হারানো জাতীয় পরিচয়পত্র খুজে পাওয়ার নিয়ম

অনেক সময় আমরা আমাদের ভোটার আইডি কার্ড কি হারিয়ে ফেলি অথবা কোথায় রেখে রেখেছি মনে করতে পারি না। ঠিক তখনই আপনার ভোটার আইডি কার্ডটির প্রয়োজন দেখা দেয় এবং খুব কম সময়ে ভোটার আইডি কার্ডটি আপনার লাগবে। ভোটার আইডি কার্ডটি হারানোর পর মাত্র দুই দিনে আবার নতুন করে খুঁজে পেতে চাইলে এই আর্টিকেলটি আপনার জন্য বেশ উপকারী। আপনি হারানো আইডি কার্ডটি খুঁজে পেতে চাইলে আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ পড়ুন।

হারানো জাতীয় পরিচয়পত্র খুজে পাওয়ার নিয়ম

কেন হারানো আইডি কার্ডটি ডাউনলোড করবেনঃ

ভোটার আইডি কার্ডটি একটি মানুষের বৈধ প্রমাণ। সে ওই দেশের নাগরিক এবং ওই দেশের সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করার জন্য একটি দলিল হল ভোটার আইডি কার্ড। একজন ব্যক্তি রাষ্ট্রের নাগরিক প্রমাণে গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টস হল এই ভোটার আইডি কার্ডটি। বর্তমানে যে কোন ক্ষেত্রে ভোটার আইডি কার্ডের প্রয়োজন হয়। দেশ থেকে বিদেশে ভ্রমণ করতে গেলেও আপনার এই কার্ডটি প্রয়োজন হবে। এছাড়াও নতুন সিম রেজিস্ট্রেশন, নগদ, বিকাশ, রকেট ও অন্যান্য ব্যাংকিং সুবিধার জন্য আপনার ভোটার আইডি কার্ডটির দরকার হবে।

যেকোনো ধরনের ভাতা এবং সরকারি সুবিধা পেতে ভোটার আইডি কার্ডের প্রয়োজন। চাকরির ক্ষেত্রে, ব্যবসার কাজে এমনকি বাইরে দেশে পড়াশোনা করতে যাওয়ার ক্ষেত্রেও প্রয়োজন হয়।

অনেক সময় দুর্ঘটনাবশত বা গুরুত্বহীনতার কারণে ভোটার আইডি কার্ডটি হারিয়ে যেতে পারে। অথবা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে আপনি সহজে মাত্র দুই দিনের মধ্যে ভোটার আইডি কার্ড কি পুনরায় নিতে পারবেন। পূর্বে জাতীয় পরিচয় পত্র রি-ইস্যু বা

পূনমুদ্রণের কাজটি অনেক কঠিন ও সময় সাপেক্ষ ছিল। কিন্তু বর্তমানে ঘরে বসে অনলাইনের মাধ্যমে খুব সহজে হারানো আইডি কার্ডটি ডাউনলোড করতে পারবেন।
 

হারানো ভোটার আইডি কার্ডটি ডাউনলোড করার নিয়মঃ

যেহেতু আপনার পূর্বের একটা আইডি কার্ড ছিল আর আপনি সেটি হারিয়ে ফেলেছেন পুনরায় আপনি আইডি কার্ডটি ডাউনলোড করতে চাচ্ছেন সে ক্ষেত্রে আপনাকে শুরুতে থানায় একটি জিডি করতে হবে। ওখানে একটি সাধারণ ডায়েরি লিখিয়ে থানার সিল ও স্বাক্ষর দিয়ে স্ক্যান করে নিতে হবে।তারপর এনআইডি ওয়েবসাইটে NID card re-issue জন্য আপনাকে আবেদন করতে হবে। জাতীয় পরিচয়পত্র রি-ইস্যুর কারণ  হিসেবে হারিয়ে গেছে সিলেক্ট  করুন। তারপর জিডি টির কপি আপলোড করে আবেদন  কাজ সম্পন্ন করতে হবে।

হারানো আইডি কার্ড টি পুনরায় ডাউনলোড করার জন্য রি- ইস্যু বা পুনমুদ্রন ফি পরিশোধ করতে হবে। প্রথমবার আইডি কার্ডটি কে রেগুলার ক্যাটাগরিতে রি- ইস্যু ফি ২৩০ টাকা মাত্র। এর পরবর্তী তে পুনরায় আবেদন করতে হলে এই ফিসের পরিমাণ বাড়বে। জাতীয় পরিচয় পত্র রি ইস্যু ফি তালিকা এই লিখার শেষের দিকে উল্লেখ করা হয়েছে।

হারিয়ে যাওয়া জাতীয় পরিচয়পত্র রি-ইস্যু বা পুনমুদ্রণ করুনঃ

হারিয়ে যাওয়া জাতীয় পরিচয় পত্র বা NID কার্ডটি ২টি  উপায়ে পুনরায়  হাতে ফিরে  পাওয়া সম্ভব। নতুন ভোটার হওয়ার সময় টির উপর নির্ভর করে জাতীয় পরিচয় পত্র রি ইস্যু করার পদ্ধতি ভিন্ন ভিন্ন রকম।  

যে বা যারা ২০১৯ সাল  অথবা তার পরবর্তী যেকোন সময়ে ভোটার আইডি কার্ডটির জন্য তথ্য হালনাগাদ করেছিলেন তারা চাইলেই তাদের হারিয়ে যাওয়া NID কার্ডটি বিনামূল্যে জাতীয় পরিচয়পত্র ডাউনলোড  ওয়েবসাইট থেকে যেকোনো সময় ডাউনলোড করে নিতে পারবেন। ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড করার নিয়ম নামে  আমাদের আর্টিকেল টি থেকে আপনি এটা দেখে নিতে পারবেন।

আবার যে সকল ব্যাক্তির NID Card বা জাতীয় পরিচয় পত্র ২০১৯ সালের পূর্বেই হয়ে গেছে এবং স্থানীয় নির্বাচন কমিশন কর্তৃক NID Card টির বিতরণ কাজ সম্পন্ন হয়ে গেছে তাদের জন্য হারানো ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড করার নিয়ম টি একটু জটিল।তাদেরকে  প্রথমে থানায় একটি জিডি  করতে হবে। থানায় রেজিস্ট্রার করা জিডি টি ব্যবহার করে অনলাইনের মাধ্যমে হারানো আইডি কার্ডেটি  রি-ইস্যুর জন্য আবেদন করতে হবে।

হারানো ভোটার কার্ড ফিরে পাওয়ার দরখাস্তঃ
ভোটার আইডি কার্ড টি হারিয়ে গেলে সেটি পুনরায় ডাউনলোড করার জন্য শুরুতেই  নিকটস্থ থানায় গিয়ে NID Card হারিয়ে গেছে এমন প্রসঙ্গে একটি সাধারণ ডায়েরিতে জিডি রেজিস্ট্রার করতে হবে। সাধারণ ডায়েরি লেখার জিডির দুই কপি সঙ্গে নিয়ে থানায় যোগাযোগ করার মাধ্যমে  সেখান থেকে জিডির কপি সংগ্রহ করতে হবে।

লক্ষ্য করুনঃ আপনাকে অবশ্যই খেয়াল করতে হবে আপনি যে সাধারণ ডায়েরি টা করিয়ে নিয়েছেন সেখানে যেন থানার সিল এবং যে অফিসার বা  ইনচার্জ আপনার জিডিটি  গ্রহণ করেছে তার নাম এবং তার পদবী অবশ্যই উল্লেখ রয়েছে । এখন  আপনার কাজ হবে  এই সাধারণ ডায়েরির কপিটি নিয়ে সেটা স্ক্যান করিয়ে নেওয়া অথবা মোবাইলে সুন্দর করে স্পষ্ট ছবি তুলে সংগ্রহ করা।

সাধারণ জিডি লেখার নিয়মঃ

আমাদের মধ্যে অনেকেই হয়তো কিভাবে থানায় জিডি করতে হয়  অর্থাৎ সাধারণ ডায়রি লিখতে হয় সেটি সঠিকভাবে জানেন না। এজন্য  জাতীয় পরিচয় পত্র হারানো প্রসঙ্গে সাধারণ ডায়েরি লেখার নিয়ম আপনাদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করা হলো।

আইডি কার্ডটি হারিয়ে গেলে করণীয়ঃ

কোন  কারনে দুর্ঘটনাবশত বা বেখেয়ালে একটি আইডি কার্ড হারিয়ে গেলে প্রাথমিক যে কাজটি করতে হয় সেটি হলো থানায় সাধারণ ডায়েরি রেজিস্ট্রার করা। এই কাজটি আমরা কিভাবে করতে হয় দেখানোর চেষ্টা করেছি। সাধারণ ডায়েরি বা GD সম্পর্কে কিছু তথ্য সংগ্রহ করতে হবে।
  • জিডি নাম্বার
  • জিডি গ্রহণকারী কর্মকর্তার নাম
  • জিডি গ্রহণকারী কর্মকর্তার পদবি
  • জিডির দাখিলের তারিখ
  • জিডি কপিতে অবশ্যই থানার সিল এবং
  • জিডি গ্রহণ করে কর্মকর্তার সাক্ষর থাকতে হবে।

উপরের সকল তথ্য সংগ্রহ করা হয়ে গেলে। এরপর আপনার  কাজ হবে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয় পত্র পোর্টাল থেকে  ভোটার আইডি কার্ড  টি রি-ইস্যু করার জন্য আবেদন করা।

জাতীয় পরিচয়পত্র রিইস্যুর আবেদন করার নিয়মঃ 

আপনি উপরের নিয়ম গুলা অনুসরণ করে হারানো জাতীয় পরিচয় পত্র সম্পর্কে একটি  সাধারণ ডায়েরি লিখুন এবং তার যথাযথ তথ্য আপনার কাছে রাখুন। এখন জাতীয় পরিচয় পত্র রি-ইস্যুর জন্য আবেদন করুন।

আপনি যদি জাতীয় পরিচয় পত্র ওয়েবসাইটে একদম নতুন হয়ে থাকেন তাহলে আপনাকে শুরুতে জাতীয় পরিচয় পত্রের তথ্য দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করে নিতে হবে। রেজিস্ট্রেশন করা খুবই সহজ।  NID Card এর নাম্বার এবং জন্ম তারিখ দিয়ে রেজিস্ট্রেশন এর প্রথম ধাপ সম্পন্ন করতে হবে।  এরপর জাতীয় পরিচয় পত্র অনুযায়ী স্থায়ী ঠিকানা এবং বর্তমান ঠিকানা যাচাই করতে হবে।

তবে যদি আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র  ওয়েবসাইটে একাউন্ট করা থাকে তাহলে শুধু মাত্র লগ ইন করতে  হবে। আপনার ভোটার আইডি কার্ডের তথ্য দিয়ে লগ ইন করার পর একটি ড্যাশবোর্ড দেখতে পাবেন। রেজিস্ট্রেশন এবং লগ ইন এর কাজ সম্পন্ন হলে  জাতীয় পরিচয় পত্র ইস্যু করার আবেদন করতে পারবেন।

ধাপ১ঃ জাতীয় পরিচয়পত্র অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে (NID Application System) এ Entry:
NID APPLICATION HOMEPAGE এ প্রবেশ করার পর  একটি ইন্টারফেস দেখতে পাবেন। যেহেতু হারানো ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড করতে চাইছেন বা পুনরায় মুদ্রণ করতে চাইছেন সে ক্ষেত্রে আপনাকে রি ইস্যু এই অপশনটি বাছাই করতে হবে।

এই  খানে আপনার জাতীয় পরিচয় পত্রের যাবতীয় তথ্য দেখানো থাকবে। আপনার নাম, জাতীয় পরিচয় পত্রের নাম্বার বর্তমান ঠিকানা এবং ভোটার এলাকা ইত্যাদি তথ্য সঠিক থাকলে রি-ইস্যু মেনু টিতে ক্লিক করতে হবে। তারপর আপনার সামনে একটি নতুন পেজ ওপেন হবে।

এবাট আপনি একটি এডিট নামক বাটন পাবেন। এই বাটনে চাপ দেওয়ার সাথে সাথে একটি Pop Up দেখতে পাবেন, যেখানে রি-ইস্যু সম্পর্কে কিছু দিক নির্দেশনা ও প্রয়োজনীয় পেমেন্ট পরিশোধের মাধ্যম গুলো সম্পর্কে দেওয়া থাকবে। NID Card রি-ইস্যু করার প্রয়োজনীয় ফি সমূহের তালিকা জানতে নির্বাচন কমিশন বাংলাদেশ ওয়েবসাইটে ভিজিট করুন।

ধাপ ২ঃ প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণঃ
হারানো আইডি কার্ডটি উত্তোলন করার জন্য  অনলাইনে আবেদন যেভাবে করবেন তা এইখানে সহজ ভাবে জানতে পারবেন।শুরুতে  আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র  টি পুনর্মুদ্রণে এর কারণ হিসেবে হারিয়ে গেছে অপশন টি বাছাই করে সিলেক্ট করতে হবে। থানায় জিডি করার পর বিষয়টি আমরা প্রথমেই বলেছি ।  এখন যেই ঘরে GD নাম্বার বসানোর কথা বলা হয়েছে সেই স্থানে জিডি নাম্বার এবং আপনি যে থানায় সাধারণ ডায়েরি লিখিয়েছেন সেই থানার নাম লিখে ঘর গুলো সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে।

ফাকা ঘরে দ্বিতীয় সারিতে যথাক্রমে  জিডি গ্রহনকারী পুলিশ অফিসারের নাম এবং তার পদবি  উল্লেখ করতে হবে। সর্বশেষে পরে যেদিন থানায় জিডি লিখেছিলেন সেই তারিখ বসিয়ে সাবমিট বাটনে ক্লিক করতে হবে। অতঃপর পরবর্তী বাটনে ক্লিক করে এই ধাপটি সম্পন্ন করতে হবে।

ধাপ ৩ঃ রি-ইস্যুর জন্য পেমেন্টঃ
হারানো NID Card টি রি-ইস্যুর জন্য  আবেদন করে অনলাইনে পেমেন্ট করতে হবে। হারানো ভোটার আইডি কার্ড টি ডাউনলোড করার এই পর্যায়ে এসে রি- ইস্যু  ফি পরিশোধ করতে হবে। হারিয়ে যাওয়া এনআইডি কার্ড টি পুনরায় উত্তোলন করার জন্য একটি নির্ধারিত নির্দিষ্ট পরিমাণ সরকারি ফি প্রদান করে আবেদন করতে হয়।

আপনার হারিয়ে যাওয়া NID Card টি রি-ইস্যুর জন্য কত টাকা প্রয়োজন হবে সেটি হিসাব করার জন্য আপনি https://services.nidw.gov.bd/nid-pub/fees এই লিঙ্ক টি তে প্রবেশ করতে পারেন। লিঙ্কটি ওপেন করার পর আপনার জাতীয় পরিচয় পত্র নাম্বার এবং রি-ইস্যুর ধরন বাছাই করে টাকার পরিমাণ জেনে নিতে পারবেন।

আইডি কার্ড বিতরনের ধরনঃ

সাধারণ এবং জরুরী  এই দুইভাবে আইডি কার্ড বিতরণ করা হয়ে থাকে৷ এই ২ ধরনের মধ্যে কেমন পার্থক্য রয়েছে সরাসরি এই সম্পর্কে কোনো সঠিক তথ্য নেই। শুক্র ও শনিবার ব্যতীত অর্থ্যাৎ অন্য সকল কার্যদিবস হিসেব করে আবেদন করলে ৩ দিন থেকে ৭ দিন এর মধ্যেই সাধারণত  আবেদনটি অনুমোদন পেয়ে যায় এবং অনলাইন থেকে ডাউনলোড করা সম্ভব হয়। বিতরনের ধরনের উপর ভিত্তি করে জাতীয় পরিচয় পত্র রি-ইস্যু ফি এর বিবরণ নিচে উল্লেখ করা হলো।

প্রথমবারের মতো ভোটার আইডি কার্ড রি-ইস্যু প্রয়োজনীয় ফি সমূহঃ-

  • বিতরনের ধরন সাধারণঃ ২৩০ টাকা
  • বিতরনের ধরন জরুরীঃ ৩৪৫ টাকা
  • বিতরনের ধরন সাধারণ স্মার্ট কার্ডঃ    ২৩০ টাকা
  • বিতরনের জরুরী স্মার্ট কার্ডঃ  ৩৪৫ টাকা

যে সকল মাধ্যম থেকে রি-ইস্যু ফি প্রদান করা যাবে তা হলোঃ

  • ডাচ্-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড
  • রকেট মোবাইল ব্যাংকিং
  • ওয়ান ব্যাংক লিমিটেড
  • ওকে ওয়ালেট মোবাইল ব্যাংকিং
  • ট্রাষ্ট ব্যাংক লিমিটেড
  • টি-ক্যাশ মোবাইল ব্যাংকিং
  • মিউচুয়াল ট্রাষ্ট ব্যাংক লিমিটেড
  • বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক লিমিটেড
  • ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড
ধাপ ৪ঃ প্রয়োজনীয় কাগজপত্রঃ
হারানো NID Card টি ডাউনলোড করার জন্য নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত ফি পরিশোধ করা হয়ে গেলে পরবর্তী ধাপে আমাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সাবমিট করতে হবে। হারানো আইডি কার্ডের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র জিডির কপি হলেই হবে আর কোন ডকুমেন্টস এর প্রয়োজন নাই।

লক্ষ্য করুনঃ
ডকুমেন্টস গুলা আপলোড করার  সময় খেয়াল রাখতে হবে  যেনো ছবির সাইজ অর্থাৎ আপনি যে ডকুমেন্টস টি আপলোড করতে চাইছেন  সেটির সাইজ যেনো 100KB  এর বেশি না হয়। সবকিছু ঠিকঠাক ভাবে সাবমিট করা হয়ে গেলে  কনফার্ম করে দিতে হবে।

হারানো জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়ার উপায়ঃ

হারানো NID Card টি হাতে পাওয়ার জন্য ইতোমধ্যে  কতগুলো ধাপ সম্পন্ন করার পর এই পর্যায়ে এসে আবেদনটি সম্পন্ন হলে কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ আপনার আবেদনটি কে মূল্যায়ন করে যথাযথ মনে করলে   এটিকে অনুমোদন করে  দেবে। সাধারনত এক সপ্তাহের মধ্যেই হারানো আইডি কার্ড রি-ইস্যুর আবেদন টি অনুমোদন হয়ে যায়। তবে কখনো কখনো আবেদনটি অ্যাপপ্রুভ হতে দুই সপ্তাহ সময় লেগে যায়।

আপনার হারিয়ে যাওয়া NID Card টির রি ইস্যুর জন্য  আবেদন টি অনুমোদন হয়েছে কিনা সেটি আপনার মোবাইলে SMS এর মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে। মোবাইলে এসএমএস পাওয়ার পরই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব  অনলাইন থেকে ভোটার আইডি কার্ড অর্থাৎ জাতীয় পরিচয় পত্র টি ডাউনলোড করে নিতে হবে। কারন আবেদন অনুমোদন করার অনেকদিন পর সেটি আর ডাউনলোড করা সম্ভব হয় না।

হারানো ভোটার আইডি কার্ডটি ডাউনলোডঃ

আপনার হারিয়ে যাওয়া ভোটার আইডি কার্ড টি  রি-ইস্যুর আবেদন টি যখন অনুমোদন হয়ে যাবে তখন অনলাইন থেকে আপনি সেটি ডাউনলোড করে নিতে পারবেন। এর জন্য আপনাকে জাতীয় পরিচয় পত্র ওয়েবসাইট টি তে  লগ ইন করতে হবে এবং ডাউনলোড বাটনে ক্লিক করতে হবে।

জেনে রাখুনঃ
জাতীয় পরিচয় পত্র অর্থ্যাৎ এনআইডি কার্ড টি  PDF আকারে ডাউনলোড হবে। এই PDF ফাইলটি যে কোনো কম্পিউটার এর দোকান থেকে  প্রিন্ট করে নিতে পারবেন।এরপর সেটিকে লেমিনেটিং করে ব্যবহার করতে পারবেন। নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রদানকৃত জাতীয় পরিচয় পত্র এবং অনলাইন থেকে ডাউনলোডকৃত জাতীয় পরিচয় পত্রের মধ্যে কোন প্রকার পার্থক্য নেই। ২ টা একই ধরনের কাজে ব্যবহার করা যাবে৷ সবক্ষেত্রে এই ডাউনলোড কপি টি ও নির্বাচন কমিশন এর কপিটির মতোই স্বীকৃত।

Frequently Ask Question

প্রশ্নঃ হারানো ভোটার আইডি কার্ড ফেরত পাওয়া সম্ভব কি?
হারানো ভোটার আইডি কার্ড খুব সহজেই ফেরত পাওয়া সম্ভব।  হারানো ভোটার আইডি কার্ড ফিরে পাওয়ার জন্য অনলাইনে আবেদন করে নির্ধারিত ফি পরিশোধ করলেই আপনি আইডি কার্ডটি পুনরায় মুদ্রন করতে পারবেন।

প্রশ্নঃ হারানো ভোটার আইডি কার্ড টি হাতে পেতে কতদিন সময় লাগবে?
হারানো জাতীয় পরিচয়পত্র টি অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করার পর সেটি অনুমোদন হতে এক সপ্তাহ থেকে দুই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।তবে কখনো কখনো ২-৩ দিনেও হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।আবেদনটি অনুমোদন পেলেই আপনি কার্ডটি ডাউনলোড করে নিয়ে ব্যবহার করতে পারবেন।
মোঃ আল আমিন

একজন প্যাশনেট ব্লগার ও কন্টেন্ট রাইটার। আমি অবসর সময়ে প্রযুক্তি বিষয়ে লেখালেখি করতে ভালোবাসি।

নবীনতর পূর্বতন