ী, বুধবার সকাল ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত হবে অবরোধ, আর বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত হবে হরতাল।
বিএনপির ডাকা অবরোধে প্রতিদিনই রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, ককটেল নিক্ষেপসহ নানা সহিংসতা হচ্ছে। কঠোর অবস্থানে থেকে দলটির নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করছে পুলিশ। তবে আতঙ্ক সঙ্গে করেই বাইরে বের হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
from Newsbangla24 RSS Feed