দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলার মধ্যে বাংলাদেশ প্রথম ই পাসপোর্ট সেবা চালু করে। ই পাসপোর্টে পাসপোর্টধারীর সকল ইনফরমেশন একটি ডেটাবেজে সংরক্ষিত থাকে।

ই পাসপোর্ট কিঃ
ই পাসপোর্ট হলো এমন এক ধরনের ডিজিটাল ভ্রমণের নথি যার ডেটাবেজ এর মধ্যে একজন ব্যাক্তির ৩ ধরণের ছবি, হাতের ১০ আঙ্গুলের ছাপ এবং চোখের আইরিশ থাকবে।এই ধরনের পাসপোর্ট এর নাম ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট বলা হয়। সংক্ষেপে যা ই পাসপোর্ট। তবে ই পাসপোর্ট এর ব্যবস্থাও প্রচলিত পাসপোর্ট ব্যবস্থার মতো ই হবে।
ই পাসপোর্ট এর জন্য আবেদন কোথা থেকে করবেনঃ
ই পাসপোর্টের জন্য আপনি চাইলে নির্ধারিত ওয়েবসাইটে গিয়ে নিজেই ফর্ম পূরন করে নিজেই আবেদন করতে পারেন। অথবা নিকটস্থ কোনো কম্পিউটার এর দোকানে গিয়ে আবেদন ফর্ম পূরন করে নিতে পারেন। পাসপোর্ট অফিসে না গিয়েও আপনি যেকোনো স্থান থেকে এই আবেদন ফর্ম পূরন করে নিতে পারবেন।
আরো পড়ুনঃ
আবেদন ফর্ম পূরণ কিভাবে করবেনঃ
ই পাসপোর্ট এর জন্য আবেদন করার ক্ষেত্রে আপনাকে প্রথমে (www.epassport.gov.bd) এই ওয়েবসাইটে log in করতে হবে। ওয়েবসাইট টি তে ঢুকে- "ডিরেক্টলি টু অনলাইন অ্যাপ্লিকেশন" (Directly to online application) অংশে ক্লিক করতে হবে।
শুরুতে বর্তমান ঠিকানার জেলা, উপজেলা/ থানার নাম নির্বাচন করে ক্লিক করতে হবে। পরের ধাপে মূল ফর্মটি পূরন করতে হবে। এখানে ব্যাক্তিগত তথ্য প্রদান করে ফর্মটি পূরন করে সাবমিট করতে হবে।
তৃতীয় ধাপে মেয়াদ ও পাসপোর্টের পৃষ্ঠা সংখ্যা নির্ধারন করে পূরন করতে হবে। কেউ চাইলে ফর্মটি PDF আকারে ডাউনলোড করে পূরন করতে পারবে। অবশ্যই আপনাকে আপনার জন্মনিবন্ধন বা জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী ফর্মের তথ্যগুলো পূরন করতে হবে।
পেমেন্ট এর জন্য করনীয়ঃ
পেমেন্ট এর জন্য আপনি আবেদন ফর্ম টি জমা দেওয়ার পর একটি পেমেন্ট স্লিপ যেকোন কম্পিউটার এর দোকান থেকে বের করে নিতে পারবেন।পেমেন্ট করার জন্য প্রয়োজনীয় যে সকল ডকুমেন্টস লাগবে তা আলাদা ভাবে গুছিয়ে ব্যাংক বা অনলাইনের মাধ্যমে পেমেন্ট করতে হবে।পেমেন্ট এর জন্য আবেদন ফর্ম ও আইডি কার্ডের অথবা জন্মনিবন্ধনের কপি সাথে রাখুন।
কিভাবে কোথা থেকে পেমেন্ট করবেনঃ
পাসপোর্ট এর জন্য ২ ভাবে পেমেন্ট করতে পারবেন।
- অনলাইন পেমেন্ট
- অফলাইন পেমেন্ট
অনলাইনে পেমেন্ট করতে হলে "ekpay" এর মাধ্যমে পেমেন্ট করতে হবে। যে সকল স্থান থেকে "EkPAY" এর মাধ্যমে পেমেন্ট করতে পারবেন.. American Express, bKash, Nagad, opay, Master card, Rocket, Dmoney, Brack Bank, EBL, City Bank, UCB, DBBL, Midland Bank,OK Wallet, MBL Rainbow, AB Bank ইত্যাদি।
অফলাইন পেমেন্ট এর জন্য সোনালী ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, ঢাকা ব্যাংক এর যে কোন শাখায় এবং যশোর কর্পোরেট শাখা থেকে A চালানের মাধ্যমে পেমেন্ট করতে পারবেন।
আবেদনের সময় যে সকল বিষয় গুরুত্ব দিতে হবেঃ
- আবেদন ফর্ম পূরন করার সময় অবশ্যই প্রতিটি তথ্য বার বার চেক করে নিতে হবে।জন্মনিবন্ধন বা আইডি কার্ড অনুযায়ী তথ্য দিতে হবে।
- আবেদন ফর্ম পূরন করার সময় নামে বা অন্য বানানের ক্ষেত্রে ডট(.) ব্যবহার করার যাবে না।
- অবশ্যই সচল মোবাইল নাম্বার বা ই মেইল দিতে হবে।
- তথ্য ভুল হলে ভুল তথ্য সম্বলিত ফর্ম জমা না দিয়ে অফিস থেকে সংশোধনের জন্য আবেদন ফর্ম সংগ্রহ করে সংশোধন এর আবেদন করতে হবে।
- পূর্বের পাসপোর্ট থাকলে অবশ্যই সাথে নিতে হবে।
- পাসপোর্ট এর ছবি তোলার জন্য সাদা পোশাক পরিধান করা যাবে না।
- পেমেন্ট করার পর অবশ্যই নিজের পেমেন্ট স্লিপ বুঝে নিবেন।
- ডেলিভারি ফর্ম হাতে পেয়ে সব তথ্য আরেকবার চেক করে নিবেন।
- অবশ্যই কত পেজ ও কত বছর মেয়াদী পাসপোর্ট করছেন খেয়াল করে পেমেন্ট করবেন।
- অনলাইন বা ব্যাংক ব্যতীত পাসপোর্ট এর জন্য অন্য কারো সাথে লেনদেন করা থেকে বিরত থাকবেন।
পাসপোর্ট আবেদনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রঃ
পাসপোর্ট এর আবেদন ফর্ম জমা দেওয়া সময় যে সকল ডকুমেন্টস সাথে থাকা লাগবে আজ আমরা আলোচনা করবো।
- জাতীয় পরিচয়পত্র বা NID কার্ডের কপি
- ই - পাসপোর্ট এর আবেদন কপি। (কম্পিউটার প্রিন্ট কপি)
- চালান কপি বা পেমেন্ট স্লিপ।
- আবেদন ফর্ম এর তথ্য সম্বলিত প্রিন্ট কপি
- নাগরিক সনদ।
- বিবাহিত হলে কাবিননামা।
- শিক্ষার্থী হলে বাবা মায়ের জাতীয়পরিচয়পত্র
- শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমানপত্র বা পেশাগত প্রমানপত্র।
- সরকারি চাকুরীজীবী হলে NOC ও GO...
- নিজের জন্মনিবন্ধনের অনলাইন কপি( বাংলা+ ইংরেজি)।
- ব্যবসায়ী হলে ট্রেড লাইসেন্স।
- পূর্বের কোনো পাসপোর্ট থাকলে তার কপি।
আবেদন জমা দানের ক্ষেত্রে করণীয়ঃ
আপনাকে নিকটস্থ পাসপোর্ট আঞ্চলিক অফিসে গিয়ে সকল ডকুমেন্টস সহ আবেদন ফর্মটি জমা দিতে হবে।সাথে অবশ্যই অরিজিনাল NID কার্ড রাখবেন।
আবেদন জমা পরবর্তী করণীয়ঃ
আবেদন ফর্ম জমা দেওয়ার পর আপনার ছবি, আঙ্গুলের ছাপ ও স্বাক্ষর সংগ্রহ করবে অফিস কতৃপক্ষ। তারপর আপনাকে একটি ডেলিভারি স্লিপ প্রদান করা হবে।
আবেদনে ভুল ধরা পড়লে করণীয়ঃ
আবেদন ফর্ম জমা দেওয়ার আগে ভুল পাওয়া গেলে পরিচালক কর্তৃক একটি সংশোধন ফর্ম সংগ্রহ করতে হবে। সেখানে ভুল তথ্য কোনটি এবং কি সংশোধন করতে হবে পূরন করে পরিচালক এর কাছে জমা দিতে হবে। জমা দানের ৩-৪ দিন পর আপনি পুনরায় সঠিক ভাবে আবেদন করে জমা দিতে পারবেন। এই জন্য ভুল হলে ঘাবড়ে যাওয়ার দরকার নাই।
পুলিশ ভেরিফিকেশনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ধারণাঃ
আপনার পাসপোর্ট এর কাগজপত্র জমা দেওয়ার পর, ছবি তোলা ও অন্যান্য কাজ হয়ে গেলে ভেরিফিকেশন হবে।সেক্ষেত্রে আপনাকে জন্মনিবন্ধন, NID, বিদ্যুৎ বিলের কপি,বাবা মায়ের জাতীয়পরিচয়পত্র, নাগরিক সনদের কপি সাথে রাখতে হবে।
ই পাসপোর্ট ডেলিভারি চেক করার নিয়মঃ
আপনি আপনার ই পাসপোর্ট টি আঞ্চলিক অফিসে এসেছে কি তা বাড়ি বসে চেক করে নিতে পারবেন।
অনলাইন থেকে পাসপোর্ট ডেলিভারি চেক করতে হলে শুরুতে
www.epassport.gov.bd/authorization/application-status সাইটে ভিজিট করুন।তারপর Application ID অথবা Online Registration ID এর নাম্বার দিবেন।এরপর Date of Birth দিয়ে নিচে ভেরিফিকেশনে ক্লিক দিলেই পাসপোর্ট টি এসেছে কি জানতে পারবেন।
অথবা ফোনে SMS এর মাধ্যমে ও চেক করে নিতে পারবেন। আমাদের পাসপোর্ট ডেলিভারি চেক এর বিস্তারিত নিয়ে একটা আর্টিকেল আছে। চাইলে দেখে নিতে পারেন।
ই পাসপোর্ট ডেলিভারিঃ
পাসপোর্ট আঞ্চলিক অফিসে চলে আসলে আপনার দেওয়া নির্ধারিত ফোন নাম্বারে অথবা ই মেইলে মেসেজ আসবে। তারপর আপনি ডেলিভারি স্লিপ টি সাথে নিয়ে পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে ফিঙ্গার প্রিন্ট দেওয়ার মাধ্যম খুব সহজেই আপনার ই পাসপোর্ট টি সংগ্রহ করতে পারবেন।
ই পাসপোর্ট ফি কত ২০২৩ঃ
পাসপোর্টের পৃষ্ঠা সংখ্যা,মেয়াদ ও ডেলিভারি সময়ের উপর নির্ভর করে ফি নির্ধারন করা হয়।
৪৮ পৃষ্ঠার ৫ বছর মেয়াদী পাসপোর্ট এর জন্য ফিঃ
- রেগুলার ডেলিভারি ২১ দিনের মধ্যে 4,025 টাকা।
- এক্সপ্রেস ডেলিভারি ১০ দিনের মধ্যে 6,325 টাকা।
- সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারি ২ দিনের মধ্যে 8,625 টাকা।
৪৮ পৃষ্ঠার ১০ বছর মেয়াদী পাসপোর্ট এর জন্য ফিঃ
- রেগুলার ডেলিভারি ২১ দিনের মধ্যে 5,750 টাকা।
- এক্সপ্রেস ডেলিভারি ১০ দিনের মধ্যে 8,050 টাকা।
- সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারি ২ দিনের মধ্যে 10,350 টাকা।
৬৪ পৃষ্ঠার ৫ বছর মেয়াদী পাসপোর্ট এর জন্য ফিঃ
- রেগুলার ডেলিভারি ২১ দিনের মধ্যে 6,325 টাকা।
- এক্সপ্রেস ডেলিভারি ১০ দিনের মধ্যে 8,625 টাকা।
- সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারি ২ দিনের মধ্যে 12,075 টাকা।
৬৪ পৃষ্ঠার ১০ বছর মেয়াদী পাসপোর্ট এর জন্য ফিঃ
- রেগুলার ডেলিভারি ২১ দিনের মধ্যে 8,050 টাকা।
- এক্সপ্রেস ডেলিভারি ১০ দিনের মধ্যে 10,350 টাকা।
- সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারি ২ দিনের মধ্যে 13,800 টাকা।
Frequently Ask Question
প্রশ্নঃ ই পাসপোর্ট ডেলিভারি কয় ধরনের এবং কি কি?
উত্তরঃ ই পাসপোর্ট ডেলিভারির টাইম এর উপর ডিপেন্ড করে ৩ প্রকার।রেগুলার,এক্সপ্রেস এবং সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারি।
প্রশ্নঃ ই পাসপোর্ট নিতে কতদিন সময় লাগবে?
উত্তরঃ ই পাসপোর্ট নিতে ২-২১ দিন সময় লাগবে।আপনি রেগুলার পাসপোর্ট করালে ২-২১ দিনের মধ্যে পেয়ে যাবেন।এক্সপ্রেস পাসপোর্ট পেতে সময় লাগবে ২-১০ দিন এবং সুপার এক্সপ্রেস এর জন্য শুধু মাত্র ২ দিন সময় লাগবে
প্রশ্নঃ ই পাসপোর্টে ভুল তথ্য আসলে কিভাবে সংশোধন করবেন?
উত্তরঃ পাসপোর্ট অফিস থেকে একটি সংশোধন ফর্ম সংগ্রহ করে সেটি সঠিক তথ্য দিয়ে পূরন করে জমা দেওয়ার মাধ্যমে সংশোধন করতে পারবেন।
প্রশ্নঃ ই পাসপোর্টে তথ্য পরিবর্তনে করনীয়?
উত্তরঃ এ ক্ষেত্রে পূর্বের পাসপোর্ট এর কোন তথ্য পরিবর্তন করতে চাইছেন,কেনো চাইছেন আর কি ধরনের পরিবর্তন করতে চান সে সম্পর্কে একটি আবেদন ফর্ম পূরন করতে হবে। অবশ্যই নতুন তথ্যের সত্যতা প্রমানের জন্য উপযুক্ত ডকুমেন্টস ব্যবহার করতে হবে।
প্রশ্নঃ পূর্বে ম্যানুয়াল পাসপোর্ট থাকলে ই পাসপোর্টে রুপান্তর করার নিয়ম?
উত্তরঃ পাসপোর্ট করার মতোই সকল কার্যক্রম অনুসরণ করতে হবে শুধু মাত্র পূর্বের পাসপোর্ট এর সকল তথ্য এবং কপি সহ আবেদন করতে হবে। আবেদন সম্পন্ন হলে সবকিছু আগের পাসপোর্ট এর মতো ই আপনি ই পাসপোর্ট পেয়ে যাবেন।
শেষ কথাঃ
ই পাসপোর্ট কি এবং ই পাসপোর্ট করার নিয়ম কানুন এই পোস্টে বিস্তারিত ভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। আশা করি ই পাসপোর্ট সম্পর্কে দেওয়া তর্থ্যগুলো আপনাদের বেশ উপকারে আসবে। এ সম্পর্কে আরো কিছু জানার থাকলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাতে পারেন। অথবা ই পাসপোর্ট এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট https://www.epassport.gov.bd/ ভিসিট করে বিস্তারিত তথ্য জেনে নিতে পারেন।