জাতীয় পরিচয় পত্র বা এনআইডি কার্ড
আমাদের জন্য অতি প্রয়োজনীয়। কারণ সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন সুবিধা নিতে এই
কার্ডের প্রয়োজন হয়। এছাড়াও ব্যাংক একাউন্ট, চাকরি, ভ্রমণ, দেশের বাইরে
ভ্রমণ, জমি জমা সংক্রান্ত কাজে, বিভিন্ন লাইসেন্স এর ক্ষেত্রে, মোবাইলের
সিম রেজিস্ট্রেশন ইত্যাদি ক্ষেত্রে এনআইডি কার্ডের প্রয়োজন হয়।
১৮ বছর
বয়স থেকে সকলের এনআইডি কার্ড থাকা জরুরি। আজ আমরা এই আর্টিকেল থেকে নতুন
ভোটার বা নতুন এনআইডি কার্ডের জন্য আবেদনের নিয়ম, যোগ্যতা ও কি কি
কাগজপত্র লাগবে, কিভাবে অনলাইন এপ্লিকেশন করতে হবে সে সম্পর্কে জানবো।

নতুন ভোটারের জন্য আবেদনের যোগ্যতাসমূহঃ
- NID Card আবেদনের জন্য আবেদনকারীকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে।
- নূন্যতম ১৬ বছর বা তার বেশি বয়স হতে হবে।
- পূর্বে জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য নিবন্ধন করা হয়নি।
- আবেদনকারীকে দেশে অবস্থান করতে হবে।
- ১৬ বছর হওয়ার পর আপনি এনআইডি কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারবেন তবে ভোটার হওয়ার জন্য ১৮ বছর বয়স পূর্ণ হতে হবে।
নতুন ভোটার হতে কি কি প্রয়োজনঃ
- PECE, JSC,S.S.C. অথবা সমমানের সার্টিফিকেট এর কপি।
- অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ এর কপি
- পাসপোর্ট অথবা ড্রাইভিং লাইসেন্স ( যদি শিক্ষাগত সনদ না থাকে)
- অভিভাবক অর্থ্যাৎ বাবা, মা, স্বামী/স্ত্রীর আইডি কার্ডের ফটোকপি (অবশ্যই প্রযোজ্য)
- ইউটিলিটি বিলের কপি/বাড়ি ভাড়ার রসিদ/হোল্ডিং ট্যাক্স রসিদ (ঠিকানার প্রমাণপত্র স্বরূপ)
- নাগরিকত্ব সনদ
- নতুন ভোটার অঙ্গীকার নামা (প্রয়োজন অনুসারে)
নতুন ভোটার আইডি কার্ড করার নিয়মঃ
দুইটি পদ্ধতিতে নতুন ভোটার আইডি কার্ড এর আবেদন করা যায়।- অনলাইনে আবেদনের মাধ্যমে।
- উপজেলা নির্বাচন অফিস থেকে আবেদন ফরম সংগ্রহ করে রেজিস্ট্রেশন এর মাধ্যমে।
অনলাইনে এনআইডি কার্ডের আবেদনের পদ্ধতিঃ-
স্টেপ - ১ঃ
অনলাইনে নতুন ভোটার বা নতুন এনআইডি কার্ডের জন্য আবেদন করতে শুরুতেই ভিজিট করুনঃ services.nidw.gov.bd ওয়েবসাইটে।
অনলাইনে নতুন ভোটার বা নতুন এনআইডি কার্ডের জন্য আবেদন করতে শুরুতেই ভিজিট করুনঃ services.nidw.gov.bd ওয়েবসাইটে।
স্টেপ-২ঃ
ওয়েবসাইট টি ওপেন করার পর আপনার নাম, জন্ম তারিখ এবং ফোন নাম্বার দিয়ে আপনার নামে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন। এরপর একে একে আপনার অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য ও ঠিকানা দিয়ে নিবন্ধন ফর্মটি পূরণ করুন।
ওয়েবসাইট টি ওপেন করার পর আপনার নাম, জন্ম তারিখ এবং ফোন নাম্বার দিয়ে আপনার নামে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন। এরপর একে একে আপনার অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য ও ঠিকানা দিয়ে নিবন্ধন ফর্মটি পূরণ করুন।
ফ্রম টি পূরণ করার পর এর সাথে
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গুলো আপলোড দিন এবং আবেদন জমা দিন। এবার আবেদন ফর্মটি
প্রিন্ট আউট করে কাগজপত্র সহ নিকটস্থ উপজেলা নির্বাচন অফিসে জমা দিয়ে দিন।
স্টেপ-৩ঃ
এর পরবর্তীতে আপনার আবেদন ফরমটি যাচাই-বাছাই শেষ হলে আপনাকে আঙ্গুলের ছাপ নেওয়া এবং ছবি তোলার জন্য ডাকা হবে। ছবি তোলার পর আপনাকে একটি স্লিপ প্রদান করা হবে। আপনার বায়োমেট্রিক বা আঙ্গুলের ছাপ প্রদানের কাজ শেষ হলে ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে আপনার আবেদনটি অনুমোদিত হলে অনলাইন থেকে আপনি এনআইডি কার্ডের কপিটি সংগ্রহ করতে পারবেন।
এর পরবর্তীতে আপনার আবেদন ফরমটি যাচাই-বাছাই শেষ হলে আপনাকে আঙ্গুলের ছাপ নেওয়া এবং ছবি তোলার জন্য ডাকা হবে। ছবি তোলার পর আপনাকে একটি স্লিপ প্রদান করা হবে। আপনার বায়োমেট্রিক বা আঙ্গুলের ছাপ প্রদানের কাজ শেষ হলে ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে আপনার আবেদনটি অনুমোদিত হলে অনলাইন থেকে আপনি এনআইডি কার্ডের কপিটি সংগ্রহ করতে পারবেন।
কার্ড টি আপনি অনলাইন থেকে
ডাউনলোড করার মাধ্যমে সংগ্রহ করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে
স্লিপের নাম্বারটি সাথে রাখতে হবে।
এরপর মোবাইল verification এর জন্য একটি মোবাইল নম্বর দিতে হবে। অবশ্যই নাম্বার দেওয়ার সময় আপনার সচল এবং ওই মহুর্তে আপনার সাথে আছে এমন মোবাইল নম্বরটি দিবেন। মোবাইল ভেরিফিকেশনে একটি বাংলাদেশের মোবাইল নাম্বার দিতে বলা হবে। নাম্বারটি ইনপুট করার পর বার্তা বাটনে ক্লিক করলে মোবাইল নাম্বারে ৬ ডিজিটের OTP চলে যাবে। প্রথম বার ওটিপি না গেলে পুনরায় পাঠান বাটনে ক্লিক করতে হবে।
অনলাইনে ভোটার আবেদনের ফরম পূরণঃ
অনলাইনের মাধ্যমে নতুন ভোটার আইডি কার্ডের নিবন্ধন এর জন্য services.nidw.gov.bd ওয়েবসাইটে ভিজিট করতে হবে এবং নতুন ভোটার হওয়ার জন্য আবেদন করতে হবে।ধাপ ০১- একাউন্ট রেজিস্ট্রেশনঃ
শুরুতে লিংকে গিয়ে "NID Application Form" এখানে আপনার নাম, জন্মতারিখ ও capcha কোডটি লিখে বহাল বা সাবমিট বাটনে ক্লিক করুন।এরপর মোবাইল verification এর জন্য একটি মোবাইল নম্বর দিতে হবে। অবশ্যই নাম্বার দেওয়ার সময় আপনার সচল এবং ওই মহুর্তে আপনার সাথে আছে এমন মোবাইল নম্বরটি দিবেন। মোবাইল ভেরিফিকেশনে একটি বাংলাদেশের মোবাইল নাম্বার দিতে বলা হবে। নাম্বারটি ইনপুট করার পর বার্তা বাটনে ক্লিক করলে মোবাইল নাম্বারে ৬ ডিজিটের OTP চলে যাবে। প্রথম বার ওটিপি না গেলে পুনরায় পাঠান বাটনে ক্লিক করতে হবে।
অনেক সময় নেটওয়ার্কের সমস্যা বা সার্ভার ত্রুটির কারণে মেসেজ
যেতে দেরি হয়। ভেরিফিকেশন কোডটি চলে গেলে সঠিক ঘরে বসিয়ে ক্লিক করুন।
ওটিপি গ্রহন করে নিলে এরপর আপনাকে একটি নতুন পেজে নিয়ে যাবে। পরবর্তী
সময়ে আপনার এনআইডি বা ভোটার আইডি কার্ডের সকল তথ্য এসএমএসের মাধ্যমে
জানানো হবে।
ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড সিলেকশনঃ
পরবর্তীতে আপনি যখন আপনার অ্যাকাউন্টটিতে প্রবেশ করতে চাইবেন তখন একটি ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড সেট করতে হবে। অবশ্যই লক্ষ্য করবেন ইউজার নেমটি যেন একটু আনকমন হয়। ভবিষ্যতে আপনার একাউন্টটিতে প্রবেশ করতে, আইডি কার্ড ডাউনলোড করতে অথবা আইডি কার্ড সংশোধন করতে এই ইউজারনেম এবং পাসওয়ার্ড ব্যবহার করতে হবে।
পরবর্তীতে আপনি যখন আপনার অ্যাকাউন্টটিতে প্রবেশ করতে চাইবেন তখন একটি ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড সেট করতে হবে। অবশ্যই লক্ষ্য করবেন ইউজার নেমটি যেন একটু আনকমন হয়। ভবিষ্যতে আপনার একাউন্টটিতে প্রবেশ করতে, আইডি কার্ড ডাউনলোড করতে অথবা আইডি কার্ড সংশোধন করতে এই ইউজারনেম এবং পাসওয়ার্ড ব্যবহার করতে হবে।
ইউজার নেমটি কমপক্ষে ৮ টি সংখ্যার হতে হবে। আপনার ইউজার নেম টি ইউনিক করার জন্য ইংরেজি অক্ষরের পাশাপাশি সংখ্যা ব্যবহার করে আনকমন একটি ইউজার নেম তৈরি করতে পারেন। ইউজার নেমটি দেওয়ার পর যদি ইউজারনেম অলরেডি এক্সিট শো করে তাহলে আপনার ইউজার নেমটি পরিবর্তন করে পুনরায় আবার একটি ইউজারনেম তৈরি করার চেষ্টা করুন।
লক্ষ্য করুনঃ
অবশ্যই আপনার ইউজার নেম এবং পাসওয়ার্ডটি কোথাও নোট করে রাখুন। কারণ আইডি কার্ড সম্বলিত কোন প্রয়োজনে বা আইডি কার্ড ডাউনলোড করতে এই ইউজারনেম এবং পাসওয়ার্ড ব্যবহার করতে হবে।
ধাপ ০২ঃ ব্যক্তিগত তথ্য দিয়ে প্রোফাইল তৈরিঃ-
নতুন ভোটার হওয়ার জন্য নিবন্ধন করতে শুরুতেই আপনার ইউজারনেম এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে ওয়েবসাইটে লগইন করুন। লগইন সম্পন্ন হলে একটি একটি ড্যাশবোর্ড বা ফাঁকা ঘর দেখতে পাবেন।নিজের তথ্য দিয়ে প্রোফাইল তৈরিঃ
এনআইডি সার্ভারের আপনার ব্যক্তিগত তথ্য প্রদান করতে প্রথমে এডিট বাটনে ক্লিক করতে হবে। প্রথমের দিকে সকল তথ্যের স্থান গুলোতে লেখার অপশন থাকবে না। যখন আপনি এডিট বাটনে ক্লিক করবেন তখন সবকটি তথ্য ইনপুট নেওয়ার জন্য রেডি হয়ে যাবে।
ব্যক্তিগত তথ্য পূরণের সময় আপনার নাম বাংলা প্রদান করতে হবে। ইংরেজি নাম সক্রিয়ভাবে হয়ে থাকবে। লিঙ্গ, রক্তের গ্রুপ, জন্ম নিবন্ধন নম্বর প্রদান করতে হবে। জন্ম তারিখ সক্রিয়ভাবে হয়ে থাকবে
এবং জন্মস্থান বাছাই করে সিলেক্ট করতে হবে।
লক্ষ্য করুনঃ
একাউন্ট তৈরি করার সময় নিজের নাম ইংরেজিতে যেমন দেয়া হয়েছে এবং জন্ম তারিখ যা দেওয়া ছিল তা এখানে অটোমেটিক হয়ে যাবে। এটি চাইলেও তথ্য প্রদানের সময় পরিবর্তন করা সম্ভব হবে না।
তাই যদি একাউন্ট তৈরি করার সময় নিজের নাম (ইংরেজি)বানানে ভুল হয় কিংবা জন্ম তারিখে কোন ভুল থাকে। তাহলে অ্যাকাউন্টটি বাতিল করে নতুন মোবাইল নাম্বার ব্যবহার করে আবার একটি সঠিক তথ্য দিয়ে নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে।
পিতার তথ্যঃ
নিজের তথ্য দিয়ে ফরম ফিলাপ করার পর পিতার তথ্য দিতে হবে। এখানে পিতার নাম বাংলা এবং ইংরেজি এবং পিতার এনআইডি কার্ডের নাম্বার দিতে হবে। এখানে অবশ্যই নাম পিতার এনআইডি অনুযায়ী দিতে হবে।
এক্ষেত্রেঃ
- পিতার নাম বাংলায় (আবশ্যিক)
- পিতার নাম ইংরেজিতে (আবশ্যিক)
- পিতার এনআইডি কার্ড নাম্বার (ঐচ্ছিক)
- পিতার ভোটার নাম্বার (ঐচ্ছিক)
- মৃত্যুর সন (পিতা মৃত হলে দিতে হবে)
পিতামৃত হলে পিতার তথ্যের সাথে মৃত লেখা বক্সে টিক মার্ক দিয়ে মৃত্যুর সালটি লিখে দিতে হবে। যেসব তথ্যের সাথে লাল ষ্টার (*)দেওয়া থাকবে সেই সকল তথ্যগুলো অবশ্যই পূরণ করতে হবে।
মাতার তথ্যঃ
অনুরূপভাবে পিতার তথ্যের মতোই মাতার তথ্য পূরণ করতে হবে। এখানেও মাতার তথ্যের ক্ষেত্রে বাংলা এবং ইংরেজি নাম দেওয়া আবশ্যিক।
- মাতার তথ্যপূরণে যা যা লাগবেঃ
- মাতার নাম বাংলায় (আবশ্যিক)
- মাতার নাম ইংরেজি (আবশ্যিক)
- মাতার এনআইডি কার্ড নাম্বার (ঐচ্ছিক)
- মাতার ভোটার নাম্বার (ঐচ্ছিক)
- মৃত্যুর সাল (মৃত হলে)
এভাবে পিতা-মাতার তথ্য দিয়ে ফরম পূরণ করতে হবে। এনআইডি আবেদনের সময় কোন প্রকার ভুল করা যাবে না। কারণ এনআইডি কার্ডে ভুল হলে তার সংশোধন করা ঝামেলা এবং সময় সাপেক্ষ। ভোটার আইডি সংশোধনের জন্য তখন পুনরায় আবেদন করতে হবে।
অভিভাবকের তথ্যঃ
এখানে আপনার অভিভাবকের তথ্য প্রদান করতে হবে। অভিভাবক হিসাবে পিতা কিংবা মাতা দেওয়া উচিত। তবে আপনার অভিভাবক যদি অন্য কেউ হয় সে ক্ষেত্রে অন্য কাউকে দিতে পারেন। আপনার অভিভাবক হিসেবে যার তথ্য দিতে চান এখানে তার নাম ও জাতীয় পরিচয়পত্রের নাম্বার লিখুন। অবশ্যই তথ্যগুলোর নির্ভুলভাবে পূরণ করবেন।
এরপরই চলে আসবে বড় ভাই বা বোনের তথ্য দেওয়ার বক্স। এটি একটি ঐচ্ছিক ফিল্ড। চাইলে আপনি এই ফিল্ডটি পূরণ করতে ওপারেন আবার ফাঁকাও রাখতে পারবেন। এটি পূরণ না করলেও কোন সমস্যা নেই।
বৈবাহিক অবস্থাঃ
আপনি অবিবাহিত হলে আপনার সামনে ড্রপ ডাউন মেনুতে অবিবাহিত সিলেক্ট করুন। আর যদি বিবাহিত হন তাহলে আপনার স্বামী বা স্ত্রীর নাম উল্লেখ করতে হবে। যদি আপনার একাধিক স্ত্রী হয় সে ক্ষেত্রে তাদের তথ্য দেওয়ারও অপশন রয়েছে। স্ত্রী মৃত হলে মৃত্যুর সাল লিখতে হবে।
প্রতিবার তথ্য দেওয়ার পর পুনরায় যাচাই করে নিবেন কোথাও কোনো ভুল তথ্য লিপিবদ্ধ হলো কিনা। সব তথ্য সঠিক থাকলে তারপরই পরবর্তী বাটনে ক্লিক করবেন।
ধাপ ০৩ঃ অন্যান্য তথ্যঃ
অন্যান্য তথ্যের ঘরে আপনাকে অবশ্যই পূরণ করতে হবে এমন তথ্যগুলো হল শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশা এবং ধর্ম। আবেদনকারী কোন প্রকার শারীরিক প্রতিবন্ধী হলে তা অসমর্থতার ঘরে সিলেক্ট করে দিতে হবে।এখানেঃ
- শিক্ষাগত যোগ্যতা (আবশ্যিক)
- পেশা (আবশ্যিক)
- ধর্ম (আবশ্যিক)
- সনাক্তকরণ চিহ্ন (যদি থাকে)
- অসমর্থতা (যদি প্রয়োজন হয়)
- ড্রাইভিং লাইসেন্স (যদি থাকে)
- পাসপোর্ট নাম্বার (যদি থাকে)
- টিন নাম্বার (যদি থাকে)
এখানে আপনি কত দূর পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন সেই সকল তথ্য শিক্ষাগত যোগ্যতার ঘরে লিখতে হবে। কোন প্রকার শারীরিক প্রতিবন্ধী হলে তা উল্লেখ করতে হবে। শরীরে কোন প্রকার সনাক্তকরণ চিহ্ন থাকলে তা বিবরণ লিখে দিতে হবে। সকল তথ্য পূরণ করার মাধ্যমে ধাপটি সম্পন্ন করতে হবে।
ধাপঃ৪ঃ ঠিকানা
ঠিকানা দেওয়ার সময় আপনার বর্তমান এবং স্থায়ী ঠিকানার তথ্য দিতে হবে। এই অংশটি আপনাকে অবশ্যই গুরুত্ব সহকারে পূরণ করতে হবে। প্রথমেই আপনাকে অবস্থানরত দেশ সিলেক্ট করে দিতে হবে। এরপর পরবর্তীতে আপনার বর্তমান এবং স্থায়ী ঠিকানা আলাদা হলে আপনি যেই ঠিকানায় ভোটার হতে ইচ্ছুক সেটি ভোটার ঠিকানা হিসেবে টিক চিহ্ন দিয়ে নির্বাচন করে দিন।আপনি এখানে যে ঠিকানাটি বাছাই করবেন সেই ঠিকানায় ভোটার তালিকার মধ্যে আপনার নাম আসবে। নির্বাচনের সময় আপনি ওই ঠিকানায় ভোট দিতে পারবেন।
বর্তমান ঠিকানাঃ
বর্তমান ঠিকানার স্থানে আপনার বর্তমান ঠিকানা প্রদান করুন। বর্তমান ঠিকানার ক্ষেত্রেও আপনি স্থায়ী ঠিকানাটি দিতে পারেন। কারণ বর্তমান ঠিকানা আর স্থায়ী ঠিকানা এক হতেই পারে এতে কোন সমস্যা নেই।
তবে আপনার বর্তমান ও ইচ্ছায় ঠিকানা ভিন্ন হলে আপনার ঠিকানা অনুসারে বিভাগ জেলা উপজেলা ইউনিয়ন সকল তথ্য সঠিকভাবে প্রদান করুন।
ঠিকানা প্রদানের সময় আপনার শুধুমাত্র স্থান সিলেক্ট করলেই হবে। আলাদাভাবে লিখে ঠিকানা প্রদান করতে হবে না। বিভাগের বক্সে গিয়ে চাপলেই সবগুলো বিভাগ সামনে চলে আসবে সেখান থেকে আপনি আপনার বিভাগটি বাছাই করে সিলেক্ট করে দিবেন। একইভাবে আপনার জেলা, উপজেলা এবং ইউনিয়ন প্রতিটি বক্সে বাছাই করে দিন।
স্থায়ী ঠিকানাঃ
বর্তমান ঠিকানার মতোই আপনার স্থায়ী ঠিকানা নিয়ে তথ্য দিয়ে এটি পূরণ করতে হবে। ঠিকানা সিলেক্ট করার সময় নিচের পর্যায়ক্রম অনুসরণ করে পূরন করতে পারবেন।
- বিভাগ
- জেলা
- উপজেলা
- আর.এম.ও
- ইউনিয়ন
- মৌজা
- গ্রাম/রাস্তা
- বাসা/হোল্ডিং
- পোস্ট অফিস
- পোস্ট কোড
- ভোটার এরিয়া
লক্ষ্য করুনঃ
অবশ্যই মনে রাখবেন নতুন ভোটার হওয়ার জন্য আবেদন করার সময় অনলাইনে কোন ডকুমেন্ট জমা দিতে হয় না। সকল ডকুমেন্টস উপজেলা নির্বাচন অফিসে জমা দিতে হয়। তাই এর পরের ধাপটি পুরো না করে পরবর্তী ধাপে চলে যেতে হবে। প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র নির্বাচন অফিসে জমা নেবে।
ধাপ ৫ঃ আবেদন সাবমিট
আপনার নতুন ভোটার হওয়ার আবেদনটি সাবমিট করার জন্য সাবমিট বাটনে ক্লিক করতে হবে। আপনার সম্পূর্ণ আবেদন ফরমটি পূরণ করা হয়ে গেলে চূড়ান্ত আবেদনের জন্য ফাইনাল সাবমিট এ ক্লিক করতে হবে। এভাবে আপনার আবেদনটি এনআইডি সার্ভারে সাবমিট হয়ে যাবে।যদি আপনার কোন তথ্য দিতে মনে না থাকে বা কোন তথ্য ভুল হয়। সেক্ষেত্রে আপনি ব্যাক বাটনে গিয়ে পুনরায় তথ্যটি সঠিকভাবে প্রদান করে আবার তথ্যগুলো সাবমিট করতে পারবেন। এক্ষেত্রে আপনাকে তথ্যগুলো প্রদান করে আবার আবেদন ফরমটি চূড়ান্তভাবে সাবমিট করতে হবে।
ধাপ ৬ঃ আবেদন কপি ডাউনলোডঃ
আবেদন টি চূড়ান্তভাবে সাবমিট শেষ হলে আপনি মনিটরে আবেদন কপি ডাউনলোডের জন্য একটি অপশন দেখতে পাবেন। ডাউনলোড বাটনে ক্লিক করলে আবেদন কপিটি আপনি ডাউনলোড করে নিতে পারবেন।এই আবেদন কপি কি প্রিন্ট আউট করে এর সাথে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস বা কাগজপত্র নিয়ে সেটি উপজেলা নির্বাচন কমিশন অফিসে জমা দিতে হবে। নির্বাচন অফিস কর্তৃক যেসকল কাগজপত্র সহ আবেদন কপিটি জমা দিতে বলা হবে সে সকল কাগজপত্র সহ কপিটি জমা দিতে হবে।
তথ্যের সত্যতা যাচাই ও বায়োমেট্রিক তথ্য প্রদানঃ
এই অংশে আপনার আবেদনটি উপজেলা বা জেলা নির্বাচন কমিশন অফিসে যাচাই বাছাই করা হবে। যাচাই করার জন্য তারা আপনার সাথে যোগাযোগ করতে পারে। সব তথ্য এবং কাগজপত্র ঠিক থাকলে আপনাকে বায়োমেট্রিক প্রদানের জন্য জানানো হবে।
আবেদন ফর্মটি যাচাই-বাছাই শেষে আপনার Biometric Information নেয়ার জন্য ডাকা হবে এবং এর ১৪ দিন থেকে ১মাস পরেই আপনার আবেদনটি অনুমোদিত হয়েছে কি জানানো হবে। জানানো হলেই আপনি অনলাইন থেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি ডাউনলোড করে নিতে পারবেন।
নতুন ভোটারের জন্য আবেদন করতে প্রয়োজনীয় বিষয়ঃ
অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করুন অথবা সরাসরি উপজেলা নির্বাচন কমিশন অফিস থেকে করুন,যেখানেই করুন না কেনো ভোটার নিবন্ধন ফরমে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থাকে। সেগুলা হলো শনাক্তকারী এবং যাচাইকারীর তথ্য।আবেদন ফর্মে ৩৪ নং ক্রমিক এ শনাক্তকারী হিসেবে আপনার প্রতিবেশি অথবা কোনো একজন ব্যক্তির নাম ও এনআইডি নম্বর লিখতে হবে। এছাড়া ফর্মে ৪০ নং ক্রমিক এ যাচাইকারী হিসেবে আপনার এলাকার জনপ্রতিনিধি, চেয়ারম্যান, মেম্বার বা কাউন্সিলরের নাম, স্বাক্ষর ও NID নম্বর দেওয়ার প্রয়োজন হবে। এই যাচাইকারী এবং শনাক্তকারীর তথ্য সঠিকভাবে অবশ্যই পূরণ করতে হবে।
নতুন ভোটারের অঙ্গীকার নামাঃ
যে সকল নতুন ভোটারের বয়স একটু বেশি তাদের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন অফিস থেকে একটি অঙ্গীকার নামা চাইতে পারে। এই অঙ্গীকার নামা টি এজন্য চাওয়া যে, তিনি পূর্বে কখনোই ভোটার এর জন্য নিবন্ধন করেননি এবং এখন প্রথম ভোটার হওয়ার জন্য আবেদন করছেন। পরবর্তীতে একাধিকবার ভোটার হওয়ার কোনোরূপ
প্রমাণ পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হলে
তিনি তা মেনে নিতে বাধ্য থাকবেন।সকলের ক্ষেত্রে অঙ্গীকারনামায় প্রয়োজন
নেই।
Frequently Ask Question:
নতুন ভোটার হওয়ার জন্য কি কি কাগজ প্রয়োজন?নতুন
ভোটার হওয়ার জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমানপত্র হিসেবে সনদ বা
সার্টিফিকেট, জন্ম নিবন্ধন ( ডিজিটাল কপি),। পিতা, মাতা বা স্বামী/স্ত্রীর
এনআইডি কার্ডের ফটোকপি (অবশ্যই) লাগবে। এছাড়াও নাগরিকত্ব সনদ, বাবা ব্যতীত
রক্তের সম্পর্ক আছে এমন ৩ জনের জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি। এবং ইউটিলিটি
বিল(বিদ্যুৎ /গ্যাস/পানি) /বাড়ি ভাড়ার রসিদ/হোল্ডিং ট্যাক্স রশিদ যেকোন
একটা সাথে রাখুন।
নতুন ভোটার আইডি কার্ড কিভাবে কোথা থেকে পাবো?
ভোটার
এর জন্য নিবন্ধন আবেদন টি অনুমোদিত হলেই আপনি অনলাইনে NID Account
Registration করে ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড করতে পারবেন।
নতুন ভোটার আবেদন করার কতদিন পর অনলাইন থেকে ভোটার আইডি কার্ডের কপি পাওয়া যায়?
নতুন ভোটার এর নিবন্ধন এর জন্য আবেদন করার ৩০ থেকে ৪৫ দিন পরই অনলাইন কপি সংগ্রহ করতে পারবেন।
বিভিন্ন ডকুমেন্টসে আপনার ভিন্ন নাম ও বয়স উল্লেখ থাকলে এমতাবস্থায় কোন তথ্যটি ভোটার রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে?
আপনার নাম এবং বয়সের ক্ষেত্রে SSC বা তার সমমানের পরীক্ষার সনদে উল্লেখিত
বয়স ও নাম। তবে ভবিষ্যতে ৫ম/৮ম সমাপনী পরীক্ষার সনদও গ্রহণযোগ্য হতে
পারে।। কারণ লেখাপড়া জানা না থাকলে জন্ম সনদ, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স
ইত্যাদি দিয়েও আবেদন করা যাবে।
নতুন ভোটার হওয়ার জন্য কত টাকা লাগে?
নতুন ভোটার হওয়ার জন্য কোন টাকা প্রয়োজন হয় না এটি সরকারি ভাবে সকল প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের জন্য ফ্রি তে করে দেওয়া হয়।