বাংলাদেশের দক্ষিণ অঞ্চলের একটি বড় শহর বরিশাল। ১৯৯৩ সাল থেকে বিভাগ হিসেবে এর পথ চলা শুরু। শস্য ভান্ডার হিসেবে পরিচিত বরিশাল ফসল উৎপাদনের জন্য সারা দেশে জনপ্রিয় হয়ে আছে।বরিশাল তার রুপ নিয়েও বেশ পরিচিত। ছোট বিভাগ হলেও এর সুন্দর পরিবেশ,ফল ও ঐতিহ্য আর্কষন করছে বিদেশি পর্যটকদের।
আজকের আর্টিকেলে আপনাদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেব বাংলার ভ্যানিস খ্যাত বরিশাল ও বরিশাল বিভাগের সকল দর্শনীয় স্থান ও তাদের অবস্থান সম্পর্কে।

বরিশাল বিভাগের জেলা ও উপজেলা সমূহঃ
৬ টি জেলা নিয়ে বরিশাল বিভাগ গঠিত। জেলাগুলা হলো বরগুনা, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, ভোলা,বরিশাল, পটুয়াখালী। এই বিভাগে ৪১ টি উপজেলা এবং ৩৫১ টি ইউনিয়ন রয়েছে। এই বিভাগ টি অন্য বিভাগ গুলার তুলনায় বেশ ছোট।
বরিশাল বিভাগের আয়তন ও জনসংখ্যাঃ
এই বিভাগের আয়তন ১৩,৬৪৪.৮৫ বর্গকিলোমিটার। বর্তমানে এই বিভাগের মহানগরীয় এলাকার জনসংখ্যা ৪ লাখের কাছাকাছি। এই বিভাগের বেশির ভাগ লোকজন ঢাকাগামী। তারা তাদের জীবিকার সন্ধানে রাজধানী শহরে পাড়ি জমায়।
বরিশাল বিভাগের নামকরনের ইতিহাসঃ
বরিশাল নামকরন নিয়ে অনেক গুলা কারন লোকমুখে জানা যায়। কোনটা পুরোপুরি সত্য তা যাচাই করে বলা সম্ভব নয়। তবে অনেকে ধারনা করে অনেক খাল বিলের এলাকা হওয়ায় যাতায়াতের সমস্যার জন্য লোকজন এই অঞ্চল সম্পর্কে একটি চলন কথা বের করেছিলো 'আইতে শাল, যাইতে শাল। তার নাম বরিশাল।
অনেকে ধারণা করে এই খানে পূর্বে অনেক বড় বড় শাল বৃক্ষ জন্মাতো। আর এই বড় শাল থেকে ই বরিশাল নামটি এসেছে। একজন কিংবদন্তির থেকে জানা যায় গিরদের বন্দরে ঢাকার নবাবদের বড় বড় লবনের গোলা ও চৌকি ছিলো। ইংরেজ ও বনিকরা এই বড় বড় দানার লবনগুলা কে বরিসল্ট বলতো। সেখান থেকে পরিবর্তন হয়ে বরিশাল এসেছে।
বরিশাল বিভাগের দর্শনীয় স্থান সমূহঃ
আমরা আজ বরিশাল বিভাগের ৬ জেলার দর্শনীয় স্থান গুলা সম্পর্কে জানবো। জেলাগুলো হলো ঝালকাঠি, বরগুনা, ভোলা, পিরোজপুর, বরিশাল, পটুয়াখালী।
ঝালকাঠি জেলার দর্শনীয় স্থানসমূহঃ
বরিশালের জেলা গুলার মধ্যে ঝালকাঠি বেশ জনপ্রিয় এলাকা। এখানে বিদেশী পর্যটকেরাও আসে ভাসমান পেয়ারা বাজার দেখতে। এই সকল স্থান গুলার জন্য ই বর্তমানে বাংলাদেশ বাইরের টুরিস্ট দের কাছেও বেশ পরিচিতি লাভ করছে। এছাড়াও ঝালকাঠির বিভিন্ন স্থান গুলার নাম হলো।
- নদীর মোহনা
- কীর্তি পাশা জমিদার বাড়ি
- সাতুরিয়া জমিদার বাড়ি
- সুজা বাদ কেল্লা
- ভাসমান পেয়ারা বাজার
- শেরে বাংলার নানা বাড়ি
- মিয়া বাড়ির মসজিদ
- সিটি পার্ক
- ঝালকাঠি সরকারি কলেজ
- শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ ও শহীদ মিনার
- গাবখান সেতু
- বেশনাই মল্লিক এর দিঘী
বরগুনা জেলার দর্শনীয় স্থানসমূহঃ
বরগুনা জেলা খাবারের জন্য বিখ্যাত হলেও এখানে রয়েছে বেশ কিছু দর্শনীয় স্থান। এখানে বেশ কিছু ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বাস ও রয়েছে। তারা বেশ কিছু গ্রাম নিয়ে বসবাস করে। সেই সকল স্থান গুলা ও ঘুরে দেখার জন্য বেশ ভালো জায়গা। এছাড়া বরগুনার দর্শনীয় কিছু স্থান দেওয়া হলো।
- বঙ্গবন্ধু নৌকা জাদুঘর
- শুভ সন্ধ্যা সমুদ্র সৈকত
- টেংরা গিরি ইকোপার্ক
- হরিণঘাটা পর্যটন কেন্দ্র
- লালদিয়া বন ও সমুদ্র সৈকত
- তালতলী রাখাইন গ্রাম
- তালতলী রাখাইন গ্রামের মসজিদ
- বরগুনা সরকারি কলেজ
- কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজ
- বিবি চিনি মসজিদ
ভোলা জেলার দর্শনীয় স্থানসমূহঃ
ভোলা জেলার তার নিজস্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বেশ জনপ্রিয়। তার এই সৌন্দর্য্যে জন্য ই সে কুইন আইল্যান্ড নামে পরিচিত। এছাড়াও ভোলা জেলার বেশ কিছু দর্শনীয় স্থান এর নাম দেওয়া হলো।
- চর কুকরি মুকরি
- তারুয়া সমুদ্র সৈকত
- শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্র
- ভোলা সরকারি কলেজ
- জ্যাকব টাওয়ার
- স্বাধীনতা জাদুঘর
- তুলাতুলি ইকোপার্ক
- শিশু পার্ক
- নিজাম হাসিনা মসজিদ
- বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল স্মৃতি জাদুঘর
- ভোলা টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট
- মনপুরা দ্বীপ
- ঢালচর
- উপকূলীয় সবুজ বেষ্টনী
পিরোজপুর জেলার দর্শনীয় স্থানসমূহঃ
পিরোজপুর জেলা সংস্কৃতি তে বেশ সমৃদ্ধ। সংস্কৃতি মনা এই অঞ্চলের মানুষ শিল্পী গোষ্ঠীর ঐতিহ্য তুলে ধরতে তৈরি করেছে বেশ কিছু থিয়েটার। যা পিরোজপুরের শিল্পী দের ঐতিহ্য শুধু বহন ই করে না।ইতিহাস ও তুলে ধরে পর্যটকদের কাছে। এছাড়াও পিরোজপুরের কিছু দর্শনীয় স্থান তুলে ধরা হলো।
- আজিম ফরাজী মাজার
- হরিণ পালা রিভার ভিউ ইকো পার্ক
- মঠবাড়িয়ার মমিন মসজিদ
- কবি আহসান হাবিবের বাড়ি
- পিরোজপুরের প্রাচীন মসজিদ
- বলেশ্বর ঘাট শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ
- সারেং কাঠি পিকনিক স্পট
- রায়ের কাঠি জমিদার বাড়ি
- ডিসি পার্ক
- হুলারহাট নদী বন্দর
- ভান্ডারিয়া শিশু পার্ক
- পাড়েরহাট জমিদার বাড়ি
- বেকুটিয়া সেতু
বরিশাল জেলার দর্শনীয় স্থানসমূহঃ
বরিশাল বিভাগের রাজধানী শহর ই হলো বরিশাল। বাংলা ভেনিস শহর এই বরিশালে রয়েছে ঘুরে দেখার মতো বেশ কিছু স্থান। বরিশাল জেলার শাপলা বিল যেনো নজর কাড়ে দেশী বিদেশি সব ধরনের পর্যটকের। এছাড়া বরিশাল গেলে যে সকল জায়গা ঘুরে দেখতে পারবেন সেগুলা হলো-
- শেরে বাংলা স্মৃতি জাদুঘর
- শংকর মঠ
- ভাসমান পেয়ারা বাজার
- লাকুটিয়া জমিদার বাড়ি
- ৩০ গোডাউন
- বিবির পুকুর
- শাপলা গ্রাম সাতলা
- অক্সফোর্ড মিশন
- গুটিয়া মসজিদ
- মিয়া বাড়ি জামে মসজিদ
- দুর্গা সাগর দিঘী
- প্ল্যানেট ওয়াটার পার্ক
- বেলস পার্ক
পটুয়াখালী জেলার দর্শনীয় স্থানসমূহঃ
নদী বিধৌত এই পটুয়াখালী জেলা যেনো সুন্দর গুলা সব নিয়ে তৈরি। চর,দিঘীর সমাহার এই জেলায়। পটুয়াখালী জেলায় শুধু ঘোরাঘুরি নয় খেতেও পারবেন টাটকা ইলিশ মাছ। পটুয়াখালী গেলে যে যে বিখ্যাত স্থান গুলা দেখতে পারবেন তা হলো-
- কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত
- লেবুর চর
- কানাই বলাই দিঘি
- ফাতরার চর
- সোনারচর
- ইলিশ পার্ক
- কুয়া
- পায়রা সমুদ্র বন্দর
- পানি জাদুঘর
- চর বিজয়
- পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
- কুয়াকাটা বৌদ্ধমন্দির
- মজিদ বাড়িয়া শাহী মসজিদ
এছাড়াও বরিশাল গেলে আপনারা যে সকল স্থান গুলা দেখে নিতে পারবেন--
কর্নকাঠি বরিশালের আব্দুর রব সেরনিয়াবাত সেতু, বারেকগন্জ উপজেলার কলসকাঠি জমিদার বাড়ি,কড়াপুর মিয়া বাড়ি মসজিদ,লাখেরাজ কসবার কসবা মসজিদ, বরিশাল নগরের বঙ্গবন্ধু উদ্যান, মাহিলাড়া মঠ ইত্যাদি।
Frequently Ask Question
Q. পটুয়াখালী জেলার দর্শনীয় স্থান সমূহ?
পটুয়াখালী জেলার অন্যতম দর্শনীয় স্থান হলো ফতেরারচর, কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত, চর বিজয়, কুয়াকাটা বৌদ্ধ মন্দির, মির্জাগঞ্জ, কানাই বলাই দিঘী, কাজলারচর, হযরত ইয়ার উদ্দিন খলিফার মাজার, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সোনারচর, কুয়াকাটা রাখাইনপল্লী, মজিদবাড়িয়া মসজিদ, সীমা বৌদ্ধ বিহার।
Q. বরিশাল জেলার দর্শনীয় স্থান সমূহ?
বরিশাল জেলার জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থান হলো বিবির পুকুর, ব্রজমোহন কলেজ, জীবনানন্দ দাশ এর বাড়ি, লাকুটিয়া জমিদার বাড়ি, দুর্গাসাগর দিঘী, গুঠিয়া মসজিদ, ভাসমান পেয়ারা বাজার, সাতলা শাপলা গ্রাম, অক্সফোর্ড মিশন গীর্জা, বঙ্গবন্ধু উদ্যান(বেলস পার্ক), বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, শ্বেতপদ্ম পুকুর ইত্যাদি।
Q. বরিশালের পার্ক সমূহ কি?
বরিশালের উল্লেখযোগ্য পার্ক সমূহ বঙ্গবন্ধু উদ্যান বেলস পার্ক, প্লানেট ওয়ার্ল্ড শিশু পার্ক, প্লানেট পার্ক, মুক্তিযোদ্ধা পার্ক ইত্যাদি।
Q. বরিশাল বিভাগের জেলা সমূহ?
৬ টি জেলা নিয়ে বরিশাল বিভাগ গঠিত। জেলাগুলা হলো বরগুনা, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, ভোলা,বরিশাল, পটুয়াখালী।
Q. একদিনে বরিশাল ভ্রমণ কিভাবে করবেন?
বরিশালে একদিনের ভ্রমনে গিয়ে এই স্থানগুলো অবশ্যই ভ্রমন করতে পারেন ৩০ গোডাউন, গুঠিয়া মসজিদ, প্লানেট পার্ক, দুর্গা সাগর দীঘি, ভাষমান পেয়ারা বাগান (সিজনাল)।
Q. বরিশালের দর্শনীয় মসজিদ?
বরিশালের অন্যতম দর্শনীয় মসজিদগুলো হলো গুঠিয়া মসজিদ, মিয়াবাড়ি মসজিদ ইত্যাদি
Q. কুয়াকাটার দর্শনীয় স্থান?
কুয়াকাটার মূল আকর্ষণ হলো কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত। এছাড়া কুয়াকাটার অন্যতম দর্শনীয় স্থানঃ কুয়াকাটার কুয়া, শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধ বিহার, চুনদ্রী দেবী, শাক্য রাজা ও ছিওয়ালি আর্হাং, নৌকা জাদুঘর, কেরানি পাড়া, কুয়াকাটা জাতীয় উদ্যান (ইকোপার্ক), গঙ্গামতির চর, আব্দুল আলী গাড়ুলির স্মৃতি বিজড়িত স্থান, মিশ্রিপাড়া সীমা বৌদ্ধ বিহার, গোড়া আমখোলাপাড়া রাখাইন পল্লী, আলীপুর ও মহিপুর মৎস্য বন্দর, নয়পাড়া বৌদ্ধবিহার, ইলিশ পার্ক এন্ড রিসোর্ট, শুটকি পল্লী, স্বপ্নরাজ্য পার্ক ও রিসোর্ট, লেম্বুর বন, ফাতরার বন, লাল কাঁকড়ার চর, পানি জাদুঘর, সোনার চর।
শেষ কথা
বাংলার ভেনিস শহর এই বরিশাল। নদীর পাশ ঘেষে চলা এই বিভাগ যেনো তার সৌন্দর্য প্রকাশে সবসময় প্রস্তুত। আমাদের উচিত বরিশালের এই সুন্দর প্রকৃতির জন্য ক্ষতিকর হবে এমন আচরন /কাজ না করা। দেশের পর্যটন স্পট গুলা দেশের সম্পদের মতো ই দেখাশোনা করা আমাদের দায়িত্ব।