বর্তমানে ব্লগিং বেশ জনপ্রিয় একটি মাধ্যম টাকা ইনকাম করার জন্য। তবে কম্পিটিশন বাড়ার কারণে ব্লগ থেকে টাকা ইনকাম করা বেশ কঠিন হয়ে গেছে। সেইসাথে গুগলের বিভিন্ন ধরনের আপডেট আসায় বেশিরভাগ ব্লগে ট্রাফিক অনেকটাই কমে গেছে।
নতুন ব্লগাররা ব্লগের ট্রাফিক আনা শিখলেও শুধুমাত্র এডস দেখিয়ে ইনকাম করার উপায় সম্পর্কে জানে। তবে শুধু একটি মাধ্যমে ব্লগ থেকে সেভাবে ইনকাম করা সম্ভব নয়। একটি ব্লগ থেকে এডস দেখানো বাদেও আরো অনেক ধরনের পদ্ধতি রয়েছে ইনকাম করার।
আজকের আর্টিকেল এর আলোচনার মূল বিষয় হলো ব্লগ থেকে ইনকাম করার ৯টি সিম্পল পদ্ধতি সম্পর্কে জানানোর চেষ্টা করা। এই মেথড গুলো ব্যবহার করে অল্প ভিজিটরেও আপনার ব্লগ থেকে ভালো পরিমাণে ইনকাম করতে পারবেন।
নতুন ব্লগাররা ব্লগের ট্রাফিক আনা শিখলেও শুধুমাত্র এডস দেখিয়ে ইনকাম করার উপায় সম্পর্কে জানে। তবে শুধু একটি মাধ্যমে ব্লগ থেকে সেভাবে ইনকাম করা সম্ভব নয়। একটি ব্লগ থেকে এডস দেখানো বাদেও আরো অনেক ধরনের পদ্ধতি রয়েছে ইনকাম করার।
আজকের আর্টিকেল এর আলোচনার মূল বিষয় হলো ব্লগ থেকে ইনকাম করার ৯টি সিম্পল পদ্ধতি সম্পর্কে জানানোর চেষ্টা করা। এই মেথড গুলো ব্যবহার করে অল্প ভিজিটরেও আপনার ব্লগ থেকে ভালো পরিমাণে ইনকাম করতে পারবেন।

চলুন জেনে নেওয়া যাক ব্লগ থেকে ইনকাম করার জন্য ৯টি মেথড আপনি সহজেই ব্যবহার করতে পারেন।
১। এডস দেখানো বা গুগল এডসেন্স
একটি ব্লগ থেকে ইনকাম করার প্রথম সবথেকে জনপ্রিয় পদ্ধতি হল এডস দেখানো। এবং সব থেকে জনপ্রিয় এডস দেখানোর মাধ্যম হ্যালো গুগল এডসেন্স। আপনারা যখন বিভিন্ন ধরনের ব্লগ পড়তে চান তার মাঝে মাঝে ধরনের এডস দেখা যায়। এসকল অ্যাডসে কেউ যদি ক্লিক করে তাহলে সেখান থেকে প্রাপ্ত রেভিনিউ গুগল এডসেন্স কিছুটা নিজের কাছে রাখে এবং বাকিটা পাবলিশারকে দিয়ে দেয় যে আসলে ওই ব্লগের মালিক।এভাবে অনেক ব্লগের পাবলিশার গুগল এডসেন্স এর মাধ্যমে টাকা ইনকাম করে থাকে। গুগল এডসেন্স একমাত্র এডস পাবলিশার কোম্পানি নয়। তবে এটি সবথেকে জনপ্রিয় ও ট্রাস্টেড একটি পাবলিশার মিডিয়া। কারণ এর সাথে গুগলের সম্পর্ক রয়েছে এবং এর পাবলিশার নেটওয়ার্ক অনেক বড়।
তবে এডস দেখানোর জন্য গুগল অ্যাডসেন্স ছাড়াও অনেকগুলো বিকল্প পাবলিশার মিডিয়া রয়েছে। তার মধ্যে জনপ্রিয় কিছু পাবলিশের মিডিয়া হলোঃ
- Taboola
- Media.net
- Adthrive ইত্যাদি।
এ সকল সাইট ছাড়াও আরো অনেক পাবলিশার মিডিয়া রয়েছে যেগুলো গুগল এডসেন্স এর বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব।
২। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং
বিজ্ঞাপন দেখে ইনকাম করার পর একটি ব্লগ থেকে ইনকামের সবথেকে জনপ্রিয় মাধ্যম হলো অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে ইনকাম করা। এটিও একটি ব্লগ থেকে ইনকাম করার একটি জনপ্রিয় পদ্ধতি।মনে করুন আপনার একটি ব্লগ সাইট রয়েছে এবং আপনি চাচ্ছেন সেখানে কোন একটি প্রতিষ্ঠান প্রডাক্ট কিংবা সার্ভিস প্রমোট করাতে কিংবা বিক্রি করিয়ে দিতে। তো কোন ইউজার যদি আপনার মাধ্যমে কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে প্রোডাক্ট ও সার্ভিস কিনে তখন ওই প্রতিষ্ঠান আপনাকে কিছুটা কমিশন দিয়ে থাকে। মূলত অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং নামে পরিচিত।
ব্লগ থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে এফিলিয়েট মার্কেটিং করে। তার অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট অন্যতম। এছাড়া অনেকেই তাদের ব্লগের কনটেন্ট অনুযায়ী অনেক ধরনের প্রতিষ্ঠানের এফিলিয়েট মার্কেটিং করে থাকে।
অনেকেই বিভিন্ন রিভিউ ব্লগ লিখে থাকেন। অনেকে প্রোডাক্টের রিভিউ লেখেন কিংবা বিভিন্ন প্রোডাক্ট এর তুলনা করে থাকেন এবং এসইও করার মাধ্যমে গুগল থেকে ফ্রিতে নিয়ে আসে। এবং কনটেন্ট এর মধ্যে কোন জায়গায় এফিলিয়েট লিংক দিয়ে থাকে। কোন ভিজিটর যদি তার রিভিউ পছন্দ করে তখন একটি চান্স থাকে তার মাধ্যমে প্রোডাক্টটি কেনার। এবং তখন সে ব্লগের মালিক কিছুটা কমিশন পেয়ে থাকে।
জনপ্রিয় অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং মাধ্যম হলো
- অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট প্রোগাম
- ক্লিকব্যাংক আফিলিয়েট প্রোগাম
- হোস্টিং আফিলিয়েট প্রোগ্রাম
- রিভিউ ব্লগ ইত্যাদি
বর্তমানে প্রায় সকল কোম্পানিতে অ্যাফিলিয়েট কমিশনের সুযোগ রয়েছে। এজন্য আপনি ধরনের কনটেন্ট লিখে থাকেন সে ধরনের ওয়েবসাইটে গিয়ে অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম খুঁজে দেখতে পারেন। এবং সহজেই সেখানে জয়েন করতে পারেন।
এফিলিয়েট মার্কেটিং মূলত একটি প্যাসিভ ইনকামের সোর্স। অর্থাৎ একবার আর্টিকেল লিখে সেখানে এফিলিয়েট লিংক দিয়ে রাখলে লাইফ টাইম ইনকাম হওয়ার চান্সও আছে। ঠিক সেভাবে বিজ্ঞাপন দেখে ইনকাম করো একটি প্যাসিভ ইনকাম সোর্স।
৩। স্পন্সর পোস্ট
একটু ব্লগ থেকে ইনকাম করার পরবর্তী মাধ্যম হলো স্পনসর পোষ্টের মাধ্যমে ইনকাম করা। অর্থাৎ আপনার ব্লগে একটি পেইড আর্টিকেল লেখার জন্য আপনাকে অর্থ প্রদান করতে পারে। অনেক ধরনের কোম্পানি কিংবা ব্লগার রয়েছে যারা নিজেদের প্রোডাক্ট কিংবা সার্ভিসের প্রোমোট করার জন্য পেইড আর্টিকেল লেখার জন্য আপনাকে অর্থ প্রদান করে থাকবে।৪। স্পনসর লিংক বা গেস্ট ব্লগিং
বিভিন্ন ব্লগে গিয়ে দেখতে পারবেন সেখানে অনেকেই পেইড লিংক দিয়ে ইনকাম করছে। মূলত ব্লগাররা ব্যাকলিংক নেওয়ার জন্য গেস্ট ব্লগিং করে থাকে বা ব্লগ থেকে পেইড লিঙ্ক নিয়ে থাকে।অনেক ব্লগার গেস্ট ব্লগিংয়ের নামে পেইড লিংক প্রদান করে থাকে। এজন্য আপনিও পেইড লিংক প্রোভাইড করে ইনকাম করতে পারেন। আপনার ব্লগে যদি ভালো পরিমাণে ট্রাফিক থাকে এবং আপনার ব্লগের অথরিটি যদি ভাল হয়। সাইটের ডোমেইন অথরিটি ও পেজ অথরিটি ভালো হয় তাহলে অনেকের নিজ থেকেই আপনার সাথে যোগাযোগ করতে পারে পেইড লিংক নেওয়ার জন্য।
এর মধ্যে অনেকেই আপনার ব্লগে থাকা কনটেন্ট এর মধ্যেই পেইড লিংক চাইতে পারে। কিংবা নতুনভাবে গেস্ট ব্লগিং করেও লিংক নিতে পারে। তাই আপনার সাইটে যদি অথরিটি থাকে নেওয়ার মাধ্যমেও অনেকে আপনাকে অর্থ প্রদান করবে।
৫। নেটিভ এডভার্টাইজিং অপশন
এ বিষয়টিকে আরও সহজভাবে বোঝার চেষ্টা করে চলুন। আমাদের মধ্যে বেশিরভাগ ব্লগার গুগল এডসেন্স কিংবা অন্যান্য পাবলিশারের মাধ্যমে নিজেদের ব্লগে বিজ্ঞাপন দেখে থাকে। তবে আপনি চাননা কোনো পাবলিশারের মাধ্যমে ব্লগে এডস দেখাতে। অথবা কোন কোম্পানীর সাথে আপনি সরাসরি বিজ্ঞাপনের কথা বলে বিজ্ঞাপন দিতে পারেন সেটিকে ন্যাটিভ এডভার্টাইজিং অপশন বলছে।যেমন আপনার একটি টেক রিলেটেড ব্লগ সাইট রয়েছে। যেখানে আপনি কম্পিউটার এক্সেসরিজ নিয়ে লেখালেখি করেন। এখন কোন কমপিউটার এক্সেসরিজ কোম্পানির প্রোডাক্টের ব্যানার এডস সরাসরি আপনার ব্লগে দেখানোর মাধ্যমে আপনি ইনকাম করতে পারেন। এক্ষেত্রে থার্ড-পার্টি কোন পাবলিশার মিডিয়ার প্রয়োজন পড়ছে না।
তো এই ব্যানার গুলো আপনি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত লাগানোর জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণের অ্যামাউন্ট দাবি করতে পারেন। এছাড়া টাকার পরিমাণ আপনার ব্লগে কি পরিমান ট্রাফিক আসছে এবং সেখান থেকে কি পরিমাণ কনভার্ট হওয়ার চান্স রয়েছে সেটার উপর ডিপেন্ড করে থাকে।
৬। ব্রান্ডের সাথে পার্টনারশীপ
আপনার যদি একটি পাওয়ারফুল ব্লগ থাকে সরাসরি ফ্রেন্ডের সাথে পার্টনারশিপ করে ইনকাম করতে পারবেন। এখানে আপনি সরাসরি কোন ব্র্যান্ডের সরাসরি ডিল করতে পারেন। যে আপনি তাঁর ব্র্যান্ড প্রমোট করে দিবেন কিংবা তাদের প্রডাক সম্পর্কে আর্টিকেল লিখবেন ইত্যাদি।কিন্তু এরকম ব্র্যান্ড পার্টনারশিপের জন্য আপনার ব্লগকে ভালো পরিমাণে কোয়ালিটি ট্রাফিক থাকা প্রয়োজন। সে সাথে প্রফেশনাল দেখাও জরুরী।
৭। নিজের প্রোডাক্ট বা সার্ভিস বিক্রি করে
আপনার ব্লগে যদি হাইলি টার্গেটেড ট্রাফিক থাকে তাহলে আপনি নিজের প্রোডাক্ট বিক্রি করে ইনকাম জেনারেট করতে পারেন। আপনার ব্লগের টপিকের ওপর অনুযায়ী যেকোনো ধরনের প্রোডাক্ট হতে পারে। তবে ডিজিটাল প্রোডাক্ট ডিজিটাল সার্ভিস টার্গেট করতে পারলে ভালো।যেমন আপনার যদি ডিজিটাল মার্কেটিং এর উপর ব্লগ থাকে। এবং সেখানে ভালো পরিমাণে টার্গেটেড ট্রাফিক আসে। তাহলে সেখান থেকে আপনার ভিজিটরদের নিজেই ডিজিটাল সার্ভিস দিতে পারবেন।
৮। সেল স্পেশ অন ইউর নিউজলেটার
নিউজলেটার সম্পর্কে অনেক কম মানুষ জেনে থাকবেন। অনেকেই পুশ নোটিফিকেশন নামেও একে চিনে থাকবেন। তবে নিউজলেটারে যেহেতু অডিয়েন্স গোছানো থাকে সেহেতু নিউজলেটার থেকেও ইনকাম করা সম্ভব।যেমন মনে করুন আমার একটি ব্লগে নিউজলেটার চালু করা রয়েছে। এবং সেখানে বেশকিছু পরিমানে মানুষ সাবস্ক্রাইব করে রেখেছে। এবং আমি রেগুলার বেসিসে তাদের নিউজ লেটার পাঠিয়ে থাকি। এখন কোনো একটি কোম্পানি আমার সাথে এভাবে ডিল করতে পারে আমি যে নিউজলেটার পাঠায় তার কোনো একটা জায়গায় তাদের স্পেশ করে দেই।
এবং সেখানে তাদের কোম্পানি সম্পর্কে প্রমোশনাল কিছু কথা বার্তা লিখে দেই। এভাবেও একটি ইনকামের সোর্স হতে পারে। তবে সেক্ষেত্রে আপনার নিউজলেটারে ভালো পরিমানে সাবস্ক্রাইবার থাকতে হবে।
৯। ব্লগ বিক্রি করে
যদি আপনার সাইটে ভালো পরিমানে ট্রাফিক থাকে এবং আপনার কন্টেন্ট ভালো মানের হয়ে থাকে তাহলে আপনি আপনার ব্লগকে বেশ ভালো অ্যামাউন্টে বিক্রিও করে দিতে পারেন। দেশি বিদেশি অনেক ওয়েবসাইট রয়েছে যেখানে ওয়েবসাইট কেনা বেচা হয়েছে যেমন ফ্লিপ্পা ডট কম অন্যতম। এসকল জায়গায় ব্লগের কোয়ালিটি অনুযায়ী ব্লগ থেকে হওয়া ইনকামের দশ থেকে ত্রিশগুন পর্যন্ত দামে ওয়েবসাইট বিক্রি হয়ে থাকে।এছাড়া অনেকেই শুধুমাত্র ব্লগে এডসেন্স এপ্রুভাল করিয়েই সেল করে দিচ্ছে এবং সেখানে ভালো পরিমানে দাম পাচ্ছে। তো আপনার সাইটে যদি ভালো পরিমানে ট্রাফিক থাকে কিংবা আপনার ব্লগ যদি কোয়ালিটিফুল হয় তাহলে সেটি বিক্রি করেও ইনকাম জেনারেট করতে পারেন।
এরকম আরো অনেক ধরনের মাধ্যম রয়েছে যার মাধ্যমে আপনি একটি ব্লগ থেকে ইনকাম জেনারেট করতে পারবেন। বেশির ভাগ ব্লগার প্রথমে এসে গুগল এডসেন্স এর চক্করে পড়ে ব্লগিং ক্যারিয়ারই নষ্ট করে ফেলে। কিন্তু এডসেন্স ছাড়া আরো অনেক উপায় রয়েছে একটি ব্লগ থেকে ইনকাম করার। প্রয়োজন শুধু ভালো টার্গেটেড ট্রাফিক ও লয়াল অডিয়েন্স। তাই আপনার কন্টেন্টে যদি দম থাকে অবশ্যই শুধু এডসেন্স ছাড়া আরো অনেক উপায়ে আপনার ব্লগ থেকে ইনকাম করতে পারবেন।