এন্ট্রি মিড লেভেল বাজেটে ইনফিনিক্সের স্মার্টফোন দিন দিনন পপুলার হয়ে উঠছে। মূলত অল্প বাজেটে ভালো স্পেসিফিকেশন ও সুন্দর ডিজাইনের জন্য ইনফিনিক্স ফোন বেশ জনপ্রিয়। অন্যান্য ফোনের থেকে বেশ অল্প দামে ভালো স্পেসিফিকেশন দিচ্ছে ইনফিনিক্স ব্রান্ডের ফোন। তেমনি আজকের পোস্টে ইনফিনিক্সের একটি জনপ্রিয় ফোন নিয়ে কথা বলব Infinix Hot 30 ফোনটি।
অসাধারণ ডিজাইন ও ভালো স্পেসিফিকেশনের সাথে দামও তুলনামূলক কম রয়েছে স্মার্টফোনটির। আজকের পোস্টে Infinix Hot 30 স্মার্টফোনের বিস্তারিত স্পেসিফিকেশন ও ভালো খারাপ দিকগুলো নিয়ে আলোচনা করার চেস্টা করব। সেই সাথে স্মার্টফোনটি কাদের জন্য কেনা ভালো হবে সে ব্যাপারেও জানানোর চেস্টা করব। প্রথম এক নজরে Infinix Hot 30 ফোনের স্পেসিফিকেশনগুলো জেনে নেওয়া যাক।
অসাধারণ ডিজাইন ও ভালো স্পেসিফিকেশনের সাথে দামও তুলনামূলক কম রয়েছে স্মার্টফোনটির। আজকের পোস্টে Infinix Hot 30 স্মার্টফোনের বিস্তারিত স্পেসিফিকেশন ও ভালো খারাপ দিকগুলো নিয়ে আলোচনা করার চেস্টা করব। সেই সাথে স্মার্টফোনটি কাদের জন্য কেনা ভালো হবে সে ব্যাপারেও জানানোর চেস্টা করব। প্রথম এক নজরে Infinix Hot 30 ফোনের স্পেসিফিকেশনগুলো জেনে নেওয়া যাক।

এক নজরে Infinix Hot 30 ফোনের স্পেসিকেশনঃ
- ৬.৭৮ ইঞ্ছির ফুল এইচডি+ আইপিএস এলসিডি ডিসপ্লে।
- ৯০ হার্জ ডিসপ্লে রিফ্রেশরেট
- MediaTek Helio G88 প্রসেসর (12nm)
- ৪/৮ জিবি র্যাম।
- ১২৮ জিবি স্টোরেজ।
- রিয়ারে ৫০ মেগাপিক্সেল মেইন ক্যামেরা।
- সামনে ৮ মেগাপিক্সেলের সেলফি ক্যামেরা।
- ৫০০০ মিলিএম্প ব্যাটারি।
- সাথে রয়েছে ৩৩ ওয়াটের ফাস্ট চার্জার।
Infinix Hot 30 Price in Bangladesh
Infinix Hot 30 স্মার্টফোনটি বাংলাদেশ মার্কেটে অফিশিয়াল ভাবে দুটি ভ্যারিয়েন্টে পাওয়া যাবে। ৪জিবি+১২৮জিবি স্টোরেজে যার অফিশিয়াল দাম ১৪,৯৯৯ টাকা ও ৮জিবি+১২৮জিবি স্টোরেজে যার অফিশিয়াল দাম ১৭,৪৯৯ টাকা।
ডিজাইনঃ
Infinix Hot 30 স্মার্টফোনের ডিজাইন এই বাজেট হিসেবে অনেক সুন্দর বলা চলে। পানস-হোল স্টাইলের ডিসপ্লে সহ স্মার্টফোনের পিছনে সুন্দর ক্যামেরা হাউজের সাথে সুন্দর টেক্সার চোখে পড়বে। Infinix Hot 30 স্মার্টফোনের বডি ও ফ্রেম বরাবরের মতো প্লাস্টিক বা পলিকার্বনেটের তৈরি এবং ফ্রন্টপ্যানেল গ্লাস বিল্ড করা হয়েছে।১৯৬ গ্রাম ওজনের এই স্মার্টফোনের থিকনেস ৮.৪ মিলিমিটার। অর্থাৎ বেশ স্লিম ও স্টাইলিশন দেখতে স্মার্টফোনটি। তবে ফোনে কোনো ধরণের প্রটেকশন কিংবা ওয়টার রেজিস্টেন্স সার্টিফিকেট নেই।
স্মার্টফোনটি Racing Black, Surfing Green, Sonic White, Free Fire মোট চারটি কালারে পাওয়া যাবে।
ডিসপ্লেঃ
Infinix Hot 30 স্মার্টফোনে ৬.৭৮ ইঞ্ছির একটি ফুল এইচডি+ আইপিএস এলসিডি টাচস্ক্রিন প্যানেলের ডিসপ্লে দেওয়া হয়েছে। ডিসপ্লের রেজুলেশন ২৪৬০x১০৮০ পিক্সেল। এবং পিক্সেল ডেনসিটি ৩৯৬ পিপিয়ায়। সেই সাথে ফোনে ৯০ হার্জ ডিসপ্লে রিফ্রেশরেট সাপোর্ট করে।তবে স্মার্টফোনের ডিসপ্লেতে কোনো ধরণের গরিলা গ্লাসের প্রটেকশন দেওয়া হয়নি। ডিসপ্লের উপরে ঠিক মাঝখানে একটি ছোট্ট পানস-হোল সেলফি ক্যামেরা দেওয়া হয়েছে।
প্রসেসরঃ
Infinix Hot 30 স্মার্টফোনে প্রসেসর হিসেবে MediaTek Helio G88 দেওয়া হয়েছে। এটি একটি অক্টাকোর প্রসেসর যেটি ১২ ন্যানোমিটার আর্কিটেক্সারে বিল্ড করা একটি প্রসেসর। সেই সাথে ফোনের জিপিইউ হিসেবে Mali-G52 ব্যবহার করা হয়েছে।ফোনের অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে লেটেস্ট Android 13 এবং ইউয়াই হিসেবে দেওয়া হয়েছে XOS 12.6
ক্যামেরাঃ
Infinix Hot 30 স্মার্টফোনের রিয়ার প্যানেলে ডুয়াল ক্যামেরা সেটাপ লক্ষ্য করা যায়। যেখানে মেইন ক্যামেরা ৫০ মেগাপিক্সেলের। এবং আরেকটি ক্যামেরা একোটি AI ক্যামেরা। মেইন ক্যামেরাতে পিডিএএফ, কোয়াড এলইডি ফ্ল্যাশ, এইচডিয়ার সহ অনেক ধরণের ফিচার দেওয়া হয়েছে।মেইন ক্যামেরা দিয়ে সর্বোচ্চ কোয়াড এইচডি (1440p) কোয়ালিটিতে ভিডিও শুট করা যাবে। তবে ভিডিও রেকডীং্যে কোনো ধরণের স্টেবিলাইজেশন নেই। তবে ফিচার হিসেবে স্লো মোশন কিংবা টাইমল্যাপ্স এ ভিডিও শুট করার সুবিধা রয়েছে।
ফোনের সামনে ২.৫ অ্যাপেচারের ৮ মেগাপিক্সেলের সেলফি ক্যামেরা দেওয়া হয়েছে। সেলফি ক্যামেরাতেও ফিচার হিসেবে ডুয়াল-এলইডি ফ্ল্যাশ দেওয়া হয়েছে। সেলফ ক্যামেরা দিয়ে সর্বোচ্চ ফুল এইচডি (1080p) কোয়ালিটিতে ভিডিও শুট করা যাবে।
স্টোরেজঃ
Infinix Hot 30 স্মার্টফোনে ৪/৮ জিবি র্যাম দেওয়া হয়েছে এবং ১২৮ জিবি স্টোরেজ দেওয়া হয়েছে। সেই সাথে ফোনে আলাদা ভাবে ডেডিকেটেড মেমরী কার্ড ব্যবহার করার সুবিধা রয়েছে।ব্যাটারীঃ
Infinix Hot 30 স্মার্টফোনে ৫০০০ মিলিএম্পের নন-রিমুভএবল ব্যাটারী দেওয়া হয়েছে। সেই সাথে ফোনে ফোনে ৩৩ ওয়াটের ফাস্ট চার্জার দেওয়া হয়েছে। এই ৩৩ ওয়াটের চার্জার দিয়ে স্মার্টফোনটি ৩০ মিনিটে ৫৫% পর্যন্ত চার্জ করা যাবে বলে দাবি করছে।ফোনের ব্যাটারী ব্যাকাপের কথা বললে একবার চার্জ করে ফোনটি মোতামুটি ব্যবহারে প্রায় দেড়-দিন অনায়েসে চালানো যাবে। এবং হেভি ইউজে স্ক্রিন অন টাইম ৫-৬ ঘন্টা পাওয়া যাবে।
অন্যান্যঃ
Infinix Hot 30 স্মার্টফোনে সিকিউরিটি হিসেবে সাইড-মাউন্টেড ফিংগারপ্রিন্ট সেন্সর দেওয়া হয়েছে। সেই সাথে ফোনে ফেস আনলক সহ সকল ধরণের সিকিউরিটি সেন্সর দেওয়া হয়েছে। দেওয়া হয়নি নোটিফিকেশন লাইট।স্মার্টফোনে স্পিকার হিসেবে স্টেরিও স্পিকার দেওয়া হয়েছে। সেই সাথে ৩.৫মিমি অডিও ইয়ারফোনের জ্যাক দেওয়া হয়েছে।
ফোনে ৪জি সাপোর্টেড ডুয়াল ন্যানো সিম কার্ড দেওয়া হয়েছে। সেই সাথে ডুয়াল ব্যান্ড ওয়াইফাই ও ব্লুতুথ ভার্সন ৫.০ দেওয়া হয়েছে। সেই সাথে ইউএসবি টাইপ-সি পোর্ট সহ ওটিজি ও এনএফসির মতো সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
তোহ এই ছিল Infinix Hot 30 ফোনের পুরো স্পেসিফিকেশন। এখন এই ফোনের ভালো ও খারাপ দিক গুলো নিয়ে কথা বলা যাকঃ
ভালো দিকঃ
- ৬.৭৮ ইঞ্ছির বড় ফুলএইচডি+ কোয়ালিটি ডিসপ্লে।
- ৯০ হার্জ ডিসপ্লে রিফ্রেশরেট।
- স্লিম ও স্টাইলিশ ডিজাইন
- বড় ব্যাটারী ও ৩৩ ওয়াটের ফাস্ট চার্জার
- পাওয়ারফুল চিপসেট ও বেশি র্যাম
- স্টেরিও স্পিকার ও Android 13 ভার্সন
খারাপ দিকঃ
- ডিসপ্লে প্রটেকশন দেওয়া হয়নি।
- ক্যামেরা কোয়ালিটি আরো ভালো হতে পারত।
কাদের জন্য কেনা উচিত?
যারা মূলত অল্প বাজেটে ভালো স্পেসিফিকেশন স্মার্টফোন কিনতে চান এবং দেখতে স্টাইলিশ হতে পারে তারা চাইলে Infinix Hot 30 ফোনটি কিনতে পারেন। সেই সাথে ফোনের পারফরমেন্স ভালো চান এবং ভালো ডিসপ্লে কোয়ালিটি ও ভালো ব্যাটারী ব্যাকআপ পেতে চান এবং টুকটাক ফটোগ্রাফি করে থাকে তারা চাইলে স্মার্টফোনটি কিনতে পারেন।Frequently Ask Question
প্রশ্নঃ Infinix Hot 30 ফোনের বাংলাদেশে দাম কত?Infinix Hot 30 স্মার্টফোনটি বাংলাদেশ মার্কেটে অফিশিয়াল ভাবে দুটি ভ্যারিয়েন্টে পাওয়া যাবে। ৪জিবি+১২৮জিবি স্টোরেজে যার অফিশিয়াল দাম ১৪,৯৯৯ টাকা ও ৮জিবি+১২৮জিবি স্টোরেজে যার অফিশিয়াল দাম ১৭,৪৯৯ টাকা।
প্রশ্নঃ Infinix Hot 30 ফোনে কোন প্রসেসর দেওয়া হয়েছে?
Infinix Hot 30 স্মার্টফোনে MediaTek Helio G88 (12nm) প্রসেসর ব্যবহার করা হয়েছে।
প্রশ্নঃ Infinix Hot 30 স্মার্টফোনে কত মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা রয়েছে?
Infinix Hot 30 স্মার্টফোনের রিয়ারে ৫০ মেগাপিক্সেলের ডুয়াল ক্যামেরা সেটাপ দেওয়া হয়েছে এবং সামনে ৮ মেগাপিক্সেলের সেলফি ক্যামেরা দেওয়া হয়েছে।
প্রশ্নঃ Infinix Hot 30 ফোনে কত মিলিএম্পের ব্যাটারি দেওয়া হয়েছে?
Infinix Hot 30 ফোনে ৫০০০ মিলিএম্পের ব্যাটারি রয়েছে এবং সাথে ৩৩ ওয়াটের ফাস্ট চার্জার দেওয়া হয়েছে।