কিভাবে ট্রেকিং ট্রিপের প্রস্তুতি নিবেন | এডভেঞ্চার ট্যুরের প্লান

বর্তমান সময়ে পর্যটকেরা ট্রেকিং ট্রিপের দিকে বেশ ঝুঁকছে।  আগের তুলনায় মানুষ এখন স্মৃতি জমাতে বেশ পছন্দ করে। তবে অনেকেই ট্রীপে যাওয়ার আগে ঝামেলা তে পড়েন কোথায় কি ধরনের জিনিস নিবেন সেটা ভেবে।পূর্বে এই ধরনের ভ্রমণের অভিজ্ঞতা না থাকলে ঝামেলা পোহাতে হয় ব্যাগ গোছানোর সময়।

অনেক সময় এমন হয় এটা নিয়েই  আপনার দুশ্চিন্তার শেষ থাকে না। ঘুরতে যাবেন আর প্রয়োজনীয় জিনিস ভুলে যাবেন এটা হয় নাকি। এই আর্টিকেলে আজ আমরা কোন সময় কোন জায়গা তে কি কি জিনিস নিলে সম্পূর্ণ ট্রিপ শেষ করে আসতে পারবো তা সম্পর্কে জানবো।

কিভাবে প্রস্তুুতি নিবেন ট্রেকিং ট্রিপের | অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরের সঠিক পরিকল্পনা

ট্রেকিং ট্রিপের পূর্বে প্রস্তুতি নেওয়া কেন প্রয়োজন?

যেকোন ধরনের ট্রেকিং ট্রিপের পূর্বে ভালোভাবে প্রস্তুতি নেওয়া আবশ্যক। কারন ট্রেকিং ট্রিপের সফলতা অনেকাংশে নির্ভর করে এর প্রস্তুতির উপর। অযথা ভারী ব্যাগ, ট্রেইল সম্পর্কে ধারনা না থাকা ও শারীরিক সক্ষমতার অভাবে যেকোন ট্রেকিং ট্রিপ ব্যর্থ হতে পারে অথবা কষ্টদায়ক হতে পারে।

প্রথমে আপনি কোন স্পট ভ্রমন করতে যাচ্ছেন সে সম্পর্কে স্পষ্ট ও পূর্নাঙ্গ ধারনা নিবেন। কারন ট্রেকিং ট্রিপ গুলা পথ হারানোর সহ নানা ধরনের বিপদের সম্ভাবনা থাকে৷ শারীরিক ও মানুষিক ভাবে প্রস্তুতি বেশি প্রয়োজন। কারন ট্রেকিং ট্রিপ গুলা মুলত নির্ভর করে আপনার শারীরিক ও মানুষিক সক্ষমতার উপর। প্রয়োজন হলে ট্রিপ চলাকালীন সময়ে তাৎক্ষণিক নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার মানুষিক প্রস্তুতি রাখতে হবে।

ট্রিপে যাওয়ার কিছু দিন আগ থেকে নিজের শরীর কে প্রস্তুত করতে হবে। কারন ট্রেকিং ট্রিপের মূল ই হলো হাঁটাহাঁটি। তাই আগে থেকে নিজের শরীর কে প্রস্তুত করে রাখলে ট্রিপ টা সহজ ও উপভোগ্য হবে।

যে জিনিসগুলা সব ধরনের ট্রিপের জন্য প্রয়োজনঃ

বছরের বিভিন্ন সময়,বিভিন্ন স্থানে ব্যাগ গোছানোর লিস্ট টা একটু ভিন্ন। বর্ষা, শীত, পাহাড়, ঝর্না যে স্থানেই  যে সময় ই যান না কেনো যে জিনিস গুলা আপনি অবশ্যই সবসময় সাথে নিবেন তার একটি তালিকা দিয়ে দিলাম।

১। ভালো ব্যাকপ্যাক

একটি ভালো ব্যাকপ্যাক। সহজে পিঠে বহনযোগ্য ও ওজনে কম এমন। ব্যাগ হালকা হলে আপনার বহনে সুবিধা হবে।এজন্য অবশ্যই অনেক জিনিস ক্যারি করতে পারবেন এবং ব্যাগ ওজনে হালকা এমন দেখে নিবেন। চেষ্টা করবেন এমন একটা সাইজের ব্যাগ নিতে যেনো সব জিনিসপত্র একটা ব্যাগেই বহন করা যায়।  কারন একের অধিক ব্যাগ হলে বহন করা কষ্ট দায়ক। ব্যাগের ২ সাইডে পানির বোতল রাখার জাইগা থাকা বাধ্যতামূলক।

২। প্রয়োজনীয় কাপড়

ট্রেকিংয়ে যাওয়ার সময় অবশ্যই দুই সেট কাপড় সাথে নিবেন। ১ সেট পরে থাকবেন আর একটা ব্যাগে থাকবে। সবাইকে নিজের ব্যাগ নিজে বহন করতে হয় তাই ব্যাগ গুছাইবেন এমনভাবে যাতে ওজন বেশি না হয়। ট্রেকিং ট্রীপে বেশি ভারী পোশাক না নেওয়াই ভালো। মেয়েরা চাইলে পাতলা শাড়ি নিয়ে নিতে পারেন ছবি তোলার জন্য। তবে এমন পোশাক নিবেন যা দ্রুত শুকিয়ে যায়।

৩। সঠিক ট্রেকিং সেন্ডেল

ট্রেকিং সেন্ডেল (এটা খুব ইম্পরটেন্ট, মানে লাগবেই! গ্রিপ করে এমন সেন্ডেল নিতে হবে)। অনেকেই ভুল করে বাংলাদেশের পাহাড়ে স্পোর্টস জুতা নিয়ে যায়। এমন টা করবেন না। বাংলাদেশের পাহাড়ের জন্য ট্রেকিং সেন্ডেল টা ই বেস্ট। কারন আমাদের দেশের পাহাড়ে রয়েছে অসংখ্য ঝিরিপথ বা খান। আপনাকে বার বার এই ঝিরিপথ বা খাল ধরে হাটতে হবে।

তাই ট্রেকিং সেন্ডেল আমাদের দেশের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। কারো ব্যাগে জায়গা থাকলে এক জোড়া পায়ে পরার পাশাপাশি একজোড়া ব্যাগেও নিতে পারেন। কারন, পাহাড়ে সেন্ডেল ছিড়ে গেলে বিপদ। বহন করতে পারলে ১ জোড়া এক্সট্রা জুতা নেয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

৪। ফাস্ট এইড বক্স ও মেডিসিন

প্রয়োজনীয় ওষুধ। বেশ কিছু ফার্স্ট এড মেডিসিন+ব্যান্ডেজ নিয়ে নিতে পারেন। তবে একদম অতিরিক্ত কিছু নিয়ে ব্যাগ ভারি করার দরকার নাই। কারো রেগুলার মেডিসিন চললে অবশ্যই তিনি সব গুছিয়ে নিবেন।কারো শ্বাসকষ্টের সমস্যা থাকলে ইনহেলার নিতে ভুলবেন না।

৫। টর্চ লাইট

টর্চ লাইট (মাস্ট নিবেন। এটা কেউ মিস দিবেন না) বাজারে কিনতে পাওয়া যায়। ১৩০-১৫০/- টাকায় পাওয়ার ব্যাংক থেকে চার্জ করা যায়।ওজন কম হয় এমন দেখে নিবেন। কেউ চাইলে হেডল্যাম্প ও নিতে পারেন।

৬। এংলেট ও নি-ক্যাপ নিতে ভুলবেন না

পিছলা জায়গা তে  অথবা পাথরে ট্রেকিং করার পা মচকানো থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য এংলেট নিতে পারেন। নি ক্যাপ,এংলেট এগুলা সাথে নিবেন। ট্রেকিং চলাকালীন সময়ে হাটু ও মাসাল পেইন থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য নি ক্যাপ কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। এংলেট ও নি ক্যাপের ওজন কম তাই  যেকোন ধরনের ট্রেকিং ট্রিপে অবশ্যই সাথে রাখবেন।

৭। পর্যাপ্ত শুকনো খাবার সাথে রাখুন

পর্যাপ্ত শুকনো খাবার (খেজুর), চকলেট, চিপস, ওয়েফার, কাজু বাদাম, ড্রাই ফ্রুটস এছাড়া পছন্দের বিস্কুট নিতে পারেন। এমন শুকনা খাবার তালিকায় রাখবেন যা দ্রুত এনার্জি দেবে আর ক্ষুধা মিটাবে।

৮। পাওয়ার ব্যাংক ও পলিথিন নিবেন

মোবাইল,ক্যামেরার জন্য পাওয়ার ব্যাংক অবশ্যই  নিবেন। ওখানে চার্জ দেয়ার কোন সিস্টেম না থাকলে সেক্ষেত্রে কাজে দিবে। পাহাড়ি পাড়াগুলা তে মোবাইল চার্জের কোনো ব্যবস্থা নাই। 

সেই সাথে মোবাইল, ক্যামেরা ,পাওয়ার ব্যাংক পানি থেকে রক্ষা করার জন্য পলিথিন নিয়ে নিবেন।অবশ্যই পর্যাপ্ত পলিথিন সাথে রাখবেন। ট্রেকিং চলাকালীন সময়ে ভেজা কাপড় গুলা পলিথিনের মধ্যে আটকে ব্যাগে রাখলে ব্যাগের অন্যান্য জিনিসগুলা ভিজবে না।

৯। পানির বোতল

অবশ্যই পানির বোতল সাথে রাখবেন। ট্রেকিং চলাকালীন সব স্থানে পানি পাবেন না এজন্য বোতল সাথে রাখলে সুপেয় পানি সংগ্রহ করে কাছে রাখতে পারবেন এবং প্রয়োজনে পান করতে পারবেন। 

আরো কিছু প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সাথে রাখবেন। যেমনঃ

  • ব্রাশ,পেস্ট, হ্যান্ড সেনিটাইজার এগুলা নিয়ে নিবেন। এক্ষেত্রে ব্যাগের ওজন কমাতে মিনি প্যাকের পেস্ট টা নিতে পারেন।
  • গামছা (মাস্ট নিবেন)। গামছা অবশ্যই ব্যাগের উপরের দিকে রাখবেন। সহজে বের করতে পারবেন এমন স্থানে। দ্রুত শুকিয়ে যাবে এমন গামছা নেওয়া ভালো।
  • রোদ থেকে বাঁচার জন্য সানগ্লাস, ক্যাপ, সানস্ক্রিন নিতে পারেন। যেহেতু রোদে হাটা লাগে তাই আপনারা সে ধরনের নিজস্ব সুবিধা মতো ব্যবস্থা নিয়ে নিবেন।
  • NID অথবা পেশাগত প্রমানপত্র সাথে রাখবেন।
  • মশার হাত থেকে বাঁচতে আপনি চাইলে জেল নিতে পারেন।
  • পর্যাপ্ত পরিমান টিস্যু নিবেন। পাহাড়ি অঞ্চলে আপনি সব গ্রামে টয়লেট পাবেন না আবার সবসময় পানি ও না পাবার সম্ভাবনা আছে। সেক্ষেত্রে টিস্যু ই হবে আপনার একমাত্র ভরসা।
  • আপনি চাইলে তাবু নিতে পারেন।

বর্ষাকালীন ট্রিপের জন্য বাড়তি প্রস্তুতিঃ

অন্যান্য সময়ের তুলনায় বর্ষাকাল টা একটু ভিন্ন। এর প্রস্তুুতি ও নিতে হবে আলাদা। বাংলাদেশের ঝর্নাগুলা বর্ষাকালে দেখার জন্য বেস্ট। তাই এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে আপনাকে বর্ষা ঋতু তেই বের হতে হবে। এই সময় বের হওয়ার জন্য আপনাকে বাড়তি যে প্রস্ততি নিতে হবে তা হলোঃ
  • আপনি ট্রেকিং ট্রিপে ছাতা ব্যবহার করতে পারবেন না। এজন্য ছাতা  নেওয়া টা এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। কারন বর্ষার সময় পিছলা রাস্তায় ছাতা নিয়ে চলাচল দুষ্কর। সেক্ষেত্রে আপনি পকেট রেইনকোট নিতে পারেন। এটার আকৃতি এতোটাই ছোট যে আপনি এটা নিজের প্যান্ট বা ট্রাউজারের পকেটেও রাখতে পারবেন। প্রয়োজনেই পরে নিবেন। আর এটার ওজন ও বেশি নয়।
  • বর্ষার সময় পাহাড়ি অঞ্চলে জোঁকের উপদ্রব খুব বেশি। আর এই জোঁক এর আক্রমন থেকে বাঁচতে  আপনি চাইলে বড় মোজা নিতে পারেন।  
  • এই সময় পাহাড়ি অঞ্চলে  হালকা শীত অনুভূত হয়। আপনি এক সেট ফুল হাতা কাপড় নিতে পারেন। হালকা শীত নিবারণের জন্য। 
  • অবশ্যই ব্যাগের জন্য একটা কভার নিবেন। কারন ব্যাগ শুকনা না রাখতে পারলে আপনি বিপদে পড়বেন। ব্যাগের মদ্ধে পানি ঢুকলে সবকিছু ভিজে যাবে ফলশ্রুতিতে ব্যাগের ওজন অনেক বেশি হয়ে যাবে। 
  • আপনি চাইলে একটা ফোল্ডিং স্টিক রাখতে পারেন ব্যাগে।

শীতকালীন ট্রিপের জন্য বাড়তি প্রস্তুতিঃ

শীতকালে পাহাড়ি অঞ্চলে প্রখর শীত পড়ে।ওই সকল এলাকায় শীত নিবারনের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। তাই এসব দিকে শীতে ভ্রমনের জন্য গেলে অবশ্যই আপনাকে বাড়তি কিছু প্রস্তুতি রাখতে হবে 
  • হালকা ওজনের কম্বল। এমন কম্বল নিবেন যেটা বেশ গরম হবে তবে ওজনে একদম হালকা হবে। কারন কম্বল আপনাকে হয়তো বেশ কিছু স্থানে বহন করে নিতে হবে। ভারী হলে সেটা কষ্টকর হয়ে যাবে। 
  • গরম পানির মিনি ফ্ল্যাক্স। (যদি প্রয়োজন মনে করেন)। এটা তে আপনি চা, কফি বা নরমাল গরম পানি রেখে মাঝে মাঝে খেতে পারেন।
  • একটা মাফলার বা চাদর। যেটা আপনি হাটার সময় শরীর গরম রাখতে ব্যবহার করতে পারবেন।
  • এই সময় পানির সংকট থাকে তাই অবশ্যই সাথে পর্যাপ্ত পানি নেওয়ার ব্যবস্থা রাখবেন।
  • হাত ও পা মোজা নিতে পারেন। যেটা আপনার ওজনে কম হবে এবং শরীর কে  গরম রাখতে সাহায্য করবে।
  • শীতের সময় পাহাড়ে রাতে ঘুমানোর জন্য স্লিপিং ব্যাগ নিতে পারেন।

Frequently Ask Question

Q. কেমন হবে ব্যাগপ্যাক?

অবশ্যই একটা পারফেক্ট সাইজের হওয়া লাগবে।সহজে বহনযোগ্য এবং ওজনে হালকা। পিঠের সাথে লেগে থাকবে,কোমরে ও বুকে বেল্ট থাকবে। একাধিক ছোট বড় চেম্বার থাকবে। ২ সাইডে অবশ্যই পানির বোতল রাখার জায়গা থাকবে।সাইজ নির্ভর করবে আপনার কতদিনের ট্রিপ তার উপর। তবে সম্ভব হলে এমন রং এর ব্যাগ নিবেন যেটা পরিষ্কার করা সহজ ও ময়লা কম আটকায়।

Q. কোনগুলা ট্রেকিং স্যান্ডেল?

ট্রেকিং এর জন্য প্রথম আর প্রধান এই ট্রেকিং স্যান্ডেল।স্যান্ডেলের নিচে ভালো গ্রীপ থাকবে যেগুলা মাটি সহজে আকড়ে ধরবে যেনো আপনি পড়ে না যান। অবশ্যই বেল্ট ওয়ালা স্যান্ডেল হতে হবে।বাংলাদেশের প্রায় অধিকাংশ ট্রেকিং স্পটগুলা  তে অসংখ্য ঝিরিপথ, ঝর্ণা,খাল ও খুমের ( গর্ত)  দেখা মেলে। আপনি জুতা ব্যবহার করলে সেক্ষেত্রে আপনার জুতা ভিজে গেলে দ্রুত শুকিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। এজন্য এসব স্থানে ট্রেকিং স্যান্ডেল নেওয়াই বেস্ট অপশন।

Q. কি ধরনের পোষাক ট্রেকিং ট্রিপের জন্য ভালো?

পাতলা ও দ্রুত শুকিয়ে যায় এমন ধরনের টি শার্ট এবং প্যান্ট। সিনথেটিক কাপড়ের পোশাক নিতে পারেন৷ যেটা গরমের সময় আপনাকে ঠান্ডা রাখবে এবং ঠান্ডার সময় উষ্ণ। টু ইন ওয়ান প্যান্ট গুলা এই ধরনের ট্রিপের ক্ষেত্রে বেশ ভালো। মেয়েরা চাইলে হালকা ওজনের শাড়ি বা পছন্দের পোশাক নিতে পারেন। তবে শাড়ি পরে ট্রেক করা সম্ভব না। ছবি তোলার জন্য চাইলে পরে নিতে পারবেন। ট্রেক করার সময় অবশ্যই আপনাকে হালকা আর সর্ট পোশাক এর সাথে প্যান্ট বা টাউজার ব্যবহার করতে হবে।

Q. ট্রেকিং এর পূর্বে কেমন প্রস্তুতি প্রয়োজন?

যেহেতু ট্রেকিং ট্রিপে প্রচুর হাটাহাটি করা লাগে তাই পূর্বে থেকেই এই ধরনের ট্রিপের জন্য শরীর প্রস্তুত করে নেওয়া জরুরি। শরীর প্রস্তুত না করে গেলে আপনি ট্রিপে গিয়ে বিপদে পড়বেন।পুরোপুরি ট্রেকিং এর জন্য প্রস্তুত না হয়ে ট্রিপে না যাওয়াই ভালো।  আপনি সেক্ষেত্রে ট্রিপে যাওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগে থেকে প্রতিদিন আস্তে আস্তে একটানা ৩০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস করতে পারেন।তাহলে আপনার দম ও সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে ট্রেকিং করার সময় কষ্ট কম হবে।আপনার আশেপাশে যদি হাটাহাটি করার পরিস্থিতি না থাকে তাহলে সিড়ি দিয়ে একটানা ৩০ মিনিট  উঠা নামার অভ্যাস করুন। তবে হার্ট বা ফুসফুসে সমস্যা থাকলে অবশ্যই ট্রিপে যাওয়ার আগে ডাক্তার এর কাছ থেকে পরামর্শ নিবেন। যাদের উচ্চতায় সমস্যা আছে তারা পাহাড়ে ট্রেকিং ট্রিপ এড়িয়ে চলুন।

Q. কোন ধরনের খাবার ট্রেকিং ট্রিপে   খাবেন আর কোনগুলা এড়িয়ে চলবেন?

যারা নিয়মিত ঘুমের মেডিসিন নেন তারা এই ধরনের ট্রিপে এটি বন্ধ রাখবেন।কোনো ধরনের নেশা বা ড্রাগ জাতীয় পন্য সেবন থেকে বিরত থাকবেন। মদ্য পান করা থেকে বিরত থাকবেন। ট্রেক শুরু করার ঠিক আগ মুহুর্তে পেট ভরে অতিরিক্ত খাবার খাবেন না।ট্রেক চলাকালীন সময়ে এক বারে অনেক পানি বা খাবার খাবেন না। একটু পর পর ২/১ ঢোক করে পানি পান করবেন। কারন একবারে অনেক পানি  পান করলে শরীর দ্রুত ক্লান্ত হয়ে যাবে আপনি আর হাটতে পারবেন না। আর মাঝে মাঝে অল্প অল্প পানি বা খাবার খাইলে আপনার এনার্জি নষ্ট হবে না সাথে তৃষ্ণা ও পাবে না। স্যালাইন,ক্যাভিক সি, গ্লুকোজ ইত্যাদি পানীয় পান করতে পারেন।

Q. ট্রীপের মধ্যে কোন কাজগুলা করবেন না?

১. কারো ধর্মে আঘাত হানে এমন কোনো আচরন বা কাজ করবেন না।
২.বিনা অনুমতি তে কারো ব্যাগে হাত দিবেন না
৩.কোনো উপজাতি বা নৃগোষ্ঠীর কারো অনুমতি ছাড়া ছবি তুলবেন না।
৪.রাজনৈতিক কোনো তথ্য আদান প্রদান, প্রচার থেকে বিরত থাকবেন।
৫. অবশ্যই আশেপাশের পরিস্থিতি, আবহাওয়া, নিরাপত্তা না দেখে রাত যাপনের সিদ্ধান্ত নিবেন না।

শেষ কথাঃ

ব্যাগ গোছানোর সময় অবশ্যই খেয়াল রাখবেন যেনো অবশ্যই ব্যাগ একটা হয় এবং ওজন হালকা হয়। অপ্রয়োজনীয় কিছু নিয়ে ওজন বেশি করবেন না। শুধু মাত্র দরকারি জিনিসগুলা ই নিবেন। যেকোন স্থানে ভ্রমনের সময় প্লাস্টিক পলিথিন এদিক ওদিক ফেলবেন না। ওটা সংরক্ষণ করে রাখবেন।

সম্ভব হলে একটা পলিথিনে সব রেখে দিবেন অথবা পরিস্থিতি হলে পুড়িয়ে ফেলবেন।  আমাদের পর্যটন স্থান গুলা আমাদের সম্পদ। ওগুলা দুষিত করে নষ্ট না করাই আমাদের একমাত্র দায়িত্ব।
মোঃ আল আমিন

একজন প্যাশনেট ব্লগার ও কন্টেন্ট রাইটার। আমি অবসর সময়ে প্রযুক্তি বিষয়ে লেখালেখি করতে ভালোবাসি।

নবীনতর পূর্বতন