নতুনদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং গাইড | ফ্রিল্যান্সিং থেকে ইনকাম

দেশে ফ্রিল্যান্সিংয়ের চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে।  সেইসাথে  বেড়ে চলেছে  ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে ভুল ধারণা গুলোও।  বিশেষ করে নিউজ মিডিয়ার চটোকদার বিজ্ঞাপন ও  কোর্স বিক্রেতাদের  পাওয়ারফুল ব্রেন ওয়াশ ফ্রীলান্সিং সেক্টরকে পঙ্গু করার জন্য  উঠে পড়ে লেগেছে।  এবং এর ফাঁদে সবথেকে বেশি পা দিচ্ছে   নতুন ফ্রিল্যান্সার।

বর্তমানে বাংলাদেশে  প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থী বেকার। পর্যাপ্ত  চাকরির দেখা না পাওয়ায় ফ্রিল্যান্সিংয়ের দিকে ঝুঁকছে বেশিরভাগ শিক্ষার্থীরা।  আরে সুযোগকে কাজে লাগিয়ে  তথাকথিত কিছু  ফ্রিল্যান্সিং ট্রেনিং সেন্টার  খুলে বসেছে প্রতারণার ফাঁদ।  যার ফাঁদে  প্রতিনিয়ত ঘটছে নতুন  ফ্রিল্যান্সাররা।

বেশিরভাগ সময়  লক্ষ লক্ষ টাকা ইনকামের লোভ ও  সহজে ইনকামের পথ দেখানোর  নাম করে  নতুন ফ্রিল্যান্সারদের কাছ থেকে  প্রতারণা করে চলেছে এসব  কোর্স বিক্রেতারা।  এবং বেশিরভাগ মানুষ ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান না থাকায়  এসকল প্রতারণার শিকার হচ্ছে এবং  দিনশেষে হতাশা  ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না।

নতুনদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং গাইড লাইন

অন্য আজকে আলোচনার মূল বিষয় হলো  নতুনদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং  সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা করব।  কাদের ফ্রিল্যান্সিং করা উচিত এবং কাদের ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে আসা উচিত নয় সে সম্পর্ক জানাবো।
 

ফ্রিল্যান্সিং কি?

ফ্রিল্যান্সিং শব্দের অর্থ হলো মুক্তপেশা।  এটি মূলত কোন কাজ নয়,  কাজের প্রসেস মাত্র।  অর্থাৎ এর মাধ্যমে বিভিন্ন ক্লায়েন্টের সাথে কাজে চুক্তি করে,  সে কাজ শেষ করে অনলাইনের মাধ্যমেই  ক্লায়েন্টের কাছে পৌঁছে দেয়ার মাধ্যমে  আই করাকে বলা হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং।
 
ফ্রিলান্সিং কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অধীনে থেকে কাজ করতে হয় না।  এজন্য এধরনের কাজ  যারা করে তাদেরকে  মুক্ত পেশাজীবী বা ফ্রিল্যান্সার (Freelancer) বলা হয়।
 
আরো পড়ুনঃ

ফ্রিল্যান্সিং পেশা কাদের জন্য?

বিজ্ঞাপন বা ডলারের লোভে  অনেকে না জেনে ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে চলে আসেন।  অন্যকে রাতারাতি  সফলতার মনমানসিকতা নিয়ে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করেন।  কিন্তু ফ্রিল্যান্সিং  প্রচুর ধৈর্য ও দক্ষতার  সাথে করতে হয়।  জন্য নতুনদের ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে আসার পূর্বে  ফ্রিল্যান্সিং পেশা মূলত কাদের জন্য  সে সম্পর্কে ধারণা নেওয়া উচিত।  কারা ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে আসবেন সে সম্পর্কে নিচে কিছু  তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করছি।

  • যাদের  ফ্রীলান্সিং করার আগ্রহ রয়েছে।  শুধুমাত্র টাকার লোভে নয়   মার্কেটপ্লেসে ভালো সার্ভিস দেয়ার উদ্দেশ্যে  ফ্রিল্যান্সিং সাইটে আসতে পারেন।
  • যাঁরা কাজ না শিখেই  ইনকাম করতে চান তাতে ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে না আসাই ভাল।
  • যাদের ধৈর্য ধরে  শেখার মন-মানসিকতা রয়েছে।  সহজে  দাঁড়াতে কিভাবে আয় করা যায়  সেই পথ খুজে থাকলে ফ্রিল্যান্সিং আপনার জন্য নয়।
  • যারা শর্টকাট উপায় টাকা ইনকাম করতে চান  তাঁদের জেনে নিতে হবে  ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে সর্টকাটে ইনকাম করা সম্ভব নয়।
  • কাজ শেখার প্রবল ইচ্ছে শক্তি ও আত্মবিশ্বাস থাকলে  এবং  কম্পিটিটিভ মার্কেটে কাজ করার  মন মানসিকতা থাকলে ফ্রিল্যান্সিং পেশা আপনার জন্য।
  • যারা ফ্রিল্যান্সিং কে খুব সহজ মনে করেন  বা  শেখা  শুরুর ১৫ দিন থেকে  এক মাসের মধ্যে হাজার হাজার ডলার ইনকাম করার  প্রত্যাশা করেন  তাদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং নয়।
  • আপনি যদি  বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং ট্রেনিং সেন্টারের চটকদার  বিজ্ঞাপন যেমন  "ঘরে বসে হাজার হাজার ডলার ইনকাম"  দেখে  ফ্রিল্যান্সিং করতে আসেন দিনশেষে হতাশা নিয়ে ঘরে ফিরবেন।

ফ্রিল্যান্সিং একটি  সম্মানজনক  মুক্তপেশা।  কেউ যদি পর্যাপ্ত স্কিলড  অর্জন করতে পারে তাহলে ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারের মাধ্যমেও ভালো পরিমাণে আয় করা সম্ভব।  এজন্য নতুনদের  এই সব কিছুর মন-মানসিকতা  ও বুঝেশুনে এই সেক্টরে আসা উচিত।
 

2023 সালে ফ্রিল্যান্সিং কতটা কঠিন?

২০২৩ সালে এসেও যারা ফ্রিল্যান্সিং শেখা শুরু করার কথা ভাবছেন তাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে বর্তমানে এই সেক্টরটি অনেক কম্পিপিটিভ এবং গত কয়েক বছরে এর সেক্টরের প্রতিযোগিতা অনেকগুনে বেড়ে গেছে। কিছুদিন আগেও সামান্য কাজ শিখলে  মার্কেটপ্লেসে অনেক ভালো কাজ পাওয়া যেত।  সে ক্ষেত্রে অল্পদিনেই  ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে সম্ভব ছিল।  কিন্তু বর্তমানে  সহজ কোন স্কিল দিয়ে  ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে টিকে থাকা সম্ভব নয়।
 
এজন্য এই সময়ে এসেও যদি ফ্রিল্যান্সিং শেখার কথা ভাবেন অবশ্যই ফ্রিল্যান্সিংয়ের ওপর যথেষ্ট সময় দিতে হবে।  যেমন আগে অল্প সময়ে একটি সাধারণ স্কিল অর্জন করে ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে টাকা উপার্জন করা সম্ভব ছিল।  তবে এখন  ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে ইনকাম করার জন্য  কঠিন কোন বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করতে হবে।  এজন্য সে বিষয়টি শেখার জন্য ১-২ বছর আপনাকে সময় দেওয়া লাগতে পারে। সেই সাথে বেশকিছু মাইন্ডসেট আপনার মধ্যে থাকতে হবে। যেমনঃ
  • কম্পিটিটিভ মার্কেটপ্লেসে কাজ করার ধৈর্য ও দক্ষতা।
  • নিজেকে প্রতিনিয়ত আপডেট রাখতে হবে।
  • প্রতিনিয়ত নতুন কিছু শিখাতে থাকতে হবে।
  • ক্লায়েন্টকে নিজের সর্বোচ্চ টা দিয়ে সার্ভিস দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে।সর্বপরি কোন একটি বিষয়ের উপর এক্সপার্ট হতে হবে।

নতুনরা কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করবেন?

এখানে  নতুনরা ফ্রিল্যান্সিং  কিভাবে শুরু করতে পারে সে ব্যাপারে কিছু  পরামর্শ দেওয়ার চেষ্টা করব।  তবে ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে আসলে প্রথমে প্রচুর ধৈর্য্য ও  পরিশ্রম করার মানসিকতা থাকতে হবে।  রাতারাতি  সাফল্য আর চিন্তাধারা নিয়ে  ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে খুব বেশিদূর এগোতে পারবেন না।  একটি বিষয়ে খুব ভালোভাবেই স্কিলড  হওয়ার পর সেটি  ভালোভাবে ডেলিভারি দেয়ার সক্ষমতা থাকলে  তখনি ফ্রিল্যান্সিং থেকে সফলতা পাওয়া সম্ভব।

তাই  ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য আগে কাজ শিখুন তারপর আই করে চিন্তা ভাবনা মনে আনবেন। নিচে নতুনদের ফ্রীল্যান্সিং শুরু করা নিয়ে কিছু পরামর্শ দেয়া হলোঃ
 

১। নিজের দক্ষতা ও আগ্রহ গুলো সম্পর্কে জানুন

সকলের মধ্যেই কমবেশি কোন বিষয়ের উপর দক্ষতা এবং আগ্রহ থাকে।  এবং নতুনদের ক্ষেত্রে সেটি খুঁজে বের করা সবথেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।  কারণ আপনি যে বিষয়ে কাজ করতে চান সেটির ওপর যদি আপনার আগ্রহ না থাকে  তাহলে সেটা নিয়ে নম্বর সময় কাজ করতে পারবেন না।

এজন্য কাজ শেখা শুরু করার পূর্বে  নিজের প্যাশন খুঁজে বের করার চেষ্টা করুন।  অনেকেই বুঝতে পারেন না  আপনার ঠিক কি বিষয়ে  দক্ষতা এবং আগ্রহ রয়েছে।  এজন্য আপনাকে বিভিন্ন ধরণের কাজ করে দেখতে হবে।  যেমন রাইটিং,  প্রোগ্রামিং,  গ্রাফিক ডিজাইন,  ওয়েবসাইট এন্ড সফটওয়্যার ডেভলপিং, ফটোগ্রাফি, ডিজিটাল মার্কেটিং ইত্যাদি।

এরকম হাজারো কাজ  ফ্রিল্যান্সিং সেক্টর  জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে।  আর এসব কাজ শেখার জন্য  একাডেমিক কোন সার্টিফিকেটের প্রয়োজন নেই।  এজন্য কাজ শেখার আগে নিজের দক্ষতা আগ্রহ খুঁজে বের করুন।

২। সঠিক নিস বাছাই করুন

ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য  দক্ষতা অর্জনের করার সময়  সঠিক বিষয়ের উপর দক্ষতা অর্জন করুন।  এজন্য প্রথমে আপনার  সে বিষয়ের উপর আগ্রহ থাকতে হবে।  তবে শুধু আগ্রহ থাকলে হবে না  আপনি যে কাজটি শিখছেন,  মার্কেটপ্লেসের সে কাজের চাহিদা কেমন রয়েছে সে বিষয়ে রিসার্চ করতে হবে।

আবার অনেক সময় ভালো চাহিদা থাকা সত্ত্বেও  কম্পিটিশন অনেক বেশি হওয়ায় নতুন ফ্রিল্যান্সাররা কাজ  না পেয়ে হতাশ হয়ে থাকেন।  এজন্য  আপনাকে অবশ্যই এমন বিষয়ে পারদর্শী হতে হবে  যে কাজের চাহিদাও রয়েছে এবং  একই সাথে কম্পিটিশন কম রয়েছে।

এজন্য  কোন বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের আগে  সেই কাজের চাহিদা কেমন,  কম্পিটিশন কেমন রয়েছে,   সে কাজের ভবিষ্যৎ চাহিদা কেমন  এবং  আপনি যে কাজে দক্ষতা অর্জন করছেন  তাতে পরিশ্রম অনুযায়ী পারিশ্রমিক পাওয়া যাবে কিনা  সে ব্যাপারে ভালোভাবে  রিসার্চ করতে শিখুন।

৩। যে কোন একটি বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করুন

অনেকে একসাথে অনেকগুলো বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের চেষ্টা করে।  বিশেষ করে নতুনদের মধ্যে এ ধরনের প্রবণতা অনেক বেশি দেখা যায়।  তবে একটি মানুষ কখনো একসাথে একাধিক বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করতে পারে না।  একই সাথে কয়েকটি বিষয়ের উপর সাধারণ জ্ঞান  নেওয়া সম্ভব হলেও  শুধুমাত্র একটি বিষয়ের ওপর এই ভালোভাবে স্কিলড হওয়া পসিবল।

এজন্য ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ শেখার সময়  যেকোনো একটি বিষয়ের উপর আক্রমণ নিয়ে কাজ শিখুন।  একটি কথা মনে রাখবেন  ছোটবেলা থেকে ১৫-২০ পড়ালেখা করে  আপনি একটি চাকরির যোগ্যতা অর্জন করেন।  সেখানে রাতারাতি কাজ শিখে ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে ইনকাম করার মন-মানসিকতা  অনেক টাই হাস্যকর।

এ ধরনের মন মানসিকতা নিয়ে  ফ্রিল্যান্সিং শিখতে হলে  অল্প সময়ে এই প্লাটফর্ম থেকে ছিটকে পড়বেন।  এজন্য আপনার ধৈর্য্যও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে যে কোন একটি বিষয়ে  অপর ভালোভাবে স্কিল্ড হওয়ার চেষ্টা করুন।  তারপর মার্কেটপ্লেসে কাজ খোজার ট্রাই করুন।

৪। ইংরেজি ভাষা শেখা শুরু করুন

আপনি যদি নতুন ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে কাজ শুরু করেন তাহলে অবশ্য ইংরেজি ভাষায় পারদর্শী হওয়ার চেষ্টা করুন।  কারণ ফ্রিল্যান্সিংয়ের বেশিরভাগ কাজই বাহিরের ক্লায়েন্টদের সাথে করতে হয়।  এজন্য আপনার ইংরেজির উপর দক্ষতা যত ভালো হবে  আপনি তথ্য ভালো ক্লায়েন্ট ম্যানেজমেন্ট করতে পারবেন।

অনেক সময়ই কাজের উপর পুরোপুরি দক্ষতা থাকার পরেও  ক্লায়েন্টের থেকে কাজ  না পাওয়ার একটি মাত্র কারণ  ভাষাগত দিক থেকে দুর্বলতা।  এজন্য ক্লায়েন্টের  কাজকে ভালভাবে বুঝে নেয়ার জন্য এবং ভালোভাবে কাজ ডেলিভারি করার জন্য  কমিউনিকেশন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

আর বাহিরের ক্লায়েন্টদের সাথে কমিউনিকেশন করার একমাত্র  উপায় হল  ইংরেজি ভাষা। এজন্য ইংরেজিতে যদি আপনি দুর্বল হয়ে থাকেন  সে ক্ষেত্রে আপনাকে বেশ বিপাকে পড়তে হতে পারে।

এজন্য ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার হিসেবে নিতে চাইলে শুরু থেকেই  ইংরেজির উপর দক্ষতা বাড়ানোর করতে হবে।  ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য এটা  বাধ্যতামূলক একটি স্কিলড।

৫। জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেসে  ফ্রিল্যান্সিং শুরু করুন

ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার সময় নতুনদের মধ্যে আরেকটি ভুল  হল  ভালো মার্কেটপ্লেসে কাজ না খুঁজে এদিক ওদিক থেকে  কাজ খোঁজার চেষ্টা করা।  আবার অনেকে মনে করেন জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেস গুলোতে  কম্পিটিশন অনেক বেশি  এর জন্য এসব মার্কেটপ্লেসে  আপনি কাজ পাবেন না।  তবে এটি একটি ভুল ধারণা।  জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেস যেমন  কম্পিটিশন বেশি তেমনি  ক্লায়েন্টও কাজের চাহিদাও অনেক বেশি।  এছাড়া বাইরে  এদিক ওদিক থেকে থেকে  কাজ খুঁজতে গেলে অনেক সময় স্ক্যামের শিকার হতে পারেন।

এজন্য সব সময়  জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেস গুলোতে কাজ খোঁজার চেষ্টা করুন।  এখানে আমরা নতুনদের জন্য সেরা ৫টি ফ্রীল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস সম্পর্কে চেষ্টা করছি।

1. Fiverr.Com (ফাইবার)

নতুনদের জন্য বর্তমানে সবথেকে জনপ্রিয়  ও বহুল ব্যবহৃত মার্কেটপ্লেস হল  ফাইবার মার্কেটপ্লেস।  ২০১০ সাল থেকে  এই মার্কেটপ্লেসটি  ফ্রিল্যান্সারদের আস্থার  সাথে সার্ভিস দিয়ে যাচ্ছে।  এখানে ডাটাএন্ট্রি থেকে শুরু করে ডিজিটাল মার্কেটিং,  এসইও,  ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট এর মত সহজে কঠিন কাজ পাওয়া যায়।

ফাইবার মার্কেটপ্লেস ফ্রিল্যান্সারদের জন্য  অনেকটাই ইউজার ফ্রেন্ডলি। যেটি  মূলত ৫  ডলারে ফ্রিল্যান্সার পাওয়া যাবে এই ধারণা থেকে তৈরি করা হয়েছিল।  আবার ফাইবারে  কাজের বিট করার জন্য আলাদা কোন অর্থ পরিশোধ করতে হয় না।  এজন্য নতুনদের জন্য সবথেকে উপযুক্ত মার্কেটপ্লেস হলো এটি।

2. Upwork.com (আপওয়ার্ক)

বর্তমান বিশ্বে ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে  আপওয়ার্ক মার্কেটপ্লেস।  আপওয়ার্ক মূলত  ২০১৫ সালে  ওডেস্ক এর সাথে যুক্ত হয়  নতুন নাম নিয়ে বাজারে আসে।  আপওয়ার্ক সবসময়  কোয়ালিটি ফ্রিল্যান্সারদের খোঁজ করে থাকে।

যারা  কোন বিষয়ে খুব ভালো এক্সপার্ট  তারাই শুধুমাত্র আপওয়ার্কে  ভালো কাজ পেয়ে থাকে।  এজন্য  ক্লায়েন্টদের কাছেও আপওয়ার্ক  একটি নির্ভরতার প্রতিষ্ঠান।  এজন্য  আপওয়ার্কে সবসময়  ভালো কোয়ালিটির ক্লায়েন্ট পাওয়া যায়।

আপওয়ার্কে  একটি কাজের চুক্তিভিত্তিক  বা ঘন্টা চুক্তিভিত্তিক হিসেবে  কাজ পাওয়া যায়।  তাই নতুন ফ্রিল্যান্সার হিসেবে  আপনি যদি মনে করেন কোন বিষয়ে  খুব ভালো এক্সপার্ট হয়ে থাকেন  তাহলে আপওয়ার্কের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার শুরু করতে পারেন

3. Freelancer.com (ফ্রিল্যান্সার ডট কম)

বর্তমান সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেস হল  freelancer.com মার্কেটপ্লেস।  এবং নতুনদের জন্য এটি  আদর্শ মানের একটি মারকেটপ্লেস।  কারণ তুলনামূলকভাবে  কম দক্ষতা নিয়েও  এই মার্কেটপ্লেসে কাজ খুঁজতে পারবেন।  এবং এই মার্কেটপ্লেসে অনেক সহজ সহজ কাজ রয়েছে।

বাংলাদেশের প্রায় ৪৪ লক্ষ্য ফ্রিল্যান্সার  freelancer.com মার্কেটপ্লেসে করে থাকে।  এই মার্কেটপ্লেসে  ঘন্টা ভিত্তিক,  তুলনা ভিত্তিক ও  ফিক্সট মূল্য রেট  কাজ পাওয়ার সুবিধা রয়েছে।  freelancer.com  সাইট থেকে  পেপাল,  স্ক্রিল ও ব্যাংক ট্রান্সপোর্ট সিস্টেমের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করা যায়।

4. Guru.com (গুরু ডট কম)

গুরু ডট কম  মার্কেটপ্লেসে  প্রোগ্রামিং,  ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট,  ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড আর্কিটেকচার সেলস ও মার্কেটিং,  এসইও  এই ধরনের কাজ বেশি পাওয়া যায়।  তবে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (এসইও)  এর কাজ সবথেকে বেশি পাওয়া যায়।

monitor.com  নামে প্রতিষ্ঠিত হওয়া ফ্রীল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসটি বর্তমানে গুরু ডট কম নামে  পরিচিত।  এখানেও ঘন্টা ভিত্তিক ও  ফিক্স রেট  এই দুই ধরনের কাজ পাওয়া যায়।  সেইসাথে অনেক বড় ধরনের প্রজেক্ট এর কাজ  এই মার্কেটপ্লেসে পাওয়া যায়।  নতুনদের জন্য এটি একটি ভারো মার্কেটপ্লেস হতে পারে।

5. People Per Hour (পিপল পার আওয়ার)

আজকে উল্লেখ করা  সর্বশেষ জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেস টি হল পিপল পার আওয়ার।  বর্তমানের ফ্রিল্যান্সার ও  ক্লায়েন্ট উভয়ের  ভালো চাহিদা রয়েছে মার্কেটপ্লেস টির উপর।  লন্ডনে ও যুক্তরাজ্যভিত্তিক ই- মার্কেটপ্লেস যেটি ২০০৭  সালে যাত্রা শুরু করে।  অন্যান্য মার্কেটপ্লেসের মতো এখানেও সকল ধরনের ফ্রিল্যান্সিং কাজ পাওয়া যায়।

পিপল পার আওয়ার  মার্কেটপ্লেসে ঘণ্টা চুক্তিতে করতে পারবেন।  সেইসাথে  কোন প্রজেক্টে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে কাজ করতে পারবেন।
 

৬। নিজের পোর্টফোলিও তৈরি করন

নতুনরা ফ্রিল্যান্সিং শুরু করলেও  একটি পেশাদার পোর্টফলিওর ওপর  তেমন গুরুত্ব দেন না।  তবে নতুন হিসেবে কাজ পাওয়ার জন্য পোর্টফোলিও বেশ ভালো কাজ করে।  কারণ একটি পোর্টফোলিও আপনার ট্যালেন্ট অধ্যক্ষ তাকে প্রদর্শন করে থাকে।  বেশিরভাগ ক্লায়েন্ট  কাজ শুরুর পূর্বে পোর্টফোলিও দেখতে চাই।

এজন্য নতুন মার্কেটপ্লেসে  আসার সাথে সাথে  নিচের একটি পোর্টফোলিও তৈরি করুন এবং সেখানে  আপনার কাজের অভিজ্ঞতা  গুলো কে সাজিয়ে তুলুন।  একটি ভাল পোর্টফোলিও  তৈরিতে নিম্নলিখিত  বিষয়গুলো থাকা প্রয়োজন।  যেমনঃ
  • আপনি কে সে সর্ম্পকে বিস্তারিত তথ্য।
  • নিজের দক্ষতা গুলোকে হাইলাইট করে তোলা।
  • কাজের রিভিউও টেস্টিমোনিয়ালগুলো  পোর্টফোলিওতে এড করা।
  • সাম্প্রতিক কাজ করা  প্রজেক্ট সম্পর্কে  পোর্টফোলিওকে  সবসময় আপডেট রাখা।

তবে সবসময়  চেষ্টা করতে হবে পোর্টফলিওকে  ছোট, সৃজনশীল ও  অ্যাট্রাক্টিভ করে তুলে ধরার জন্য।

৭। সময়ের সাথে দক্ষতা বাড়ান

ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসগুলোতে কাজ পাওয়ার জন্য সময়ের সাথে সাথে নিজের দক্ষতা বাড়াতে হবে।  কারণ  মার্কেটপ্লেসগুলোতে কম্পিটিশন অনেক বেশি।  এজন্য  আপনি  আপনার দক্ষতার পুরোটা  না দিতে পারলে  ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার খুব দীর্ঘায়িত করতে পারবেন না।

নতুনদের মধ্যে  একবার কোনকিছু শেখার পর  আর নতুন কিছু শেখার প্রবণতা কমে যায়।  তবে মনে রাখতে একটি বিষয় শিখে  সেটিতে বছরের পর বছর সার্ভিস দিয়ে যেতে পারবেন না।  এজন্য  সময়ের সাথে সাথে আপনার জ্ঞান ও দক্ষতা কে বাড়াতে হবে।

সময়ের সাথে সাথে নিজের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য  নিয়মিত  আপনার সার্ভিস রিলেটেড ব্লগ পড়তে পারেন, ইউটিউবে ভিডিও দেখতে পারেন,  পডকাস্টগুলো শুনতে পারেন,  আপনার কাজ রিলেটেড গ্রুপে যোগদান করতে পারেন,  অনলাইনে  বিনামূল্যে অনেক কোর্স পাওয়া যায় সেগুলো দেখতে পারেন।  মনে রাখতে হবে  দক্ষতা কখনো রাতারাতি গড়ে ওঠে না।  সময়ের সাথে সাথে  ধৈর্য ধরে  অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হয়।

৮। নিজ থেকে  কাজ খোঁজার চেষ্টা করুন

নতুন ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার পর  অনেকেই একটি ভুল করে থাকেন মার্কেটপ্লেসগুলোর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা।  তবে মার্কেটপ্লেস গুলোতে  অতিরিক্ত কম্পিটিশন থাকার কারণে  নতুনদের জন্য  সেখানে কাজ পাওয়া অনেক কঠিন।

এজন্য প্রথম অবস্থায়  মার্কেটপ্লেসে কাজ করার সাথে সাথে  আপনার সার্ভিস রিলেটেড  বিভিন্ন মানুষের সাথে কানেকশন গড়ে তুলতে হবে।  আপনি যত মানুষের সাথে পরিচিত হতে পারবেন  আপনার কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা তত বেশী হতে পারে।

শুধুমাত্র  কাজ শেখায়  ফ্রিল্যান্সিং নয়।  কাজ শেখার পর  একজন ক্লায়েন্ট খুঁজছে  তাকে ঠিকমত কাজ ডেলিভারি  দিয়ে ইনকাম করার নাম হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং।

৯। স্ক্যাম থেকে দূরে থাকুন

বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং এর জনপ্রিয়তা যেমন  বৃদ্ধি পেয়েছে সেইসাথে স্ক্যাম বা প্রতারণাও পরিমানও  অনেক বেড়ে গেছে।  এবং নতুনদের  এই প্রতারণার ফাঁদে আটকানোর সম্ভাবনা অনেক বেশি।  বেশিরভাগ ক্ষেত্রে  চটকদার বিজ্ঞাপন বা  রাতারাতি ইনকামের লোভে  নতুন  ফ্রিল্যান্সাররা এসকল প্রতারণার ফাঁদে পা দিয়ে থাকে।

ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে  বেশিরভাগ মানুষের সঠিক জ্ঞান না থাকার  কারণ কে পুজি করে  বিভিন্ন ট্রেনিং সেন্টার বা  কোর্স বিক্রেতারা  প্রতারনা করে যাচ্ছে।  এজন্য  ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার সময়  এসকল প্রতারণা থেকে সাবধানে থাকতে হবে।  তাই রাতারাতি  ডলার ইনকাম করার মতো বিজ্ঞাপন থেকে  নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করুন।

এবং  প্রতারণা থেকে বাঁচতে  প্রথম অবস্থায় কোন  পেইড কোর্স না কিনে  গুগোল বা ইউটিউব থেকেই  বিস্তারিত জ্ঞান নিতে পারবেন।  বর্তমানে ইউটিউবে অনেক ভিডিও  কোর্স আকারে দেওয়া রয়েছে।  যেগুলো থেকে সহজেই  যেকোনো বিষয়ের নিজের দক্ষতাকে বাড়াতে পারবেন।

সেইসাথে যদি  ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য  কোন ট্রেনিং সেন্টারে ভর্তি হতে চান কিংবা  কোন কোর্স করতে চান  তাহলে অবশ্যই তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়ার চেষ্টা করবেন।
নতুনদের ফ্রিল্যান্সিংয়ে আসার সময় আরও কিছু বিষয় সম্পর্কে অবগত থাকা প্রয়োজন। যেমনঃ
  • কাজ শেখার সময় নিজের সর্বোচ্চ টা দিয়ে কাজ শেখার চেষ্টা করতে হবে
  • মার্কেটপ্লেসে ক্লায়েন্টদের সাথে  ভালো গঠনমূলক  কমিউনিকেশন  গড়ে তোলা শিখতে হবে।
  • নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই ক্লায়েন্টকে সার্ভিস ডেলিভারি করতে হবে।
  • নিজের সার্ভিসের  রিভিউ ও টেস্টিমোনিয়াল  জোগাড় করতে হবে
  • ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস থেকে  আমাদের দেশে পেমেন্ট নিয়ে আসা  বেশ ঝামেলার কাজ।  এজন্য  মার্কেটপ্লেসে কাজ করার জন্য একটি পেমেন্ট একাউন্ট থাকতে হবে।

নতুনদের ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য কোনটি বেশি প্রয়োজন হয়?

নতুনদের ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার জন্য সব থেকে বেশি প্রয়োজন  হল কোন বিষয়ে ভালো দক্ষতা অর্জন করা।  আপনি যদি কোন বিষয়ে  ভালোভাবে দক্ষ না হন  তাহলে মার্কেটপ্লেস এ গিয়ে অনেক চেষ্টা করেও। কাজ খুঁজে পাবেন না।  অনেকেই মনে করেন ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য অনেক ধরনের গেজেট ও ইকুইপমেন্ট প্রয়োজন হয়।  এজন্য  তারা দক্ষতা অর্জন না করে  বিভিন্ন  গ্যাজেট কেনার চিন্তা করেন।

যেটি নতুন অবস্থায় সবথেকে ভুল একটি  সিদ্ধান্ত।  নতুনদের ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য  ভালো তক্ষ তার পাশাপাশি কয়েকটি জিনিসের প্রয়োজন হয়। যেমনঃ

১। একটি ল্যাপটপ বা কম্পিউটারঃ

ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য  আপনার একটি ল্যাপটপ বা কম্পিউটার থাকা অত্যাবশ্যক।  কারণ  ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে যে সকল কাজের  চাহিদা রয়েছে সেগুলো সম্পন্ন করতে  ল্যাপটপ বা কম্পিউটার অবশ্যই দরকার।

অবস্থায় একটি মোটামুটি  কনফিগারেশনের  ল্যাপটপ বা কম্পিউটার দিয়ে ফ্রিল্যান্সিংয়ে যাত্রা শুরু করতে পারেন।  তবে স্কিল  বাড়ানোর সাথে সাথে  এবং  কাজ পাওয়ার চাহিদা  বাড়ার সাথে সাথে  কম্পিউটারের কনফিগারেশন ও বাড়াতে হবে।

তাছাড়া  কিছুকিছু কাজ  যেমন গ্রাফিক্স ডিজাইন,  মোশন গ্রাফিক্স,  অ্যানিমেশনের  মত কাজগুলো করার জন্য একটু  উচ্চ কনফিগারেশনের কম্পিউটার বা ল্যাপটপ প্রয়োজন।

২। দ্রুতগতির ইন্টারনেট  কানেকশনঃ

ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য ল্যাপটপ বা কম্পিউটারের সাথে সাথে  একটি ইন্টারনেট কানেকশন থাকতে হবে।  কারণ  সকল মার্কেটপ্লেসে কাজ করার জন্য ইন্টারনেট কানেকশন এর প্রয়োজন হয়।

তাছাড়া ক্লায়েন্টের সাথে কাজ করার জন্য  প্রজেক্ট নেওয়া বা  ডেলিভারি দেওয়ার জন্য  ভালো স্পিডের আপলোড ও ডাউনলোড  গতি থাকতে হয়।  এজন্য দ্রুতগতির ইন্টারনেট কানেকশন ছাড়া  ফ্রিল্যান্সিং  করা বেশ কষ্টসাধ্য।

৩। কাজ করার পরিবেশঃ

বেশিরভাগ ফ্রিল্যান্সাররাই বাড়িতে বসে কাজ করে থাকেন।  এজন্য অনেক সময়  ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ করার মত  উপযুক্ত পরিবেশ  থাকেনা।  তবে প্রফেশনাল ভাবে ফ্রিল্যান্সিং করতে হলে  অবশ্যই একটি ভাল  কাছের পরিবেশ  দরকার।

এজন্য  ফ্রিল্যান্সিং  কাজ করার জন্য একটি নির্দিষ্ট জায়গা নির্ধারণ করে নিতে হবে।  যেখানে কাজ করার মতো উপযুক্ত পরিবেশ রয়েছে।  এবং হুট করে যেখানে আপনাকে কেউ ডিস্টার্ব করবে না।  অনেক প্রফেশনাল  ফ্রিল্যান্সাররা ব্যক্তিগত অফিস তৈরি করে নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

ফ্রিল্যান্সিং এর সবথেকে সহজ কাজ কোনটি?

নতুন ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে আসলে অনেকের মধ্যে সহজ কাজগুলো শেখার প্রবণতা থাকে।  বেশিরভাগ মানুষই কঠিন কাজ গুলো শিখতে চায় না বরং সহজ কাজগুলো শিখে  তাড়াতাড়ি ইনকাম করার প্রত্যাশা করে।

মার্কেটপ্লেসে বেশ কিছু  সহজ কাজ রয়েছে।  তবে সেগুলো শিখে খুব ভালো পরিমাণে আর্নিং করা সম্ভব নয়।  কারণ  সহজ কাজের জন্য  পারিশ্রমিক অনেক কম হয়ে থাকে  এবং কম্পিটিশন অনেক বেশী হয়ে থাকে।

সহজ কাজ অনেকে পারলেও  কঠিন কাজ সবাই পারেনা।  এজন্য  কঠিন কোন বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করতে পারলে  মার্কেটপ্লেসে আপনার চাহিদা অনেক গুণে বেড়ে যাবে।  তারপরও যারা  সহজ কাজ শিখতে চান তারা নিচের কাজগুলো শিখতে পারেন।
  • ডাটা এন্ট্রির কাজ শেখা।
  • ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড রিমুভ করা শেখা।
  • ক্যানভা ডিজাইন শেখা।
  • ইউটিউব থাম্বেল বানানো শেখা
  • কপি পেস্ট করে ইনকাম

সকল কাজ  যদি একজন প্রফেশনাল ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কেউ রিকমেন্ডেড করবেনা। আপনি চাইলে শিখতে পারেন।  তবে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে মার্কেটপ্লেসে  দীর্ঘ সময় টিকে থাকার জন্য  একটি কঠিন বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করতে হবে।
 

ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে সাধারণ মানুষের যত ভুল ধারণাঃ

বর্তমানে আমাদের দেশে প্রায় ছয় লক্ষ মানুষ  অনলাইনে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করছে।  সেই সাথে নামে-বেনামে প্রায়  ১০ হাজারের বেশি ফ্রিল্যান্সিং ট্রেনিং সেন্টার রয়েছে।  এবং সেখান থেকে  প্রায় ১৫-২০  লাখের মতো ফ্রিল্যান্সার ট্রেনিং প্রাপ্ত।  তবে বেশির ভাগই  ভালো কোন দক্ষতা অর্জন করতে পারেনি।  ট্রেনিং সেন্টারের চটকদার  বিজ্ঞাপনের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে  অনেক ভুল ধারণা রয়েছে। যেমনঃ
  • ফ্রিল্যান্সিং মানেই এক থেকে দুই মাসে ইনকাম শুরু  করা যায়
  • কিছু টাকা দিয়ে একটি কোর্স করলেই  মাসে মাসে হাজার ডলার ইনকাম করা যায়।
  • ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য  টাকা ইনভেস্ট করতে হয়
  • মোবাইল দিয়ে পিটিসি,  ফেক লাইক,  ভিডিও দেখে ইনকাম করাও ফ্রিল্যান্সিং।
  • ট্রেনিং সেন্টারের না গেলে ফ্রিল্যান্সিং শেখা সম্ভব নয়  বা  ট্রেনিং সেন্টার থেকে ট্রেনিং নিলে বেশি ইনকাম করা যায়।

ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে  এসকল ভুল ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।  বিশেষ করে নতুন দের মধ্যে সকল ভুল করার প্রবণতা বেশি। এজন্য ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান লাভ করা অত্যান্ত জরুরী।

নতুনদের ফ্রিল্যান্সিং শেখার সময় সতর্কতা

ফ্রিল্যান্সিং শেখার  ক্ষেত্রে বা ফ্রিল্যান্সিং করে  আয় করার ক্ষেত্রে নতুনরা বেশ কিছু ভুল করে থাকেন। তবে আপনি যদি ফ্রিল্যান্সং ক্যারিয়ারে সফল হতে চান তাহলে এ সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান নিন এবং এসকল ভুল গুলো থেকে নিজেকে বাচিয়ে রাখুন।

ফ্রিল্যান্সিং শেখার ক্ষেত্রে যেসকল ভুল থেকে সতর্ক থাকবেনঃ
  • কোন ফ্রিল্যান্সিং ট্রেনিং সেন্টার  বা কোর্স বিক্রেতার চটকদার  বিজ্ঞাপন থেকে দূরে থাকুন।  এগুলোতে  শুধুমাত্র  টাকা নষ্ট ছাড়া কোন দক্ষতা অর্জন করতে পারবেন না।
  • সেক্ষেত্রে  গুগোল,  ইউটিউব  বা  ব্লগ থেকে  খুঁজে  নিজে কোন বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করার চেষ্টা করুন।
  • যদি কোন ট্রেনিং সেন্টার  বা  কোর্স কিনতেই হয়  তাহলে আগে তাদের  ফ্রিল্যান্সিং ব্যাকগ্রাউন্ড সম্পর্কে জানুন।  তারা ফ্রিল্যান্সার  হিসেবে  কতটা সফল ছিল খোঁজ নিন।
  • সবথেকে ভালো হয় পরিচিত কারও কাছ থেকে পরামর্শ নিতে পারলে।
  • যারা কোর্স করে রাতারাতি হাজার  হাজার ডলার ইনকাম করার লোভ দেখায় তাদের  থেকে দূরে থাকুন।

নতুনদের জন্য আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ থাকবে সেটি হলো শুধু মাত্র চাকরীর পিছনে না দৌড়িয়ে কোনো একটি বিষয়ে ভালো দক্ষতা অর্জন করুন ও এক্সপার্ট হওয়ার চেস্টা করুন। এবং ফ্রিল্যাসিংকে ক্যারিয়ার হিসেবে গ্রহণ করার চেস্টা করুন।
 

শেষ কথাঃ

বর্তমানে প্রতিনিয়তই ফ্রিল্যান্সিং জগতে কেউ না কেউ পা রাখছে।  তবে ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান না থাকায় এবং বিভিন্ন ট্রেনিং সেন্টার বা কোর্স বিক্রেতাদের  প্রতারণার কারণে  বেশিরভাগই সফলতার মুখ দেখতে পায় না।

আবার অনেকেই  রাতারাতি ইনকাম করার  প্রত্যাশায় ফ্রিল্যান্সিং শিখতে এসে ব্যর্থ হয়ে থাকেন।  এজন্য আমাদের সকলের ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে বিস্তারিত  জ্ঞান থাকা প্রয়োজন।

আজকের আর্টিকেলে  নতুনরা কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করতে পারে এবং ফ্রিল্যান্সিং করতে আসার সময় কিরকম মাইন্ডসেট রাখা উচিত  সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা করেছি।

আশা করি  আজকের আলোচনা আপনার ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার কে সমৃদ্ধশালী করতে পারবে।  এবং নতুনদের বিভিন্ন প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা করতে পারবে।
মোঃ আল আমিন

একজন প্যাশনেট ব্লগার ও কন্টেন্ট রাইটার। আমি অবসর সময়ে প্রযুক্তি বিষয়ে লেখালেখি করতে ভালোবাসি।

নবীনতর পূর্বতন